kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ১৭ অক্টোবর ২০১৯। ১ কাতির্ক ১৪২৬। ১৭ সফর ১৪৪১       

'তালাকের পর সবাই আমারই দোষ দিয়েছে, ভার্জিনিটি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে'

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ১৯:২৯ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



'তালাকের পর সবাই আমারই দোষ দিয়েছে, ভার্জিনিটি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে'

প্রথমবার যখন আমার বিয়ে হয়, তখন আমার সবে ১৯ বছর বয়স। আমার মা এসে আমাকে বলল, সুদর্শন এক যুবকের পরিবার আমাকে পুত্রবধূ করে নিতে চায়। সেদিনই প্রথম জেনেছিলাম যে, আমার বিয়ের বয়স হয়েছে। তার আগে কখনোই কোনো ছেলের হাতে হাত রাখা হয়নি। এমনি আমার জগৎটা সুপারম্যান আর স্পাইডারম্যানদের মতো অতিমানবদের ঘিরেই সীমাবদ্ধ ছিল।

আমার প্রথম স্বামী আমার চেয়ে ১১ বছরের বড় ছিল। বিয়ের আগে মাত্র একবার তাকে দেখেছিলাম। তার পর বিয়ে হয়ে গেলেও বেশিরভাগ সময় আমাদের কথা হতো ফোনে। পরে আমি যখন ইউনিভার্সিটিতে শেষ বর্ষে পড়ি; তখন আমার স্বামী একজন চিকিৎসক। যে কোনো নারীর জন্য স্বামীর এ ধরনের পেশা ভালো লাগারই কথা। উনি অবশ্য পাকিস্তান থেকে মিসিসিপিতে এসেছিলেন। ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর আমরা বিয়ে করি।

বিয়ের পর আমার স্বামী বেশিরভাগ সময় বাইরে থাকে। যদিও বাড়ির বাইরে যাওয়ার অনুমতি আমার কোনোদিনই ছিল না। বাড়ির সবার জন্য রান্নাবান্না-কাজকর্মের বাইরে বসে টেলিভিশন দেখতাম। সেটাও শাশুড়ির পছন্দের অনুষ্ঠান। আমার স্বামী ফিরে আসার পর, মা যা বলতেন সে অনুযায়ীই সব করতেন তিনি। এমনকি গোসলের  সময় আমি কোন সাবান ব্যবহার করতে পারবো, সেটাও আমার শাশুড়িই ঠিক করতেন।

অবশেষে তিনমাস থাকতে পেরেছিলাম প্রথম স্বামীর ঘরে। তবে আমাদের সমাজে তালাক একেবারেই প্রচলিত নয়। যদিও আমার বাবা-মা সবসময় আমার পছন্দের গুরুত্ব দিয়েছেন।

তবে সমস্যা আরো বেড়ে গেল আমার তালাকের পর। আত্মীয়-স্বজন থেকে সবার কাছে চর্চার বিষয় হয়ে গেলাম আমি। তালাকের জন্য সবাই একতরফাভাবে আমাকে দায়ি করতে লাগলো। এমনকি আমি যে আর ভার্জিন নই, সে কথা পর্যন্ত হয়েছে।

অবশেষে আমার পরিবার মনে করল, শিগগিরই আমার বিয়ে দেয়া দরকার। এরই মধ্যে পেরিয়ে গেল কয়েক বছর। ২৩ বছর বয়সে আমাকে আবারো বিয়ে দেয়া হলো।

যুক্তরাষ্ট্রের বাসিন্দা সায়মা মীর কথাগুলো বলেছেন। গার্ডিয়ান অবলম্বনে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা