kalerkantho

শনিবার । ২১ ফাল্গুন ১৪২৭। ৬ মার্চ ২০২১। ২১ রজব ১৪৪২

ইচ্ছেমতো টাকা ছাপালে কেন বড়লোক হওয়া যায় না?

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ১৪:১৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ইচ্ছেমতো টাকা ছাপালে কেন বড়লোক হওয়া যায় না?

ছবি অনলাইন

অনেকেই মনে করতে পারেন ইচ্ছেমতো টাকা ছাপালে কেউ ধনী হয়ে যায় না কেন? এ বিষয়টি নিয়ে চিন্তাভাবনা করেননি এমন মানুষ কম নয়। তবে বিষয়টি এত সহজ নয়। এর পেছনে রয়েছে অর্থনীতির জটিল হিসাব-নিকাশ।

ধরুন, গরিব একটি দেশ ইচ্ছেমতো টাকা ছাপিয়ে বিশাল সেতু নির্মাণ, বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ ও অন্যান্য উন্নয়ন কাজ করে দেশের চেহারা পাল্টে ফেলল। এতে  কোনো সমস্যা আছে কি? এ প্রশ্নের উত্তরে বাস্তব উদাহরণ হলো জিম্বাবুয়ে। সে দেশটিতে এক কেজি চাল কিনতেও বস্তা ভরা টাকা নিয়ে যেতে হয়। কিন্তু কেন এই পরিস্থিতি? জিম্বাবুয়ের অর্থনীতির অবস্থা ভালো নয় বহু বছর ধরেই। তবে চূড়ান্তভাবে তা খারাপ হয় ২০০৮ সাল থেকে।

জিম্বাবুয়ের মুগাবে সরকার আর্থিক চাহিদা মেটাতে বিপুল পরিমাণ মুদ্রা ছাপানোর সিদ্ধান্ত নেন। অন্য সব অর্থনৈতিক সূত্রকেও এজন্য উপেক্ষা করা হয়। এরপর যা হওয়ার তাই হয়েছে। প্রচুর টাকা আছে মানুষের হাতে। কিন্তু সে টাকা দিয়ে জিনিস পাওয়া যাচ্ছে সামান্যই। প্রতিদিনই বিপুল পরিমাণ মুদ্রাস্ফীতি ঘটছে দেশটিতে। এ হার এত বেশি দাঁড়ায় যে ২০০৮ সালে তা ১৫ লাখ শতাংশে পৌঁছায়। এরপর জিম্বাবুয়ে সরকার মুদ্রাই বাতিল করে দিতে বাধ্য হয়। তার বদলে এখন মার্কিন ডলার ও অন্যান্য বৈদেশিক মুদ্রায় লেনদেন করতে বাধ্য হয় জিম্বাবুয়ে।

কিন্তু বেশি টাকা ছাপলে এমন সমস্যা হয় কেন দেশের? কারণ দেশের মোট সম্পদের সঙ্গে মুদ্রা ছাপানো সঙ্গতিপূর্ণ হতে হয়। সম্পদের চেয়ে মুদ্রা বেশি ছাপলে দ্রব্যমূল্য বেড়ে যায়। ধরুন, ছোট একটি দেশের সম্পদ বলতে রয়েছে ১০টি কাঁঠাল। সেই দেশ বছরে ২০ টাকা প্রিন্ট করে। ধরুন প্রতিটি কাঁঠালের মূল্য দুই টাকা। তাহলে দেশটির মোট সম্পদ ও হাতে থাকা অর্থ সমান বা ভারসাম্যপূর্ণ হলো। পরের বছর দেশটি ৪০ টাকা প্রিন্ট করল। তবে সেই ১০টি কাঁঠালই সম্পদ হিসেবে পাওয়া গেল। যেহেতু দেশটিতে নতুন কোনো সম্পদ নেই তাই ১০টি কাঁঠালই সেই ৪০ টাকা কিনতে বরাদ্দ হলো। অর্থাৎ প্রতিটি কাঁঠালের দাম চার টাকা বা দ্বিগুণ হয়ে গেল- বেড়ে গেল দ্রব্যমূল্য। এভাবেই দেশের দ্রব্যমূল্য বেড়ে যাবে বাড়তি টাকা ছাপালে (যদিও ২০ টাকা ছাপালেই দ্রব্যমূল্য একই থাকত)। বাড়তি টাকা ছাপালে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যায়। টাকার দামও কমে যায়। একে বলে মুদ্রাস্ফীতি।

দেশে যেন বাড়তি টাকা না থাকে সেজন্য টাকা ছাপানোর সঠিক পরিমাণ রীতিমতো গবেষণা করে নির্ধারণ করতে হয়। এ হিসাব ঠিকমতো করতে না পারলে মুদ্রাস্ফীতি বেড়ে যেতে পারে। আর তাই সঠিক মাত্রায় টাকা উৎপাদন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইচ্ছেমতো টাকা ছাপানোর তো প্রশ্নই আসে না।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা