kalerkantho

সোমবার । ২৬ আগস্ট ২০১৯। ১১ ভাদ্র ১৪২৬। ২৪ জিলহজ ১৪৪০

নাচোলের আলপনা গ্রাম

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২১ ডিসেম্বর, ২০১৭ ১৬:০৮ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



নাচোলের আলপনা গ্রাম

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার নাচোল উপজেলা। এখানকার একটি গ্রামের সব নারীরাই শিল্পী। তাঁদের শিল্পকর্মের ছোঁয়া সেখানকার প্রতিটি বাড়ি ঘরেই দেখা যায়। দেখুন আজকের প্রতিবেদনে।

আলপনা গ্রাম
তেভাগা আন্দোলনের অবিসংবাদিত নেত্রী ইলা মিত্রের স্মৃতিধন্য নাচোল উপজেলার নেজামপুর ইউনিয়নের গ্রাম টিকইল। এ গ্রামটিকে সবাই এখন চেনেন ‘আলপনা গ্রাম’ হিসেবে। হিন্দু-অধ্যুষিত এ গ্রামের প্রতিটি বাড়ির দেয়ালে দেয়ালে শোভা পায় হাতে আঁকা নানা আলপনা।

আলপনার কারিগর
টিকইল গ্রামের আলপনার মূল কারিগর হচ্ছেন এ গ্রামের গৃহিণী আর মেয়েরা। বংশ পরম্পরায় বছরের পর বছর বাড়ির দেয়ালে দেয়ালে এ ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রেখেছেন তাঁরা।

দেয়ালই যাঁদের ক্যানভাস
নাচোলের আলপনা গ্রামের প্রতিটি বাড়ির দেয়ালই যেন একেকটি ক্যানভাস। মাটির তৈরি এ সব বাড়ির ভেতরের-বাইরের কোনো দেয়ালই বাদ পড়ে না তুলির আঁচর থেকে। রান্নাঘর থেকে শোবার ঘর, প্রতিটি দেয়ালই মেয়েরা ভরে ফেলেন হাতে আঁকা আলপনায়।

আলপনায় আশীর্বাদ
টিকইল গ্রামের নারীরা বাড়ির দেয়ালে দেয়ালে আলপনা এঁকে বাড়ির সৌন্দর্যবর্ধনের সঙ্গে সঙ্গে দেবতার সুদৃষ্টি ও আশীর্বাদ কামনা করে থাকেন।

পূজা-পার্বণে
টিকইল গ্রামের নারীরা বাড়ির দেয়ালগুলোতে সবচেয়ে বেশি আলপনা আঁকেন পূজা-পার্বণ উপলক্ষ্যে। এ সব বর্ণিল আলপনা বছর ধরে শোভা পায় দেয়ালজুড়ে।

আলপনা স্থায়ী করতে
বাড়ির দেয়ালে আঁকা আলপনা স্থায়ী করতে রং-ও তৈরি করেন অনেক গৃহিনী। শুকনো বড়ই, আম আঁটির শাঁস চূর্ণ, চকগুঁড়া, মানকচু ও কলাগাছের কস বিভিন্ন রঙের সঙ্গে মিশিয়ে তাঁরা নিজেদের মতো রং তৈরি করেন। ওই রঙে আঁকা আলপনা সারা বছর টিকে থাকে মাটির দেয়ালে।

এক ক্ষুদে আলপনা শিল্পী
স্কুল পড়ুয়া রীমা বর্মন মা এবং দাদির আঁকা দেখে দেখে আলপনা আঁকতে শিখেছে। তাই কোনো উৎসব এলেই তার ব্যস্ততা বেড়ে যায় রং-তুলি নিয়ে। তার বয়সি গ্রামের অনেক মেয়েকে আলপনা আঁকার তালিমও দেয় সে।

-ডিডাব্লিউ

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা