kalerkantho

সোমবার । ২০ মে ২০১৯। ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৪ রমজান ১৪৪০

পালিত হচ্ছে বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ এর ৪৮তম শাহাদতবার্ষিকী

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর   

২০ এপ্রিল, ২০১৯ ১২:১৫ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



পালিত হচ্ছে বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ এর ৪৮তম শাহাদতবার্ষিকী

ফরিদপুরে নানা আয়োজনে বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ল্যান্স নায়েক মুন্সী আব্দুর রউফ এর ৪৮তম শাহাদতবার্ষিকী পালিত হচ্ছে। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকালে এই দিনে হানাদার পাকিস্তানি সেনাদের সাথে সম্মুখযুদ্ধে তিনি পার্বত্য চট্টগ্রাম বর্তমান রাঙামাটি জেলার নানিয়ারচর থানার বুড়িঘাট নামক স্থানে শহীদ হন। 

আজ শনিবার ৪৮তম শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার কামারখালীর রউফ নগরের (সালামাতপুর) গ্রামে বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ স্মৃতি জাদুঘর ও গ্রন্থাগারে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। সকালে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও পরে মুন্সী আব্দুর রউফ স্মৃতি ফলকে পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হয়। অন্য কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে বাদ জোহর কোরআনখানি ও আলোচনাসভা এবং মিলাদ মাহফিল ও দোয়া অনুষ্ঠান।

উল্লেখ্য, মুন্সী আব্দুর রউফ ১৯৪৩ সালের মে মাসে বর্তমান মধুখালী উপজেলার কামারখালী ইউনিয়নের রউফ নগর (সালামাতপুর) গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। মুন্সী মেহেদী হাসান ও মকিদুন্নেছা দম্পতির একমাত্র ছেলে রউফ। ১১ বছর বয়সে তাঁর বাবা মারা যায়। এর পর আর্থিক অনটনের কারণে লেখাপড়া সম্ভব না হওয়ায় তিনি ১৯৬৩ সালের ৮ মে তৎকালীন ইপিআর এ সৈনিক পদে যোগদান করেন। তার সৈনিক নম্বর ছিল ১৩১৮৭। মহান স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় তিনি অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে যোগ দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। একাত্তরের ২০ এপ্রিল পাকিস্তানি বাহিনীর সাথে সম্মুখযুদ্ধে মুন্সী আব্দুর রউফের মেশিন গানের গুলিতে পাকিস্তানি বাহিনীর দুটি লঞ্চ, একটি স্পিডবোট ডুবে দুই প্লাটুন সৈন্যের সলিলসমাধি ঘটে। এ সময় হঠাৎ প্রতিপক্ষের নিক্ষিপ্ত মর্টার শেলের আঘাতে তিনি শহীদ হন।

ল্যান্স নায়েক মুন্সী আব্দুর রউফ শহীদ হবার দীর্ঘ ২৫ বছর পর ১৯৯৬ সালে বুড়িঘাট নিবাসী জ্যোতিষ চন্দ্র চাকমা ও দয়াল কৃঞ্চ চাকমার সহায়তায় বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ এর কবরের স্থান শনাক্ত করতে সক্ষম হন। ১৯৯৭ সালে সেখানে একটি স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হয়। 

২০০৮ সালে ২৮ মে তার নিজ গ্রাম সালামাতপুরের নাম রউফ নগর রাখা হয়। ওই বছরেই তাঁর নামে নিজ গ্রাম রউফ নগরে ফরিদপুর জেলা পরিষদের তত্ত্বাবধানে প্রায় ৬৮ লাখ টাকা ব্যয়ে বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ স্মৃতি জাদুঘর ও গ্রন্থাগার নির্মাণ করা হয়েছে। 

মন্তব্য