kalerkantho

রবিবার । ২৬ মে ২০১৯। ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ২০ রমজান ১৪৪০

এই তরুণীদের ধর্ষণ ও হত্যার রহস্য সঙ্গে নিয়ে কবরে যাচ্ছে সিরিয়াল কিলার ইভান

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৬ মে, ২০১৯ ১৯:১৫ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



এই তরুণীদের ধর্ষণ ও হত্যার রহস্য সঙ্গে নিয়ে কবরে যাচ্ছে সিরিয়াল কিলার ইভান

ইভান মিলাত। অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে কুখ্যাত সিরিয়াল কিলার। গলার ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছেন তিনি। গলা থেকে ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়েছে পাকস্থলিতে। এগিয়ে যাচ্ছেন ক্রমাগত মৃত্যুর দিকে।

৭৪ বছর বয়সী এই ধারাবাহিক খুনি এখন হাসপাতালে। হাত-পা শেকল বাঁধা। মৃত্যুর প্রহর গুণছেন সেখানে। পুলিশ তার কাছে জানার চেষ্টা করছে কতজন মানুষকে নির্মমভাবে হত্যা করেছেন তিনি।

১৯৮৯ থেকে ১৯৯২ সালের মধ্যে সাউথ সিডনির বেলাঙলো স্টেট ফরেস্টে সাত ভ্রমণকারীকে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত করা হয় এই কিলারকে। এরপর থেকে তদন্তে বেরিয়ে আসতে থাকে অসংখ্য খুনের পেছনের কাহিনি।

শিকারদের অধিকাংশকেই গুলি করে অথবা ছুরিকাঘাতে হত্যা করতেন মিলাত। লাশগুলো চাপা দিতেন অগভীর কবরে। আশপাশে থাকতো বিয়ারের খালি বোতল।

পুলিশের হাতে ধরা পড়ার আগে গত এক দশকে একের পর এক হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন মিলাত। পুলিশের ধারণা, যে কয়টি হত্যার কথা স্বীকার করেছেন মিলাত, ঘটেছে তার চেয়ে অনেক বেশি।

মিলাতের ছোট ভাই রিচার্ডের দাবি, তার বড় ভাইয়ের  হাতে লাশ হয়েছে অনেক বেশি।

এখানে, মিলাতের হাতে কয়েকটি হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে তুলে ধরা হলো : 

কারেন রোল্যান্ড: ফেব্রুয়ারি ১৯৭১
অস্ট্রেলিয়ার ক্যানবেরার মেয়ে কারেন রোল্যান্ড। ২০ বছর বয়সী এই তরুণী হারিয়ে যান ২৬ ফ্রেব্রুয়ারি, ১৯৭১। রয়্যাল ক্যানবেরা শো'র রাতে হারিয়ে যান তিনি।

হারিয়ে যাওয়ার তিন মাস পর ১৩ মে লাশ পাওয়া যায় কারেনের। এর আগে তার সাদা গাড়িটি পাওয়া যায় একটি সড়কের পাশে। বেলাঙলো ফরেস্টের একটি অগভীর কবর থেকে লাশ উদ্ধার করা হয় তাঁর। পাশে ছিল একটি বিয়ারের খালি বোতল।

সিরিয়াল কিলার ইভান মিলাতের সহকর্মীদের কাছে পুলিশ জানতে পারে, হারিয়ে যাওয়ার পরের দিনই মিলাত তাঁকে হত্যা করে।

রবিন হোয়েনভিল-বার্তরাম এবং অনিতা কানিংহাম: জুলাই ১৯৭২ 
১৯৭২ সালের ৪ জুলাই। অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন ছাড়েন দুই তরুণী রবিন হোয়েনভিল-বার্তরাম ও অনিতা কানিংহাম। নার্সের শিক্ষার্থী ছিলেন তাঁরা। ছুটি কাটাতে তাঁরা যাচ্ছিলেন উত্তর কুইন্সল্যান্ডের বোয়েনে। সেখানে গন্তব্য ছিল রবিনের মা।

১৮ বছর বয়সী এই দুই তরুণী ওইদিনই নিখোঁজ হন। নভেম্বরে রবিনের লাশ মেলে একটি সড়কের ব্রিজের নিচে। তাঁকে কোমর থেকে উলঙ্গ অবস্থায় পাওয়া যায়। শরীরে ছিল ধর্ষণের আলামত। .২২ ক্যালিবার রাইফেল দিয়ে মাথায় দুইবার গুলি করা হয়েছিল।

আর অনিতার খোঁজ এখনো মেলেনি। পুলিশের ধারণা, তাঁকেও হত্যা করেছেন মিলাত।

গ্যাব্রিয়েল জানহেক এবং মিশেল রিলি: অক্টোবর ১৯৭৩ 
দুই বন্ধু গ্যাব্রিয়েল জানহেক (১৮) এবং মিশেল রিলি (১৬)। ১৯৭৩ সালের ৫ অক্টোবর ব্রিসবেন ত্যাগ করেন। ছুটি কাটাতে অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড স্টেটের গোল্ড কোস্টে যাচ্ছিলেন তাঁরা।

১৩ অক্টোবর মহাসড়কের পাশে বাঁধের নিচে পাওয়া যায় গ্যাব্রিয়েলের মৃতদেহ। আর ২৩ অক্টোবর দূরের একটি গ্রামের সড়কের পাশে মেলে মিশেলের মৃতদেহ। তাদের দুজনকেই ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছিল।

স্টিফেন ল্যাপথোর্ন এবং মিশেল পোপ : আগস্ট ১৯৭৮ 
স্টিফেন ল্যাপথোর্ন (২০) এবং মিশেল পোপ (১৮) দম্পতিকে সর্বশেষ দেখা যায় ১৯৭৮ সালে ২৫ আগস্ট। সিডনির ওয়েস্ট পিম্বলের বাড়ি থেকে একটি সবুজ বেডফোর্ড গাড়িতে করে বের হন তাঁরা। এরপর আর পাওয়া যায়নি তাঁদেরকে। এমনকি সন্ধান মেলেনি তাঁদের গাড়িটিরও। তবে তদন্তে জানা যায় তাঁদেরকে হত্যা করা হয়। কু-রিং-গাই চেইস ন্যাশনাল পার্কে মাটিচাপা দেওয়া হয় তাঁদেরকে। আর হত্যাকারী হিসেবে নাম আসে ইভান মিলাতের।

একইভাবে হত্যা করা হয় লিনি গুডল (২০), রবিন হিকি (১৮), আমান্দা রবিনসন (১৪), ডিবোরা বলকিন (২০), গিলিয়ান জেমিসন (২০) এবং অনেককেই। হত্যার শিকাররা অধিকাংশই তরুণী। তাঁদেরকে ধর্ষণের পর হত্যা করতেন বিকৃত রুচির এই ধারাবাহিক খুনি। 

সূত্র : ডেইলি মেইল 

মন্তব্য