kalerkantho

শুক্রবার  । ১৮ অক্টোবর ২০১৯। ২ কাতির্ক ১৪২৬। ১৮ সফর ১৪৪১              

২৬ মে থেকে বাংলাবান্ধা সীমান্ত দিয়ে সরাসরি ঢাকা-শিলিগুড়ি বাস সার্ভিস চালু

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৬ মে, ২০১৯ ১৩:১৫ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



২৬ মে থেকে বাংলাবান্ধা সীমান্ত দিয়ে সরাসরি ঢাকা-শিলিগুড়ি বাস সার্ভিস চালু

ঢাকা-শিলিগুড়ি বাস সার্ভিস

বাংলাবান্ধা সীমান্ত দিয়ে ঢাকা থেকে শিলিগুড়ি বাস সার্ভিস চালু হতে যাচ্ছে। চলতি মাসের ২৬ তারিখ এই সার্ভিস চালু হবে বলে জানা গেছে। ভারতের জলপাইগুড়ি জেলার ফুলবাড়ি সীমান্ত দিয়ে ওই বাস বাংলাদেশে প্রবেশ করবে। 

১৫ বছর ধরে ভারতের চ্যাংরাবান্ধা সীমান্ত হয়ে ঢাকা-শিলিগুড়ি বাস সার্ভিস চালু রয়েছে। একই বেসরকারি পরিবহণ সংস্থার উদ্যোগেই এবার বাস চলবে ভারতের জলপাইগুড়ি জেলার ফুলবাড়ি দিয়ে। 

ওই সংস্থাটির ম্যানেজিং ডিরেক্টর শুভঙ্কর ঘোষ রাকেশ বলেন, ফুলবাড়ি হয়ে বাস চালানোর ট্রানজিট পারমিট পেয়েছি। ২৬ মে থেকে সার্ভিস  চালু হবে। 'ট্রানজিট সার্ভিস' হলো ঢাকা বা শিলিগুড়িতে যে বাসে চড়ে যাত্রীরা সীমান্তে পৌঁছাবেন, সেখান থেকে সীমান্ত পেরিয়ে আবার তাদের শিলিগুড়ি বা ঢাকার বাসে চড়ে গন্তব্যে পৌঁছতে হবে। একই বাসে চেপে সরাসরি সীমান্ত পেরোনোর অনুমতি নাথাকায় এই ব্যবস্থা। 

সম্প্রতি সিকিম রাজ্যে বাংলাদেশের নাগরিকদের বেড়াতে যাওয়ার ছাড়পত্র দিয়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। এটাই ফুলবাড়ি সীমান্ত দিয়ে বাস চালানোর অনুমতি দেওয়ার অন্যতম কারণ। এতদিন এই অনুমতি ছিল না। চলতি বছরের এপ্রিলে বাংলাদেশের নাগরিকদের সিকিমে বেড়ানোর অনুমতি দেওয়ার পরেই পর্যটকদের ভিড় উপচে পড়েছে সিকিম এবং দার্জিলিংয়ে। 

ভারতের চ্যাংরাবান্ধা দিয়ে যে বাসটি যাতায়াত করে তাতে ৩১ জন যাত্রীর বসার জায়গা রয়েছে। সময় লাগে প্রায় ৮ ঘণ্টা। ফুলবাড়ি হয়ে যে বাসটি চলবে, তাতে ঠাঁই হবে ২৮ জন যাত্রীর। চ্যাংরাবান্ধার মতো এখানেও ঢাকা যেতে সময় লাগবে ৮ ঘণ্টা। বাসটি শিলিগুড়ি থেকে ছেড়ে ফুলবাড়ি সীমান্ত চৌকি, তেঁতুলিয়া, পঞ্চগড়, রংপুর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল হয়ে ঢাকায় পৌঁছাবে। ভাড়া পড়বে ভারতীয় মুদ্রায় ১৪০০ টাকা। 

এখন কয়েকশ' যাত্রী প্রতিদিন নিজেদের মতো করে ভারতের ফুলবাড়ি লাগোয়া বাংলাদেশ সীমান্ত বাংলাবান্ধায় চলে আসেন। পরে হেঁটে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে ঢোকেন তারা। সেই ভিড় সামাল দিতেই এবার ফুলবাড়ি হয়ে বাস সার্ভিস চালুর পরিকল্পনা। 

পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের পর্যটন মন্ত্রী গৌতম দেব ফুলবাড়ি হয়ে বাস চালানোর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। 

তিনি বলেন, কেবল পর্যটকেরাই নন, বহু ছাত্রছাত্রী দার্জিলিংয়ে পড়াশোনা করে। চিকিৎসার প্রয়োজনেও বহু লোক ভারতে আসছেন। ফলে ফুলবাড়ি দিয়ে বাস চালানোর অনুমতি মেলায় হয়রানি কিছুটা কমবে।

মন্ত্রী জানান, শুধু বাস নয়, যাত্রী ভিড় সামাল দিতে বাগডোগরা থেকে ঢাকায় প্লেন সার্ভিসও চালু করতে চায় পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় বিমান পরিবহণ মন্ত্রণালয়ের কাছে এই ব্যাপারে আবেদন জানিয়েছেন। 

তিনি বলেন, প্লেন সার্ভিসও  চালু হলে উত্তরবঙ্গের পর্যটন আরও লাভবান হতো। তবে আপাতত বাস সার্ভিস চালু হওয়াতেও ভালো হবে।

এদিকে, বেসরকারি পরিবহণ সংস্থাটির পরিকল্পনা, ফুলবাড়ি হয়ে বাস চালু হলে এরপরে ঢাকা থেকে সরাসরি গ্যাংটক কিংবা দার্জিলিং পর্যন্ত বাস চালানো শুরু করবে তারা। 

সংস্থার এমডি বলেন, চ্যাংরাবান্ধা হয়ে বাস সার্ভিস চালুর পরে ভুটান এবং নেপালগামী পর্যটকের ভিড় বেড়েছে। এ বছর সিকিমে বাংলাদেশি নাগরিকদের ঢোকার অনুমতি মেলায় পর্যটকদের স্রোত চলছে সিকিম এবং দার্জিলিংয়ে। এ কারণেই জুন-জুলাই নাগাদ ঢাকা থেকে সরাসরি গ্যাংটক অথবা দার্জিলিংয়ে বাস সার্ভিসের কথা ভাবা হয়েছে।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তরবঙ্গের ফেডারেশন অফ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির (ফোসিন) সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিত দাস বলেন, 'গত কয়েক বছর ধরে ফোসিন রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে বাংলাদেশের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর জন্য আবেদন জানিয়ে এসেছি। ফুলবাড়ি থেকে বাস চালু হচ্ছে ভালো খবর, কিন্তু আমরা হলদিবাড়ি থেকে বাংলাদেশ হয়ে পুরোনো রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল করার পক্ষে। এতে দু'দেশের সম্পর্কের আরও উন্নতি ঘটবে।
 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা