kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২০ জুন ২০১৯। ৬ আষাঢ় ১৪২৬। ১৬ শাওয়াল ১৪৪০

মুসলিম স্থাপত্যের অনন্য নিদর্শন সুলতান নসরৎ শাহ'র মসজিদ

সনাতন দাশ, তাড়াশ-রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ)    

১৭ মে, ২০১৯ ১৭:৫৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মুসলিম স্থাপত্যের অনন্য নিদর্শন সুলতান নসরৎ শাহ'র মসজিদ

সুলতান আলা উদ্দিন হুসেন শাহর ছেলে সুলতান নাসির উদ্দিন নসরৎ শাহের আমলে নির্মিত নওগাঁ শাহী মসজিদ মুসলিম স্থাপত্যের অনন্য নিদর্শন।

সিরাজগঞ্জ জেলা শহর থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে তাড়াশ উপজেলার নওগাঁ বাজারের পূর্বপাশে এ ঐতিহাসিক শাহী মসজিদ ও হযরত শাহ শরীফ জিন্দানী (র.) মাজার শরীফ অবস্থিত।

রাধারমণ সাহার 'পাবনা জেলার ইতিহাস' থেকে জানা যায়, ৯৩২ হিজরির রজব মাসের ৪ তারিখে (২১ এপ্রিল, ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দ) মসজিদটি নির্মিত হয়। রাজশাহীর বরেন্দ্র জাদুঘরে রক্ষিত রয়েছে  মসজিদটির একটি শিলালিপি যার বাংলা অনুবাদ হলো, 'পয়গম্বর (দ.) বলেন, যিনি পৃথিবীতে একটি মসজিদ নির্মাণ করেন আল্লাহ পাক তাঁর জন্য বেহেস্তে সত্তরটি বালাখানা বানাবেন। এই মসজিদ সুলতান হোসেন শাহের ছেলে সুলতানজাদা সুলতান নাসিরুদ-দুনিয়া-ওয়াদীন আবুল মোজাফফর নসরৎ শাহ সুলতানের রাজত্বকালে নির্মিত। আল্লাহ তাঁর রাজত্ব স্থায়ী করুন এবং তাঁর ক্ষমতা, প্রতিপত্তি ও সম্মান বৃ্দ্ধি করুন।'

মসজিদটি এক গম্বুজ বিশিষ্ট। এর চার কোণে চারটি ছোট ছোট গম্বুজ রয়েছে। প্রধান গম্বুজটির উচ্চতা ২৬ ফুট। মসজিদের বাইরের দৈর্ঘ্য ৫০ ফুট, প্রস্থ সাড়ে ৩৩ ফুট, উচ্চতা সাড়ে ২২ ফুট, বারান্দার দৈর্ঘ্য সাড়ে ২৩ ফুট, প্রস্থ ১১ ফুট। বারান্দায় দুটি কালো পাথর নির্মিত স্তম্ভের প্রত্যেকটির ব্যাস ছয় ফুট।

চুন-সুড়কিতে প্রাচীনকালের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ইটে মসজিদটি নির্মিত। দেয়াল ৯ ফুট পুরু। ভেতরে রয়েছে মূল প্রার্থনা কক্ষ এবং ভেতর-বাইরে রয়েছে একটি মেহরাব। পাশেই সুউচ্চ মিনার।

মসজিদ প্রাঙ্গণে হযরত শাহ  আব্দুল আলী বাকী শাহ শরীফ জিন্দানী (রহ.) এর মাজার শরীফ অবস্থিত। মাজারটির দৈর্ঘ্য ৯ ফুট ৪ ইঞ্চি, প্রস্থ ৬ ফুট ও উচ্চতা ৬ ফুট ৩ ইঞ্চি।

জানা যায়, বাগদাদের জিন্দান শহরের হযরত শাহ শরীফ জিন্দানী (রহ.) ষোড়শ শতাব্দীতে বাংলাদেশে ইসলাম প্রচারে আগমনকারী দরবেশদের অন্যতম। তাঁর সঙ্গে শাহ শরিফ খান্দানি, শাহ কালু ও শাহ আফজাল বোখারি প্রমুখ কয়েকজন পশ্চিমদেশীয় সাধক নওগাঁয় বসতি স্থাপন করেন। কিছুকাল পর  শাহ কালু ও শাহ আফজাল বোখারী শাহজাদপুরের তিন মাইল উত্তরে নরিনা গ্রামে বসতি স্থাপন করে ইসলাম প্রচারে আত্মনিয়োগ করেন। দিল্লীর সম্রাট তাঁদের নামে শাহজাদপুর ও নওগাঁয় ১৯০ বিঘা সম্পত্তি ওয়াকফ করে দেন।

নওগাঁয় হযরত শাহ শরীফ জিন্দানী (রহ.) ইন্তেকাল করলে তাঁকে এই মসজিদ প্রাঙ্গণেই সমাধিস্থ করা হয়। এই মহান সাধকের সমাধিস্থলে প্রতিবছর চৈত্র মাসের প্রথম শুক্রবার ওরস মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এ উপলক্ষে লাখ লাখ ভক্ত আশেকানদের আগমনে মাজার প্রাঙ্গণ মুখরিত হয়ে ওঠে। এ ছাড়া সারা বছরই দেশি বিদেশি হাজার পর্যটক সুলতানি আমলের এই  প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন দেখতে নওগাঁয় আসেন।

মন্তব্য