kalerkantho

মঙ্গলবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১২ রবিউস সানি     

সেলফির তোলার অপরাধে যুবকের কারাদণ্ড!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ ১২:৪০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সেলফির তোলার অপরাধে যুবকের কারাদণ্ড!

এবার সেলফি তোলার জেরে ১৮ বছর বয়সী এক তরুণের কারাদণ্ড হয়েছে। অবশ্য তিন দিন পর জামিনে ছাড়া পেয়েছেন তিনি। ভারতের উত্তর প্রদেশে এ ঘটনা ঘটেছে।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়, উত্তর প্রদেশের বুলান্দশাহর জেলার ম্যাজিস্ট্রেট বি চন্দ্রকলার সঙ্গে সেলফি তোলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় যুবক ফারাজ আহমেদকে শেষমেশ কারাগারে যেতে হয়েছে।
ফারাজকে গত সোমবার গ্রেপ্তার করা হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার জামিনে ছাড়া পান তিনি।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বিশাল কুমার বলেন, সোমবার সন্ধ্যায় জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তাঁর কার্যালয়ে স্থানীয় বিভিন্ন বিষয়ে লোকজনের সঙ্গে কথা বলছিলেন। দাপ্তরিক কাজে আসা বেশ কিছু বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তির সঙ্গে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কার্যালয়ে এসেছিলেন ফারাজ। কামালপুর গ্রামের ওই যুবক একপর্যায়ে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে সেলফি তোলার চেষ্টা করেন। তাঁকে কয়েকবার সতর্ক করা হয়েছে। এ কাজ থেকে বিরত থাকতে তাঁকে বেশ কয়েকবার সতর্ক করা হয়। কিন্তু তা কানে তোলেননি তিনি। জুতসই সেলফি তোলার চেষ্টা অব্যাহত রাখেন ওই যুবক। পরে তাঁকে ঘিরে ফেলা হয়। কার্যালয়ের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়। ইতিমধ্যে তোলা সেলফিগুলো মুছে ফেলতে বলা হয় ফারাজকে। এতে তিনি রাজি হননি। উল্টো উপস্থিত কর্মকর্তা ও পুলিশের সঙ্গে হাতাহাতিতে জড়ান। এরপর তাঁকে আটক করে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠায় পুলিশ।
ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় জেলা ম্যাজিস্ট্রেট চন্দ্রকলা বলেন, ওই যুবকের মনে রাখা উচিত ছিল যে তিনি শুধু (চন্দ্রকলা) একজন সরকারি কর্মকর্তাই নন, একজন নারীও। আর নারীর মর্যাদার প্রতি সবারই সম্মান দেখানো উচিত।
স্থানীয় কোটওয়ালী থানায় ফারাজের বিরুদ্ধে মামলা হয়। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাকেশ সিং বলেন, ফারাজের বিরুদ্ধে অপরাধ সংঘটনের অভিপ্রায়ের অভিযোগ আনা হয়। ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। তিন দিন পর তিনি জামিনে ছাড়া পান।
ফারাজের পরিবার গতকাল জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে দেখা করে। তারা জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে মামলাটি খারিজ করার জন্য অনুরোধ করে।
ফারাজের চাচা মোহাম্মদ ইরফান বলেন, ফারাজ একটা ভুল করেছেন। ভুলটা নিঃসন্দেহে শাস্তিযোগ্য। তাঁরা জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে কৃতজ্ঞ। কারণ, তিনি তাঁদের কথা শুনেছেন। তিনি ফারাজকে মাফ করে দিতে রাজি হয়েছেন। ফারাজ ভবিষ্যতে এমন কাজ আর করবেন না বলে নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা