kalerkantho

শনিবার । ২৭ আষাঢ় ১৪২৭। ১১ জুলাই ২০২০। ১৯ জিলকদ ১৪৪১

৭ বছরেই বুড়ি আর ১৮ মাসে বৃদ্ধ

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ ০৮:৪৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



৭ বছরেই বুড়ি আর ১৮ মাসে বৃদ্ধ

অঞ্জলি কুমারীর বয়স মাত্র ৭ বছর। তার ভাই কেশব কুমারের বয়স ১৮ মাস। কিন্তু তাদের দেখে কেউ তাদের শিশু বলে অনুমান করতে পারবেন না। তাদেরকে দেখতে বৃদ্ধ মানুষের মতো। গায়ের চামড়া ঝুলে পড়েছে বুড়ো মানুষের মতো। মুখের চামড়া, চেহারায় পড়েছে বার্ধক্যের ছাপ। কেন এমন হচ্ছে এর কোনো উত্তর নেই তাদের কাছে, তাদের অভিভাবকদের কাছে। তবে চিকিৎসকরাও সাফ জানিয়ে দিয়েছেন এ রোগের কোনো চিকিৎসা নেই। অঞ্জলি ও কেশবের বাড়ি ভারতের ঝাড়খণ্ড রাজ্যের রাচিতে।  ফলে শৈশবেই তাদের বৃদ্ধদের মতো দিনকাল কাটাতে হবে। তাদের সমবয়সীরা তাদেরকে দাদিমা বা দাদা বলে ডাকে। এতে ভীষণ কষ্ট।


অঞ্জলি ও কেশবের পিতা শত্রুঘন রাজাক (৪০)। মা রিঙ্কি দেবী (৩৫)। অঞ্জলির বড় বোনের নাম শিল্পী (১১)। সে সুস্থ আছে। তার মধ্যে এ রোগের কোনো লক্ষণ নেই। তার পিতা শত্রুঘন একজন লন্ড্রিম্যান। মাসে তার আয় মাত্র সাড়ে চার হাজার রুপি।  কিন্তু অঞ্জলির বয়স যখন মাত্র ছয় মাস তখন তারা তাকে একটি হাসপাতালে নিয়ে যান। এ সময়ে অঞ্জলি নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়েছিল। নিউমোনিয়া থেকে সুস্থ হওয়ার পর তার ত্বক শুকিয়ে যেতে থাকে। গায়ের চামড়া ঢিলে হতে থাকে। শিশুদের এমন রোগকে হাচিনসন-গিলফোর্ড প্রোগেরিয়া সিনড্রোম (এইচপিএস) নামেও অভিহিত করা হয়। চিকিৎসকরা বলছেন, জেনেটিক বিশৃঙ্খলতার জন্য এমন হয়ে থাকে। একটি শিশু দ্রুততার সঙ্গে বৃদ্ধের মতো শারীরিক গঠন লাভ করে। বিশ্বজুড়ে প্রতি ৪০ লাখ শিশুর মধ্যে এমন রোগ দেখা যায় একজনের দেহে। এসব শিশু স্বাধারণত ১৩ বছরের বেশি বাঁচে না। চিকিৎসকদের মতে, একটি বিশেষ জিনের একটি এলোমেলো বিন্যাস বা কর্মকাণ্ডের জন্য শরীরে প্রোটিনের সরবরাহ অস্বাভাবিক হয়। এই প্রোটিনকে বলা হয় প্রোগেরিন। খুব সহজে তা ভেঙে যেতে থাকে। তাই জন্মের সময় সুস্থভাবে জন্ম নিলেও এমন জিনগত ত্রুটির কারণে প্রথম বছরের মধ্যেই ওইসব শিশুর দেহে পরিবর্তন লক্ষ করা যায়। প্রথমে যেসব সমস্যা প্রতীয়মান হয় তার মধ্যে রয়েছে- মাথার আকার বিশাল দেখায়। চোখও অনেক বড় বড় দেখায়।


অঞ্জলি দ্রুততার সঙ্গে বৃদ্ধ থেকে বৃদ্ধ হয়ে যাচ্ছে। অঞ্জলি জন্ম নেয়ার ৫ বছর পর শত্রুঘন ও রিঙ্কি সিদ্ধান্ত নেন আরেকটি সন্তান নেবেন তারা। নিলেনও। তার নাম রাখলেন কেশব। প্রথম থেকেই তারা লক্ষ্য করলেন অঞ্জলির মধ্যে যে সমস্যা দেখা দিয়েছে কেশবের মধ্যেও তা বিদ্যমান। শত্রুঘন বলেন, আমরা কেশবকে চিকিৎসকের কাছে নিই নি। কারণ, এ রোগের তো কোনো চিকিৎসা নেই। আমার পরিবার গরিব। বারবার চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার সক্ষমতা আমার নেই। তারা তো অঞ্জলির জন্যই কিছু করতে পারলো না। তাহলে কেশবের কী করবে? মা রিঙ্কি বলেন, অঞ্জলির গা হাত পা সারাক্ষণ ব্যথা করে। তাই সব সময়ই তার পা ম্যাসাজ করে দিতে হয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা