kalerkantho

সোমবার । ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১১ রবিউস সানি ১৪৪১     

যদি আইনস্টাইন-মিলেভার বিবাহবিচ্ছেদ না হতো...

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২০ মার্চ, ২০১৯ ২২:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



যদি আইনস্টাইন-মিলেভার বিবাহবিচ্ছেদ না হতো...

এই ছবিটি তোলা হয় আইনস্টাইন এবং মিলেভার বিয়ের দিন। ছবি : ইন্টারনেট

১৯০৩ সালের ৬ জানুয়ারি মিলেভার সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন শতাব্দীর সেরা বিজ্ঞানী স্যার আলবার্ট আইনস্টাইন। বলা হয়ে থাকে যে, মিলেভার প্রতিভা আইনস্টাইনের থেকে কোনো অংশেই কম ছিল না। কিন্তু না, সেই ভাবে সহায়তা পাননি। না ঘরে, না বাইরে। পেলে হয়তো আজকের পদার্থবিজ্ঞানকে অনেকটাই বদলে দিতে পারতেন আইনস্টাইনের প্রথম স্ত্রী। সদ্য প্রকাশিত একটি বই 'আইনস্টাইন'স ওয়াইফ: দ্য রিয়েল স্টোরি অফ মিলেভা আইনস্টাইন-মারিক' থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

নিজে বহুদর্শী ছিলেন বলেই হয়তো তার বাগদত্তা মিলেভার বিজ্ঞান প্রতিভার আভাস অনেক আগেই পেয়েছিলেন আইনস্টাইন। যার ইঙ্গিত মিলেছে প্রেমিকা মিলেভাকে লেখা তার একটি চিঠিতে। আইনস্টাইন ১৯০০ সালের অক্টোবরে মিলেভাকে একটি চিঠিতে লিখেছিলেন, 'আমি খুবই ভাগ্যবান যে তোমার মতো এক জনকে পেয়েছি। এমন একটা প্রাণী, যে একেবারে আমারই মতো। আমার সমান।'

হফ্‌টস্ট্রা বিশ্ববিদ্যালয়ের এমেরিটাস অধ্যাপক ডেভিড সি ক্যাসিডিসহ তিন জন লেখকের ওই গবেষণামূলক বইটি থেকে যে সব তথ্য বেরিয়ে এসেছে, তা থেকে জানা যায়; মিলেভার প্রতিভাকে অনেক আগেই বুঝতে পেরেও সেই প্রতিভার বিকাশে কিন্তু ততটা ভূমিকা ছিল না কিংবদন্তী বিজ্ঞানীর। পদার্থবিজ্ঞান ও গণিত শাস্ত্রে অসাধারণ মেধা ছিল মিলেভার। তবু ওই সময়ের অনেক নারী বিজ্ঞানীর মতোই মিলেভাও উপেক্ষার শিকার হয়েছিলেন। মর্যাদা, উৎসাহ না পাওয়ায় ক্ষোভে, দুঃখে, অপমানে একসময় আড়ালে চলে যান তিনি।

যার স্বামী আইনস্টাইন; অন্তত তার জীবনে এমন ঘঠনা হওয়ার কথা ছিল না। অথচ মিলেভার জীবনে সেটাই হয়েছিল।  আইনস্টাইনের সঙ্গে বিবাহ বিচ্ছেদের যন্ত্রণায় গভীর অবসাদে ডুবে গিয়েছিলেন মিলেভা। তার শৈশবটাও খুব একটা মধুর ছিল না। ফলে অতীত আর তার বিবাহোত্তর জীবনের টানাপড়েনে পদার্থবিজ্ঞান ও গণিতে সেই সময়ের অন্যতম সেরা প্রতিভা মিলেভাকে আর তেমনভাবে জ্বলে উঠতে দেখা যায়নি।

বইটিতে মিলেভার শৈশব নিয়ে বিশদে লিখেছেন অধ্যাপক ক্যাসিডি। বিজ্ঞানের ইতিহাসবিদ রুথ লিউইন সাইম লিখেছেন, বিশ শতকে মিলেভার মতো নারী বিজ্ঞান-প্রতিভাদের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য কীভাবে মরণ-বাঁচন লড়াইটা লড়তে হয়েছিল। আর ব্রিটিশ গণিতজ্ঞ ও পদার্থবিদ অ্যালেন এস্টারসন লিখেছেন আইনস্টাইনের সঙ্গে মিলেভার প্রণয়, দাম্পত্য, বিবাহ বিচ্ছেদ আর তার পরের দিনগুলি নিয়ে।

এস্টারসন লিখেছেন, 'ওই সময় বিজ্ঞানের দুনিয়ায় কোনো কদর ছিল না নারীদের। নারীদের দিয়েও যে বিজ্ঞানের গবেষণা হয়, সেটা কেউ মানতে চাইতেন না। সেই সময়ে দাঁড়িয়ে নানা বাধা অতিক্রম করে মিলেভা পদার্থবিজ্ঞান ও গণিত নিয়ে পড়াশোনা করেছিলেন। আর বিজ্ঞানের এই দুটি জটিলতম বিষয়ে দেখিয়েছিলেন চমক। কিন্তু তারপর আর পারেননি। হারিয়ে গিয়েছিলেন আইনস্টাইনের সঙ্গে তার দাম্পত্য ভেঙে যাওয়ার পর। ডুবে গিয়েছিলেন গভীর মানসিক অবসাদে।'

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা