kalerkantho

শুক্রবার । ২৪ মে ২০১৯। ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৮ রমজান ১৪৪০

বিবিসি বাংলার প্রতিবেদন

'ধর্ম অবমাননা', তোপের মুখে ভিডিও ব্লগার সেফুদা

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২০ এপ্রিল, ২০১৯ ১০:১৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



'ধর্ম অবমাননা', তোপের মুখে ভিডিও ব্লগার সেফুদা

ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ কোরআন শরীফ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের লাইভ ভিডিওতে অবমাননাকর মন্তব্য করার অভিযোগে বিতর্কিত ভিডিও ব্লগার সেফাত উল্লাহর বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেয়ার কথা বিবেচনা করছে অস্ট্রিয়ায় বাংলাদেশি কমিউনিটি। এ ব্যাপারে শুক্রবার একটি কমিটিও তৈরি করেছে ভিয়েনায় বসবাসরত বাংলাদেশিরা।

গতকাল শুক্রবার জুমার নামাজের পর বাংলাদেশি কমিউনিটির নেতারা ভিয়েনায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. আবু জাফরের সঙ্গে এ ব্যাপারে একটি বৈঠকও করেছেন।

বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. আবু জাফর বলেন, ইস্টারের ছুটির পর বিষয়টি কূটনৈতিক চ্যানেলে অস্ট্রিয়ার সরকারকে তিনি জানাবেন।

তিনি বলেন, ‘সেফাত উল্লাহ সাহেবের যেসব কথা ইউটিউবে পোস্ট হয়েছে, তাতে পবিত্র ধর্মগ্রন্থকে অবমাননা করার বিষয় রয়েছে। এত ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ রয়েছে...আমরা একইসাথে উদ্বিগ্ন যে বিষয়টি নিয়ে যেন ভিয়েনাতে বসবাসরত অন্যান্য দেশের মুসলিমদের মধ্যে অহেতুক কোনো উত্তেজনার সৃষ্টি না হয়।’

বিষয়টি অষ্ট্রিয়ার সরকারকে অবগত করা প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছেন রাষ্ট্রদূত আবু জাফর।

এর আগে গত বুধবার ফেসবুক লাইভে এসে অস্ট্রিয়া প্রবাসী সেফাত উল্লাহ, যিনি সেফুদা নামেই সোশাল মিডিয়াতে বেশি পরিচিত, কোরআন ও ধর্ম নিয়ে অবমাননাকর বক্তব্য দেন বলে অভিযোগ ওঠে। মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান হত্যা প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে তিনি এসব বক্তব্য দেন।

সেফুদার এই বক্তব্য নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে প্রবল সমালোচনাও শুরু হয়। বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় সেফুদার বিচার দাবি করে ছোটোখাটো বিক্ষোভ হয়েছে বলে বিভিন্ন মিডিয়াতে খবর বেরিয়েছে।

কিন্তু পরের এক ভিডিও পোস্টে সেফুদা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, তিনি বুধবার লাইভ ভিডিওতে কোরআনের পাতা ছেঁড়েননি। উর্দু একটি বইয়ের পাতা ছিঁড়েছিলেন।

সেফুদা শুধু ধর্ম নয়, ফেসবুকে লাইভ ভিডিওতে বাংলাদেশের প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দল এবং রাজনৈতিক নেতাদের নিয়ে কটূক্তি করে বক্তব্য দিয়েছেন।

ভিয়েনা নিবাসী আবিদ হোসেন খান বলেন, একসময় সেফাত উল্লার সাথে তাঁর যোগাযোগ ছিল, কিন্তু এখন বাংলাদেশি কমিউনিটির কারো সাথেই তার তেমন কোনো যোগাযোগ নেই। এক ধরনের একাকী জীবন যাপন করেন তিনি। বেসামাল কথাবার্তার কারণে বাংলাদেশিরা তাকে এড়িয়ে চলেন। এক ছেলে অন্য দেশে থাকেন। স্ত্রী থাকেন বাংলাদেশে।

সেফাত উল্লাহর বক্তব্য শুনতে তার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি। রাষ্ট্রদূত আবু জাফরও বলেন, সেফাত উল্লার সাথে তাদেরও কোনো যোগাযোগ নেই।
সূত্র : বিবিসি বাংলা

মন্তব্য