kalerkantho

মঙ্গলবার । ২১ জানুয়ারি ২০২০। ৭ মাঘ ১৪২৬। ২৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

সেখানে বিনা পয়সায় পড়ায় পুলিশ, অপরাধও কমছে

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৮ মে, ২০১৯ ১৭:২২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সেখানে বিনা পয়সায় পড়ায় পুলিশ, অপরাধও কমছে

মাত্র পাঁচ মাসেই ভারতের পশ্চিমবঙ্গের গোঘাটের পশ্চিম মেদিনীপুরের সীমান্তবর্তী অন্তত ২০টি গ্রামের সার্বিক পরিস্থিতি বদলে দিয়েছেন বদনগঞ্জ বিট অফিসের (ফাঁড়ি) সাব-ইনস্পেক্টর বাপি হালদার। 

প্রশিক্ষণ কেন্দ্র তৈরি করে তিনি বিভিন্ন চাকরির প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য গ্রামবাসীদের তৈরি হওয়ার ব্যবস্থা করেছেন। দুঃস্থ পরিবারের চতুর্থ থেকে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পড়াচ্ছেন। গ্রামবাসীর সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক তৈরি করেছেন। কোথাও কোনো ধরনের অশান্তি চরম আকার নেওয়ার আগেই খবর পেয়ে পৌঁছে যাচ্ছে পুলিশ।

গ্রামবাসীরা মানছেন ‘ছোটবাবু’র (সাব-ইন্সপেক্টরকে ওই নামেই ডাকা হয়) অবদান। অনুপনগর গ্রামের রিজাউল মোল্লা জানান, আমাদের পথ দেখালেন ছোটবাবু। আগে পুলিশকে খালি তাড়া করতে আর রাস্তায় লরি থেকে টাকা আদায় করতে দেখেছি। এখন ছোটবাবু আমাদের বিভিন্ন পরীক্ষায় বসাতে কোচিংয়ের ব্যবস্থা করেছেন।

একই গ্রামেরই মুহাম্মদ আমিন মল্লিক ওই প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে উপকৃত হয়ে পুলিশে চাকরির প্রাথমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। রামানন্দপুর গ্রামের বৃদ্ধ সামসুল হক জানান, গ্রামের ছেলেমেয়েগুলোকে মানুষ করতে ছোটবাবুর দরদ দেখার মতো। আগের মতো গ্রামে কিংবা পারিবারিক জমি নিয়ে মারপিট করতেও মন সায় দেয় না। কোথাও কোনো অপরাধের শঙ্কা দেখলে আমরাই তাকে আগাম খবর দিই। তিনি বা তার লোক পৌঁছে গিয়ে সমস্যা মেটানোর চেষ্টা করেন।

পুলিশের খাতায়, পশ্চিম মেদিনীপুরের সীমান্তবর্তী গোঘাটের বহড়াশোল, সুন্দরপুর, বাবুরামপুর, অনুপনগর, বদনগঞ্জ, কয়াপট, শ্যামবাজার, তিলাড়ির মতো অন্তত ২০টি গ্রাম ‘অপরাধপ্রবণ’ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত। 

পুলিশের হিসেব বলছে, গত বছর নভেম্বর পর্যন্ত ওই সব এলাকা থেকে মাসে গড়ে চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি, লুটপাটের ৬-৭টি মামলা হতো। সাধারণ ডায়েরি হতো অন্তত ২০টি। ডিসেম্বরের ১ তারিখে মগরা থানা থেকে গোঘাটের বদনগঞ্জ বিট হাউসে যোগ দেন বাপি। তারপরেই পুলিশের খাতার হিসেব পাল্টায়। এ পর্যন্ত গত পাঁচ মাসে ওই সব এলাকা থেকে প্রতি মাসে মামলা হয়েছে গড়ে দু'টি, ডায়েরি ২-৩টি!

'অপরাধ ঠেকানোর পরিকল্পনা তৈরি করতে এলাকা পরিদর্শনে বেরিয়ে দেখি, গ্রামবাসীরা আলাপ করতে ভয় পাচ্ছে। তার মধ্যেই দুই যুবক জানায়, তাদের পুলিশে চাকরি করার ইচ্ছা। কিন্তু কীভাবে প্রস্তুতি নেবে, বুঝতে পারছে না। ওই কথাতেই আমি রাস্তা পেলাম। আমার পুরনো পেশা জেগে উঠল', বলছেন গ্রামবাসীদের ‘ছোটবাবু’।

২০১৪ সালে এসআই-এর চাকরি পান বাসন্তীর সোনাখালির বাসিন্দা ৩৪ বছর বয়সী বাপি। তার আগে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে দীর্ঘদিন পড়িয়েছেন তিনি। তার কথায়, ওখানে পড়ানোর সূত্রে দু’পাতার অঙ্ক কী করে নির্ধারিত ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে করতে হয়, সেই কৌশল শিখেছিলাম। সেই কৌশলই এখানে শেখাচ্ছি।

তিলাড়ি গ্রামের দুই বেকার যুবককে নিয়ে সেখানকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু করেন বাপি। দিন চারেক ক্লাসের পরই ছাত্রসংখ্যা বাড়তে শুরু করে। তাদের মধ্যে পশ্চিম মেদিনীপুর এবং বাঁকুড়ার বাসিন্দারাও রয়েছেন। শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়ায় এখন অবশ্য ক্লাস হয় সুন্দরপুর বিট হাউস এবং বদনগঞ্জ বিট হাউসে। সপ্তাহে তিন দিন। দেড় ঘণ্টা করে। তার উদ্যোগে শামিল হয়েছেন বদনগঞ্জ হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক নির্মলেন্দু সিংহ এবং আরামবাগ বন দপ্তরের বিট অফিসার শুভঙ্কর সিকদার। বাপি শুধু বৃহস্পতিবার ক্লাস নেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা