kalerkantho

মঙ্গলবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১২ রবিউস সানি     

পাহাড়ের গায়ে কে খোদাই করল এক কোটির একটি কম মূর্তি!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৪ মে, ২০১৭ ১৭:৪২ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



পাহাড়ের গায়ে কে খোদাই করল এক কোটির একটি কম মূর্তি!

ভারতবর্ষের আনাচেকানাচে লুকিয়ে আছে রহস্য। তার শুরু-শেষ মাপতে বসে হদিশ মেলে না। সেরকমই এক বিস্ময় হল ঊনকোটি। ত্রিপুরার গহিন জঙ্গলে পাহাড়ের কোলে এক অপার বিস্ময়।

রাজধানী আগরতলা থেকে ১৭৮ কিমি দূরে ঊনকোটি এখন জাগ্রত শৈব তীর্থক্ষেত্র। জঙ্গলের ভিতরে বিস্তীর্ণ পাহাড়। তাতে খোদাই করা বিভিন্ন হিন্দু দেবদেবী। বলা হয়‚ এখানে খোদিত আছেন ৯৯৯৯৯৯ জন দেবদেবী। অর্থাৎ এক কোটি থেকে এক কম। তাই নাম ঊনকোটি। 


কে বানিয়েছিলেন‚ কেনই বা বানিয়েছিলেন‚ কেউ জানে না। দীর্ঘদিন অনাদরে পড়েছিল এই অনন্য ভাস্কর্য। এখন রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে আছে আর্কিওলজিক্যাল সোসাইটি অফ ইন্ডিয়া।

ইতিহাসবিদদের ধারণা‚ পাল যুগে খ্রিস্টীয় সপ্তম বা অষ্টম শতকে খোদিত হয়েছিল এই মূর্তিগুলো। হয়তো বৌদ্ধ শ্রমণরা আত্মগোপন করে ছিলেন এই নির্জন স্থানে। লোকচক্ষুর আড়ালে তপস্যার সময়ে বানাতেন বিগ্রহ মূর্তি। অগণিত খোদাইয়ের মধ্যে অন্যতম হল ২০ ফিট উঁচু কালভৈরবের বিগ্রহ। আছেন পার্বতী-সহ অন্যান্য দেবীও।


প্রচলিত জনশ্রুতি হল‚ কাল্লু বলে আদিবাসী ভাস্কর বানিয়েছিলেন এত মূর্তি। তিনি নাকি স্বপ্নাদেশ পেয়েছিলেন। স্বয়ং মহাদেব আদেশ করেছিলেন। এক কোটি দেব দেবীর বিগ্রহ বানাতে হবে। এক দিনের মধ্যে। কিন্তু সূর্যোদয়ের সময়ে দেখা যায় একটি তখনও বাকি। কুপিত শিব আর কৈলাসে নিয়ে যাননি ভাস্কর্য। সেই থেকে পড়ে আছে সেগুলো। তবে অন্য এক সূত্র বলে‚ কাল্লু নাকি ইচ্ছে করেই একটি বিগ্রহ কম খোদাই করেছিলেন। যাতে তিনি অহঙ্কারের কবলে না পড়েন।


আজ থেকে ১৩০০-১২০০ বছর আগে কী করে ছেনি-হাতুড়ি-বাটালির মতো সামান্য যন্ত্র দিয়ে সম্ভব হল এই অনিন্দ্যসুন্দর ভাস্কর্য ? তাও আবার বন জঙ্গলে ঢাকা এই দুর্গম জায়গায় ! ত্রিপুরায় গেলে ঘুরে আসুন সেভাবে প্রচারের আলোয় না থাকা ঊনকোটি। দেখে মনে হতেই পারে মাচুপিচু বা আজটেক সভ্যতার কথা।

- ইন্টারনেট

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা