kalerkantho

মঙ্গলবার । ২১ মে ২০১৯। ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৫ রমজান ১৪৪০

হদিস মিলল সম্রাট নিরোর গোপন কুঠুরির!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৪ মে, ২০১৯ ০৯:৪৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



হদিস মিলল সম্রাট নিরোর গোপন কুঠুরির!

রোমে মাটির তলায় গোপন কুঠুরির হদিস মিলল। আজ থেকে প্রায় দুই হাজার বছর আগে সেটি তৈরি হয়েছিল বলে জানা গেছে। সম্প্রতি রোমে ঐতিহাসিক নির্মাণ কেন্দ্রে মেরামতের কাজ চলছিল। খোঁড়াখুঁড়ি করতে গিয়ে এ গোপন কুঠুরির হদিস পেয়েছেন প্রত্নতাত্ত্বিকরা।

ওই কুঠুরির দেয়ালে নরঘোটকসহ নানা পৌরাণিক জীবের ছবি আঁকা রয়েছে। আছে ফুল-পাতা, সাপ ও পাখির ছবিও। দেয়ালের গায়ে এ ধরনের চিত্র বা ফ্রেস্কো বহু বছর আগে আঁকা। ছবিগুলোর রং খানিকটা ফিকে হয়ে গেলেও সেগুলো এখনো ভালো অবস্থায় আছে বলে জানিয়েছেন প্রত্নতাত্ত্বিকরা। পঞ্চম রোমান সম্রাট নিরো যে চোখ ধাঁধানো প্রাসাদ তৈরি করেছিলেন, এ কুঠুরি তারই একটি অংশ বলে ধারণা তাঁদের।

৫৪ থেকে ৬৮ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত রোমের শাসক ছিলেন সম্রাট নিরো। তবে পূর্বসূরিদের মতো তাঁর ভাবমূর্তি একেবারেই উজ্জ্বল নয়। বরং অসংখ্য হত্যাকাণ্ডের হোতা বলে পরিচিত। এমনকি ক্ষমতার লোভে নিজের মা এগ্রিপিনাকেও দুনিয়া থেকে সরিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। বিষ খাইয়ে হত্যা করেছিলেন সত্ভাই ব্রিতানিকাসকেও।

৬৪ খ্রিস্টাব্দে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের মুখে পড়ে রোম সাম্রাজ্য।  ১৮ থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত টানা ছয় দিন ধরে জ্বলতে থাকা সেই আগুনে পুড়ে ছারখার হয়ে যায় সব কিছু। তার মধ্যেও নাকি নিরোকে অস্বাভাবিক রকম নির্বিকার থাকতে দেখা গিয়েছিল।

রোমের অধিবাসীদের দাবি, বিশাল এলাকাজুড়ে চোখ ধাঁধানো প্রাসাদ গড়তে চেয়েছিলেন সম্রাট নিরো। তাই নিজেই অগ্নিকাণ্ড ঘটিয়েছিলেন। যে কারণে আগুন নেভার সঙ্গে সঙ্গেই ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে নির্মাণকাজ শুরু করে দেন। প্রাসাদ তৈরির খরচ তুলতে সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি করের বোঝা চাপানোরও অভিযোগ আছে।

ঐতিহাসিকদের তথ্য মতে, চোখের সামনে রোম যখন পুড়ছিল, তখন প্রাসাদে দাঁড়িয়ে বেহালা বাজাচ্ছিলেন নিরো। পরে তৎকালীন সংখ্যালঘু খ্রিস্টানদের ঘাড়ে অগ্নিকাণ্ডের দায় চাপিয়ে দেন তিনি। তার জন্য কিছু খ্রিস্টানকে নিষ্ঠুরভাবে হত্যাও করেছিলেন।

অগ্নিকাণ্ডের পর ওই ধ্বংসস্তূপের ওপরই স্বপ্নের দোমাস অরিয়া বা স্বর্ণগৃহ নির্মাণ করেন নিরো। হাতির দাঁত ও মূল্যবান রত্ন দিয়ে সাজান প্রাসাদটিকে। কিন্তু তার অল্পদিনের মধ্যেই তাঁর বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভ চরমে পৌঁছে। দেশের সেনেট তাঁকে জনগণের শত্রু ঘোষণা করে।

প্রাণে বাঁচতে পালিয়ে যান নিরো। পরে তিনি আত্মহত্যা করেন। তাঁর মৃত্যুর পর পরবর্তী শাসকরা ওই প্রাসাদ ভেঙে ফেলেন। তার পরিবর্তে সেখানে তৈরি হয় গ্ল্যাডিয়েটরদের জন্য কলোসিয়াম। সাধারণ মানুষের জন্য বিশাল স্নানাগারও তৈরি হয়। গোপন কুঠুরিটি ওই প্রাসাদেরই অংশ বলে ধারণা করছেন প্রত্নতাত্ত্বিকরা। 
সূত্র : আনন্দবাজার।

মন্তব্য