kalerkantho

শনিবার । ২৫ মে ২০১৯। ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৯ রমজান ১৪৪০

চীনের ভেষজ চিকিৎসা আধুনিকায়নে বড় সাফল্য

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৪ এপ্রিল, ২০১৯ ১৯:৪৩ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



চীনের ভেষজ চিকিৎসা আধুনিকায়নে বড় সাফল্য

স্কুটেলারিয়া বাইকালেন্সিস গোত্রের এই উদ্ভিদ নিয়ে গবেষণা চলছে। এটি চায়নিজ স্কালক্যাপ নামেও পরিচিত।

উদ্ভিদের মূল্যবান রসায়ন ব্যবহার করে দুই হাজার বছরের প্রাচীন চীনা মহৌষধ আবিষ্কার হতে যাচ্ছে। এ উদ্দেশ্যে যৌথ প্রকল্প গ্রহণ করেছে চীন ও যুক্তরাজ্য। এতে ভেষজ ওষুধের ব্যবহার দ্রুত বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। 

চীনের চায়নিজ একাডেমি অব সায়েন্সেস এবং যুক্তরাজ্যের জন ইনস সেন্টার'র যৌথ উদ্যোগে গ্রহণ করা প্রকল্পটির নাম সিইপিএএমএস। প্রকল্পটি সফলভাবে স্কুটেলারিয়া বাইকালেন্সিস গোত্রের পুদিনা জাতীয় উদ্ভিদের উচ্চ মান সম্পন্ন জেনোম সরবরাহে সক্ষম হয়েছে। 

চীনে উদ্ভিদটি প্রধানত স্কালক্যাপ নামে পরিচিত। আর চীনের বাইরে এটি ট্রাডিশনাল চায়নিজ মেডিসিন (টিসিএম) নামে বেশি পরিচিত। ভেষজ উপাদানের  জন্য বিশ্বব্যাপী চাষ হয় উদ্ভিদটি।

উপাদানগুলো পাওয়ার জন্য প্রথমে উদ্ভিদটির শিকড় শুকানো হয়। এই শুকনো শিকড়কে বলা হয় 'হুয়াং কিন'। এতে থাকা রাসায়নিক পদার্থের নাম ফ্লাভনয়েডস। এ ছাড়া এতে রয়েছে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল, অ্যান্টিভাইরাল, অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসহ ক্যান্সাররোধী উপাদান। উদ্ভিদটিতে যকৃত এবং স্নায়ু রক্ষাকারী উপাদানও রয়েছে।

বাণিজ্যিক স্বার্থ এবং স্কুটেলারিয়ার ক্রমবর্ধমান চাহিদা সত্ত্বেও জিনোম তথ্যের ঘাটতির ফলে প্রজননের মাধ্যমে এর পরিবর্ধন সীমিত রাখা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট গবেষক দলটি সাংহাই চেনশান বোটানিক্যাল গার্ডেনের একটি স্কালক্যাপ উদ্ভিদ থেকে এর ডিএনএ গ্রহণ করে। এরপর তা জিনোম কম্বিনেশনে ব্যবহার করা হয়।

গবেষণার অর্থ হলো গবেষকরা এখন এর জিন শনাক্ত করতে সক্ষম যা মূল্যবান যৌগ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ। এরপর তা ল্যাবে মেটাবোলিক ইঞ্জিয়ারিং টেকনিক ব্যবহার করে ওষুধে পরিণত করা হয়।

প্রকল্পটি এর কার্যক্রম 'মোলকিউলার প্লান্ট' জার্নালে প্রকাশ করেছে। তাঁরা ল্যামিয়াসিয়া বা পুদিনা প্রজাতির অন্যান্য উদ্ভিদের জেনেটিক অনুসন্ধানেও কাজ করছেন।

গবেষণার মাধ্যমে টিসিএম-এর ক্ষেত্রে এই বিপ্লব সবার দৃষ্টিগোচরের চেষ্টা করা হচ্ছে। ১৯১৫ সালে ওর্ম উড থেকে ম্যালেরিয়ার ওষুধ আবিষ্কারের কারণে নোবেল পুরস্কার পান তু ইউ ইউ। গবেষণায় অনুসরণ করা হচ্ছে সেটিও।

প্রকল্পটি সফল হলে হাজার হাজার বছর ধরে চীনা  চিকিৎসায় যে উদ্ভিদ ব্যবহৃত হয়ে আসছে তা থেকে প্রস্তুত হবে আধুনিক ওষুধ। এতে ক্যান্সারসহ অনেক রোগের চিকিৎসা সহজ হবে। 

সূত্র; ইউরেকা অ্যালার্ট 

মন্তব্য