kalerkantho

মঙ্গলবার । ২১ মে ২০১৯। ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৫ রমজান ১৪৪০

দিদির জন্য নালতে শাক নিয়ে যাবেন নীহার

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৩ এপ্রিল, ২০১৯ ১২:২৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দিদির জন্য নালতে শাক নিয়ে যাবেন নীহার

বৈশাখের এই ঝা ঝা রোদে পশ্চিমবঙ্গের রামপুরহাট শহরে ফিরহাদ হাকিমের শো-ডাউন সেরে বাড়ির সামনের দাওয়ায় বিশ্রাম নিচ্ছিলেন নীহার মুখোপাধ্যায়। বাড়ির সামনে গোল হয়ে দাঁড়িয়ে ছয়-সাত জন গ্রামবাসী।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার এই শহরটিতে  রাজ্যের পুর্তমন্ত্রীর শো-ডাউন কেমন হলো- তা নিয়ে কথা বলছিলেন এই ছোটখাটো মানুষটি।

আধঘণ্টা বিশ্রাম নিয়ে গোসল-খাওয়া সেরে খানিক বিশ্রাম। বিকেলের আগেই আবার বেরোবেন প্রচারে। তাঁর দিদি মমতা বন্দোপাধ্যায় রাজ্যের ৪২টি লোকসভা কেন্দ্রে জয় ছিনিয়ে নেওয়ার লক্ষ্য নিধারণ করেছেন। ভাই নিজের এলাকায় চারটি বুথে গতবারের ব্যবধান আরো বাড়িয়ে নিতে সকাল থেকে টো-টো করে ঘুরছেন। রাজ্যের সব তৃণমূল কর্মীর কাছেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় 'দিদি'।

কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কুসুম্বার এই নীহারের আক্ষরিক অর্থেই দিদি। সম্পর্কে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মামাতো ভাই। রামপুরহাটের কুসুম্বায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মামার বাড়ি। তাঁর দিদি এই অঞ্চলের নিজস্ব 'নালতে' ও 'পোনকা' শাক ভীষণ পছন্দ করেন। কুসুম্বার মুড়ি ও চিঁড়েও দিদির প্রিয়। নীহার তাই ঠিক করেছেন, ২৩ তারিখ ভোটের ফল প্রকাশের পর দিদির জন্য রামপুরহাটের 'নালতে' ও 'পোনকা' শাক এবং চিঁড়ে-মুড়ি নিয়ে যাবেন।

দিদি যখন এখানে এসে ছোট ছোট পাতার এই নালতে  শাকের খোঁজ করেন। এখানের পোনকা শাকও দিদি খুব পছন্দ করেন। দাওয়ায় বসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শাক-প্রীতির এসব গল্প বলছিলেন নীহার। বয়সে মমতার চেয়ে কিছুটা ছোট কুসুম্বার মুখোপাধ্যায় পরিবারের এই সদস্য। মমতার মতোই যুব কংগ্রেস করে রামপুরহাটের এই অঞ্চলে রাজনীতিতে নিজের স্থান তৈরি করেছেন নীহার।

নীহারের মুখে পুরনো দিনের কথা শুনে আরো কয়েকজন দাঁড়িয়ে পড়েছেন কুসুম্বার বিখ্যাত এই বাড়ির সামনে...'তখন দিদি ট্রেনে করে আসতেন। স্টেশন থেকে ভ্যান-রিকশায় গ্রামে। রাস্তাঘাটের অবস্থা ভালো ছিল না। আট-দশ দিন করে দিদি তখন থাকতেন। যদিও কুসুম্বায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কোনো দিন রাজনীতি নিয়ে কোনো কথা বলেননি।

১৯৯৮ সালে তৃণমূল তৈরি হওয়ার পরে নীহারের নেতৃত্বে কুসুম্বার যুব কংগ্রেসের পুরো টিম তৃণমূল হয়ে যায়। ২০১২ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে প্রথম নীহার জয়ী হন। নীহারের স্ত্রী পম্পা আগে পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি ছিলেন। এবারো তিনি পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য। নীহার এখন বীরভূম জেলা পরিষদের অধ্যক্ষ।

সব মিলিয়ে দায়িত্ব বেড়ে যাওয়ায় নীহারের নির্বাচনী ব্যস্ততাও বেড়েছে। তাঁর কথায়, 'সকাল ১০টার আগে বেরিয়ে যাই। মিছিল-সভা হয়। দুপুর একটা দেড়টা নাগাদ ফিরি। খাওয়াদাওয়া করে একটু বিশ্রাম। ফের ৪টার পর বেরিয়ে পড়ি। তৃণমূলের প্রার্থী ঘোষণার পর রামপুরহাটে নয়-নয় করে ৩০-৩৫টি সভা করে ফেলেছি। সামনে আর কয়েকটি দিন। তাই ব্যস্ততা আরো বাড়বে।' কুসুম্বায় চারটি বুথে ২০১৬ বিধানসভায় মোটামুটি ১৫০-২০০ ভোটের লিড নিয়েছিল তৃণমূল। এবার সেই ব্যবধান আরো বাড়াতে চান নীহার।

নীহারের কথায়, 'বীরভূম লোকসভা কেন্দ্রে আমাদের প্রার্থীর জয়ের ব্যবধান বাড়বে। ব্যবধান বাড়বে কুসুম্বার বুথেও।' 

বীরভূমে বিজেপির প্রভাব বাড়লেও কুসুম্বায় বিজেপি মাথা তুলতে পারেনি বলে নীহারের দাবি। তাঁর বক্তব্য, 'এই তো অমিত শাহর সভা হয়েছে। কুসুম্বা থেকে ১০ জন গিয়েছে বলেও শুনিনি। বিজেপি টাকা খরচ করে কিছু পতাকা লাগিয়েছে কয়েকটি জায়গায়। কিন্তু ওদের দেয়াল লেখার লোক নেই।'

লোকসভা নির্বাচন শেষ হলে অন্যদিকে নজর দিতে হবে নীহারকে। ছেলে সামনের বছর উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দেবে। কুসুম্বা হাইস্কুলে পড়ে সে। বিয়ের পর  মেয়ে রাজারহাটে থাকে। নির্বাচন শেষে সেখানেও যাবেন মমতার মামাতো ভাই। 

সূত্র: এই সময় 

মন্তব্য