kalerkantho

শনিবার । ১ অক্টোবর ২০২২ । ১৬ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

শিশুর বমি : হতে পারে জটিল রোগের লক্ষণ

শিশুদের বমি করা স্বাভাবিক ব্যাপার। এটি আপনাআপনিই সেরে যায়। তবে কিছু ক্ষেত্রে বমি করার প্রবণতা জটিল কোনো রোগের লক্ষণ রূপেও দেখা দিতে পারে। শিশুর বমি বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন অধ্যাপক ডা. প্রণব কুমার চৌধুরী

২৩ আগস্ট, ২০২২ ১৪:৪০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



শিশুর বমি : হতে পারে জটিল রোগের লক্ষণ

বমি হলেই শিশুদের যখন-তখন অপ্রয়োজনীয় ওষুধ খাওয়ানো যাবে না। শিশুর জন্য অভিভাবকরা দুশ্চিন্তাগ্রস্ত ঠিকই, কিন্তু জেনে রাখা ভালো সব ক্ষেত্রে ওষুধ লাগে না।

 কারণ

নবজাতক ও কম বয়সী শিশুরা প্রতিবার খাবারের সময় কিছু না কিছু বাতাস খেয়ে ফেলে। নবজাতক ও অল্পবয়সী শিশুর বমি করার সর্বাধিক কারণ বেশি পরিমাণে বাতাস খেয়ে ফেলা।

বিজ্ঞাপন

এর বাইরেও বমি করার কিছু কারণ থাকে। যেমন-

♦ শ্বাস ও খাদ্যনালির জন্মগত ত্রুটি

♦ নবজাতকের পায়খানার রাস্তা না থাকা

♦ ঘন ঘন খাবার খাওয়ানো

♦ বদহজম

♦ ভ্রমণ

মেনিনজাইটিস অর্থাৎ মাথার আবরক ঝিল্লির প্রদাহ, এনকেফালাইটিস, ব্রেইন টিউমার, টনসিলাইটিস বা ফ্যারিনজাইটিস, কানপাকা রোগ, হুপিং কাশি, জন্ডিস, মূত্রনালির প্রদাহ, অ্যাপেন্ডিসাইটিস, পেটে নানা ধরনের কৃমি ইত্যাদি অসুখেও বমির মতো লক্ষণ দেখা যায়।

লক্ষণ

কখনো কখনো বমির আড়ালে মারাত্মক অসুখ লুকিয়ে থাকে। বমির সঙ্গে যেসব লক্ষণ দেখে সতর্ক হতে হবে—

♦ বমির সঙ্গে জ্বর

♦ চরম পানি স্বল্পতা

♦ বুকের দুধ পান করে না বা পানি পানে অপারগতা

♦ ত্বকে র‌্যাশ

♦ মাথার চাঁদি ফুলে যাওয়া

♦ শ্বাসকষ্ট

♦ খিঁচুনি

♦ বমিতে রক্ত বা পিত্তরস

♦ খাওয়ার আধাঘণ্টার মধ্যে বেশ জোরের সঙ্গে বমি

ওপরের লক্ষণগুলো দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

করণীয়

প্রাথমিক ব্যবস্থাপনা হিসেবে বুকের দুধ পান চালিয়ে যাওয়া, তরল খাবার ও পানীয় পান করা, প্রতি ঘণ্টায় কয়েকবার খাবার স্যালাইন পান করানো উচিত। কোনো খাবার খাওয়ানোর পর সঙ্গে সঙ্গে বমি করে দিলে দ্বিতীয়বার ওই খাবার দেওয়ার ব্যাপারে সতর্ক থাকুন। কারণ না জেনে বমির ওষুধ দেওয়া থেকে বিরত থাকুন। শিশু যদি নিস্তেজ হয়ে পড়ে, তাহলে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

লেখক
সাবেক বিভাগীয় প্রধান
শিশুস্বাস্থ্য বিভাগ
চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল



সাতদিনের সেরা