kalerkantho

রবিবার । ২৬ মে ২০১৯। ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ২০ রমজান ১৪৪০

ফেসবুকে প্রতিক্রিয়া-পাল্টা প্রতিক্রিয়া

মাশরাফি এমপিকে সাহেব নয়, মহোদয় বলতে হবে

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৮ মে, ২০১৯ ১৮:২০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



মাশরাফি এমপিকে সাহেব নয়, মহোদয় বলতে হবে

জাতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক ও বর্তমান সংসদ সদস্য মাশরাফি বিন মর্তুজাকে ফেসবুকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করায় ডা. মৌমিতা জাহান জুলিসহ ছয় চিকিৎসকের বিরুদ্ধে শোকজ নোটিশ জারি করা হয়েছে। নোটিশের খবরটি চাউড় হতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রতিক্রিয়া-পাল্টা প্রতিক্রিয়ার ঝড় বইছে।

‌'বাংলাদেশ মেডিক্যাল সংবাদ' ফেসবুক পেজ থেকে পোস্ট দেওয়া হয় লাল ব্যাকগ্রাউন্ডে, 'শোকজ বিষয় ফেইসবুকে স্ট্যাটাস দিলে, চাকুরী থাকবে না তাই টুইটারে দেন।'

পেজের পৃথক স্ট্যাটাস ছিল এরকম, ‌'মাশরাফি এমপি সাহেবের বিরুদ্ধ ফেইসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়ায় শোকজ।' 

তখন সুলতান সরকার আইডি থেকে মন্তব্য করা হয়, ‌'এমপিকে সাহেব বলছেন? কোন এমপি এর নাম বলার সময় মেবি মহোদয় বলতে হয়।' 

এম দিদার আইডি থেকে লেখা হয়, '‌কোন এমপি কে সম্বোধনের আগে মাননীয় বলতে হয়। আপনারা এটাও ভুলে গেলেন! ডাক্তারদের প্রতিবাদ হবে সুন্দর এবং সুশৃঙ্খল। কারণ ডাক্তার হচ্ছে মানুষের দ্বিতীয় খোদা।' 

উত্তরে পেজের তরফে পাল্টা মন্তব্য করা হয়, 'ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যের জন্য। আপনার মন্তব্যে‌ দ্বিতীয় খোদা হিসেবে চিকিৎসকদের বলছে। কিন্তু তারা তা নয়। তাদের সেবার কারণে এই কথাগুলো মানুষ বলে। ঠিক একজন এমপি যদি একজন তার বাবার সম্যতুল সিনিয়র বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকে ফাইজলামি করেন সহ যা খুশি তা বললো, তখন কি আপনি প্রতিবাদ বা ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন।'

কাজী তারানা রহমান, 'ডাক্তাররা যে কত অসহায় আজকে বুঝলাম।'

ইফতেখার সোহাগ আইডি থেকে একজন লিখেন, 'সরাসরি জনগনের ভোটে নির্বাচিত হলে সাধারণ মানুষ ও সম্মান করত, সম্মান চেয়ে পাওয়া যায় না, সম্মান অরজন করে নিতে হয়। একটা কথা মনে রাখবেন প্রভাবশালী লোক কে সবাই ভয় পায় শ্রদ্ধা করে না, আর শ্রদ্ধা সেই পায় যে সবার ভালোবাসায় সিক্ত। তবে ডাক্তারদের প্রতিবাদের ভাষা টা আরো নমনীয় হওয়া উচিৎ ছিল কারণ আপনাদের প্রতিবাদের ভাষা যদি হয় অশালীন তাহলে সাধারণ মানুষ আপনাদের কাছ থেকে কি শিখবে?'

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সদস্য মাশরাফি সম্প্রতি নড়াইল সদর হাসপাতাল পরিদর্শন করতে গেলে হাসপাতালে চিকিৎসকদের অনুপস্থিতি দেখতে পান। গত ২৫ এপ্রিল পরিদর্শনকালে হাজিরা খাতায় তিন চিকিৎসকের স্বাক্ষর না দেখে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আব্দুস শাকুর এবং পরে অনুপস্থিত সার্জারি বিশেষজ্ঞ ডা. আকরাম হোসেনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলেন মাশরাফি।

এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর চিকিৎসকসহ অন্যান্যদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে অনেক চিকিৎসক মাশরাফির বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

মাশরাফিকে গালাগালি করে সে ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ডা. জুলি লিখেছেন, ‘Kuttar baccha mashrafi . . . mp houal pasay tel jomse, ম্যাশ তোমাকে নামিয়ে দিলাম, তুমি আমাদের ভালোবাসা পাওয়ার যোগ্যতা হারিয়ে ফেলেছ, এখন থেকে তুমি একজন worthless MP ছাড়া আমার কাছে আর কিছুই না . . .’

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব শামীমা নাসরীন স্বাক্ষরিত পত্রে মঙ্গলবার চিকিৎসকদের কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

একজন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে এ আচরণ অনুচিত ও অনভিপ্রেত উল্লেখ করা হয়েছে প্রজ্ঞাপনে। সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালার পরিপন্থী যা সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ এর ৩(খ) মোতাবেক ‘অসদাচরণ হিসেবে গণ্য। তাই সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ এর ৩ (খ) মোতাবেক অসদাচরণের দায়ে অভিযুক্ত করে কেন উক্ত বিধিমালার অধীনে যথোপযুক্ত দণ্ড প্রদান করা হবে না তা এ নোটিশ প্রাপ্তির ৩ (তিন) কর্মদিবসের মধ্যে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে।

কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া চিকিৎসকরা হলেন নওগাঁ জেলা হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মৌমিতা জলিল জুলি, চট্রগ্রাম মেডিকেল কলেজের হেমাটো অনকোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. এ কে এম রেজাউল করিম, ঢাকা মেডিকেল কলেজের রেসপিরেটরি মেডিসিনের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের নিউরোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক, ডা. পঞ্চানন দাশ, বগুড়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পেডিয়াট্রিকসের রেজিষ্ট্রার ডা. আইরিন আফরোজ ও মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের মেডিকেল অফিসার ডা. ফাহমিদী হাসান।

মন্তব্য