kalerkantho

সোমবার । ২১ অক্টোবর ২০১৯। ৫ কাতির্ক ১৪২৬। ২১ সফর ১৪৪১                       

সমকাম, তীরবিদ্ধ তিন লাশ ও মধ্যযুগীয় অস্ত্র বেসাতির গোলকধাঁধা

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৫ মে, ২০১৯ ১৯:৩৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সমকাম, তীরবিদ্ধ তিন লাশ ও মধ্যযুগীয় অস্ত্র বেসাতির গোলকধাঁধা

গত সপ্তায় জার্মানিতে তিন তীরবেঁধা লাশ উদ্ধার করা হয়। তাদের দুইজন নারী এবং একজন পুরুষ। ঘটনাটি সেদেশে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। পুলিশ তদন্ত শুরু করে।

পুলিশের তদন্তে উঠে আসে চমকপ্রদ সব তথ্য। যদিও সবই রহস্যে ঘেরা।

এসব তথ্য অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডের কেন্দ্রে টর্সটেন উইচ (৫৩) নামের এক ব্যক্তি রয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে। তাকে বর্ণনা করা হয়েছে 'আধিপত্যবাদী দাম্ভিক' ব্যক্তি হিসেবে। নারীদের তিনি ক্রীতদাস হিসেবে বিবেচনা করতেন। দুই নারীর সঙ্গে তাকেও তীরবিদ্ধ শরীরে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।

জার্মানির ব্যাভেরিয়া স্টেটের পসে শহরে অবস্থিত একটি অ্যাপার্টমেন্ট থেকে গত রবিবার উদ্ধার করা হয় টর্সটেনের মৃতদেহ। তার সঙ্গে যে দুই নারীর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়, তাদের নাম কার্স্টিন এন্ডার্স (৩৩) এবং ফারিনা কাসপারি (৩০)।

একই সময় ঘটনাস্থল থেকে ৪০০ মাইল দূরের একটি এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয় গার্ট্রুড সি (৩৫) ও কারিনা ইউ (৩৫) নামের দুই নারীর লাশ। ধারণা করা হচ্ছে টর্সটেন তার পরিচিত মেয়েদের কৌশলে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন করে তার কাছে রাখতেন এবং তাদের ওপর প্রভুত্ব কায়েমের চেষ্টা করতেন।

মৃত্যুর আগে বেশ কিছুদিন ধরে কার্স্টিন এন্ডার্সকে নিয়ে জার্মানির রাইন নদীর তীরে অবস্থিত ওয়েস্টারওয়ার্ড নামের একটি গ্রামে বসবাস করছিলেন টর্সটেন। সেখানে দুইজন মিলে একটি দোকান পরিচালনা করতেন।

ওই দোকানে পাওয়া যেত মধ্যযুগীয় অস্ত্র। এসব অস্ত্রের মধ্যে ছিল তীর-ধনুক, কুড়াল, তলোয়ার, ছুরি ইত্যাদি। এ ছাড়া  যিশু খ্রিস্টের অনুগত সেনা পতাকাও পাওয়া যেত  দোকানটি। দোকানে ঢোকার পথে কাউন্টারে থাকতো একটি রক্তাক্ত নারীমূর্তি। 

কার্স্টিনের সঙ্গে টর্সটেনের কীভাবে পরিচয় হয়- সে বিষয়ে বিস্তারিত জানা যায়নি। কিন্তু ঘটনার শিকার অন্য দুই সমকামী প্রেমিকা ফরিনা এবং গারট্রুডের সঙ্গে যে তার সম্পর্ক ছিল- এটি স্পষ্ট।

জার্মান সংবাদ মাধ্যম বিল্ড'র মতে, একটি মার্শাল আর্ট স্কুলে টর্সটেনের সঙ্গে পরিচয় হয় ওই তিন নারীর। এর পরপরই পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন তারা।

বিল্ড জানায়, ধারণা করা হচ্ছে টর্সটেনের সঙ্গে থাকতেন কার্স্টিন এবং ফারিনা। আর লোয়ার স্যাক্সোনির ওয়াইজিতে একটি ফার্মহাউসে ভাড়া থাকতেন গার্ট্রুড ও কারিনা। তারা দুজন ছিলেন সমকামী জুটি।

সংবাদ মাধ্যমটির মতে টর্সটেন, কার্স্টিন এবং ফারিনাকে যে বাড়িতে মৃত পাওয়া যায় তা ভাড়া নিয়ে দেন আলেক্সান্ডার ক্রুজার (৪৪) নামের এক ব্যক্তি। তিনি নারীদের ওপর প্রভুত্ব কায়েমে 'মাস্টার' হিসেবে বর্ণনা করেন টর্সটেনকে। 

ক্রুজার বলেন, টর্সটেন তাকে জানান তিনি একজন মনোবিজ্ঞানী। গার্লফ্রেন্ডসহ থাকার জন্য তার একটি ফার্মহাউস দরকার। কিন্তু ফার্মহাউস ভাড়া নেওয়ার পর সেখানে তার সেই গার্লফ্রেন্ড আসেননি। একপর্যায়ে সেখানে এসে টর্সটেনের সঙ্গে থাকেন কার্স্টিন এবং ফারিনা।

স্থানীয় প্রসিকিউটর অফিস জানায়, ঘটনাটিকে একটি 'রিকোয়েস্টেড কিলিং অ্যান্ড সুইসাইড' হিসেবে দেখা হচ্ছে। তারা মনে করছেন, ফারিনা  কাসপারি প্রথমে টর্সটেন ও কার্স্টিন জুটিকে হত্যা করেন। এরপর আত্মহত্যা করেন তিনিও। কিন্তু কেন এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছিল- সে বিষয়ে বিস্তারিত এখনো জানা যায়নি। 

সূত্র : ডেইলি মেইল 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা