kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২০ জুন ২০১৯। ৬ আষাঢ় ১৪২৬। ১৬ শাওয়াল ১৪৪০

এযাবৎকালের সবচেয়ে বড় প্রাণীর খোঁজ দিলেন বিজ্ঞানীরা

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৮ মে, ২০১৯ ১৫:৩৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



এযাবৎকালের সবচেয়ে বড় প্রাণীর খোঁজ দিলেন বিজ্ঞানীরা

ইতালির সান গিউলিয়ানা লেকের পাশ থেকে বিশালাকার একটি নীল তিমির জীবাশ্ম উদ্ধার করেছেন বিজ্ঞানীরা। এই প্রাণীর দৈর্ঘ্যে ছিলো ৮৫ ফুট। ওজন ছিল ১৩০ থেকে ১৫০ টন। অর্থাৎ এক লাখ ১৭ হাজার কিলোগ্রাম থেকে এক লাখ ৩৬ হাজার কিলোগ্রাম ওজন।

জীবাশ্মের কঙ্কাল পরীক্ষা নিরীক্ষার পর এমন তথ্যই জানালেন বিজ্ঞানীরা।

একটি আফ্রিকান হাতির ওজন ৬ হাজার ৩৫০ কিলোগ্রামের মতো এবং এশিয়ান হাতির ওজন ৫ হাজার ৪০০ কিলোগ্রামের মতো। অর্থাৎ যে নীল তিমির জীবাশ্ম উদ্ধার হয়েছে সেটা ২১টি আফ্রিকান হাতি এবং ২৫টি এশিয়ান হাতির সমান! 

আর দৈর্ঘ্যে? তিনটি লরির সমান প্রায়। এখনও পর্যন্ত যতগুলো জীবাশ্মের সন্ধান মিলেছে তার মধ্যে এটাই সবচেয়ে বড় বলে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন। এমনকি বর্তমানে যে সমস্ত নীল তিমি দেখা যায়, তারাও এর কাছে ‘শিশু’।

কয়েক বছর আগে ইতালির ওই লেকের কাছে চাষাবাদের জন্য মাটি খোঁড়ার সময় প্রথমে বড় একটি মেরুদণ্ডের হাড় চোখে পড়ে এক কৃষকের। তারপর ইতালির বিজ্ঞানী জিওভানি বিয়ানুসি তাঁর দলের সদস্যদের নিয়ে ওই জায়গায় হাজির হন।

তিমিটা এতটাই বড় যে তার সম্পূর্ণ কঙ্কাল খুঁড়ে বার করতে প্রত্নতত্ত্ববিদদের ২ বছর সময় লেগে গিয়েছে। পাশের লেকের জলের লেভেলও কমিয়ে আনতে হয়েছিলো। তা না হলে তিমির কঙ্কাল খুঁড়ে বার করা সম্ভব হতো না।

বিশালাকার এই নীল তিমির হাড় পরীক্ষা করে জানা গিয়েছে, এটা প্রায় ১০ লক্ষ ৫০ হাজার বছরের পুরনো। আর এখানেই বিজ্ঞানীদের মনে বিস্ময় জেগেছে। এত বছর আগেও সমুদ্রে এরকম একটা বিশালাকার প্রাণী ঘুরে বেড়াতো!

বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, এর মানে ১০ লক্ষ ৫০ হাজার বছরের আরো অনেক আগে নীল তিমির আবির্ভাব হয়েছিলো। কারণ হিসাবে তাঁরা বলছেন, কোনো প্রাণীর আকার রাতারাতি এতটা বিশাল হওয়া সম্ভব নয়।

বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, ‘আইস এজ’ এর কারণে নীল তিমির জীবাশ্ম এই জায়গায় পাওয়া যায়। আজ থেকে প্রায় ২০ লক্ষ ৬০ হাজার বছর পিছিয়ে গেলে এই আইস এজের শুরু। চলছে আজ থেকে ১১ হাজার ৭০০ বছর আগে পর্যন্ত।

এই সময় বেশির ভাগ জলরাশি বরফে পরিণত হয়ে গিয়েছিল। ফলে সমুদ্রের জলস্তর কমে যায়। সে সময় যে তিমিগুলো মারা গিয়েছিলো, বিজ্ঞানীদের অনুমান। আর তারই একটার জীবাশ্ম উদ্ধার হলো ইতালির লেকের পাশে মাটির তলা থেকে।

সূত্র: ন্যাশনাল জিওগ্রাফি

মন্তব্য