• ই-পেপার

জিরার যত গুণ

জাতীয় আম দিবস আজ, ফলের রাজাকে ঘিরে যত জানা-অজানা

জীবনযাপন ডেস্ক
জাতীয় আম দিবস আজ, ফলের রাজাকে ঘিরে যত জানা-অজানা
সংগৃহীত ছবি

গ্রীষ্মের সবচেয়ে জনপ্রিয় ফলের নাম আম। স্বাদ, গন্ধ আর পুষ্টিগুণে ছোট-বড় সবার কাছেই এটি প্রিয়। শুধু সুস্বাদু ফল হিসেবেই নয়, ইতিহাস, সংস্কৃতি ও অর্থনৈতিক গুরুত্বের কারণেও আমকে বিশেষ মর্যাদা দেওয়া হয়। সেই গুরুত্ব তুলে ধরতেই প্রতি বছর ২২ জুলাই পালিত হয় জাতীয় আম দিবস।

দিবসটির সূচনা ভারতে হলেও পরে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ম্যাঙ্গো বোর্ড এটি উদযাপনে যুক্ত হয়। বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও দিনটি নানা আয়োজনে পালন করা হয়।

ইতিহাস বলছে, প্রায় ৫ হাজার বছর আগে ভারতে প্রথম আমের চাষ শুরু হয়। পরে মানুষের যাতায়াত ও বাণিজ্যের মাধ্যমে আম মধ্যপ্রাচ্য, পূর্ব আফ্রিকা এবং দক্ষিণ আমেরিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে বিশ্বের প্রায় অর্ধেক আম উৎপাদন হয় ভারতে।

বাংলাদেশ রয়েছে বিশ্বের শীর্ষ আম উৎপাদনকারী দেশের তালিকায়। আর চীন দ্বিতীয় বৃহত্তম উৎপাদক। 

আম শুধু একটি ফল নয়, অনেক দেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যেরও অংশ। ভারত, পাকিস্তান ও ফিলিপাইনের জাতীয় ফল হলো আম। আর বাংলাদেশের জাতীয় বৃক্ষ আমগাছ।

বিশ্বজুড়ে এক হাজারেরও বেশি জাতের আম রয়েছে। এর মধ্যে আতাউলফো (হানি ম্যাঙ্গো), হেডেন, আরউইন ও টমি অ্যাটকিনস আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত। কোনো আম খুব মিষ্টি, কোনোটি টক-মিষ্টি, আবার কোনোটি স্মুদি বা জুস তৈরির জন্য বেশি উপযোগী।

স্বাদের পাশাপাশি পুষ্টিগুণেও সমৃদ্ধ আম। এতে রয়েছে ভিটামিন সি, ভিটামিন এ, ভিটামিন বি-৬, ভিটামিন কে, পটাশিয়াম, খাদ্যআঁশ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। একটি আম শরীরের দৈনিক প্রয়োজনীয় ভিটামিন সি-এর বড় অংশ পূরণ করতে পারে। এসব পুষ্টি রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে, চোখের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে এবং হজমে সহায়তা করে।

বিশ্বে বছরে প্রায় ২ কোটি টন আম উৎপাদিত হয়। একটি আমগাছ ১০০ থেকে ১৩০ ফুট পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। আবার অনেক আমগাছ ৩০০ বছর পর্যন্ত বেঁচে থেকে ফল দিতে পারে।

ভারতে আমের ঝুড়ি বন্ধুত্বের প্রতীক হিসেবে ধরা হয়। দেশটিতে ১৯৮৭ সাল থেকে প্রতি বছর দিল্লিতে আন্তর্জাতিক আম উৎসবও অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

এই দিবস উদযাপনের সহজ উপায় হলো প্রিয়জনদের সঙ্গে আম খাওয়া, নতুন নতুন আমের রেসিপি তৈরি করা বা স্থানীয় কৃষকদের উৎপাদিত আম কেনা। চাইলে পরিবার বা বন্ধুদের নিয়ে ছোট্ট একটি 'ম্যাঙ্গো পার্টি'ও আয়োজন করা যেতে পারে।

জাতীয় আম দিবস শুধু একটি ফল উদযাপনের দিন নয়। এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়, একটি ফলের সঙ্গে জড়িয়ে আছে হাজার বছরের ইতিহাস, পুষ্টিগুণ, কৃষকের জীবিকা এবং সংস্কৃতির এক সমৃদ্ধ গল্প।

আধুনিক জীবনের জন্য তৈরি নয় মানুষের মস্তিষ্ক, বলছেন বিজ্ঞানীরা

জীবনযাপন ডেস্ক
আধুনিক জীবনের জন্য তৈরি নয় মানুষের মস্তিষ্ক, বলছেন বিজ্ঞানীরা
সংগৃহীত ছবি

আজকের দ্রুতগতির জীবন, সারাক্ষণ ইন্টারনেট ব্যবহার এবং প্রযুক্তিনির্ভর জীবনযাত্রার সঙ্গে মানুষের মস্তিষ্ক পুরোপুরি মানিয়ে নিতে পারছে না। সিঙ্গাপুরের একদল গবেষকের নতুন গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে।

বুধবার (২২ জুলাই) এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

বিহেভিয়ারাল সায়েন্সেস সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষণায় বলা হয়েছে, মানুষের মস্তিষ্ক আজকের আধুনিক পরিবেশে নয়, বরং হাজার হাজার বছর আগে ছোট ছোট দল বা সম্প্রদায়ে বসবাসের পরিবেশে গড়ে উঠেছে। তখন মানুষের সামনে ছিল সীমিত মানুষ, পরিচিত পরিবেশ এবং তাৎক্ষণিক সমস্যার মোকাবেলার চ্যালেঞ্জ।

কিন্তু এখনকার জীবন সম্পূর্ণ ভিন্ন। বড় শহরের ব্যস্ততা, সারাক্ষণ অনলাইনে থাকা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার এবং অন্যের জীবনের সঙ্গে নিজের তুলনা করার প্রবণতা মানুষের ওপর বাড়তি মানসিক চাপ তৈরি করছে।

গবেষকদের মতে, এ কারণেই বর্তমানে অনেক মানুষ দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ, উদ্বেগ, একাকিত্ব এবং ক্লান্তিতে ভুগছেন। তাদের ভাষায়, এসব সমস্যা শুধু ব্যক্তিগত দুর্বলতার কারণে নয়। মানুষের মস্তিষ্ক যেভাবে বিবর্তিত হয়েছে, আধুনিক জীবন তার সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

গবেষণায় আরো বলা হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তন, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, মহামারি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) দ্রুত অগ্রগতি—সব মিলিয়ে মানুষের ওপর একসঙ্গে নানা ধরনের চাপ তৈরি হচ্ছে। এতে অনিরাপত্তাবোধ বাড়ছে, প্রতিযোগিতার চাপও বাড়ছে। অনেকেই মানসিকভাবে ক্লান্ত বা বার্নআউটের শিকার হচ্ছেন।

গবেষকদের পরামর্শ, মানুষের মানসিক চাহিদার কথা মাথায় রেখে শহর, কর্মস্থল ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম পরিকল্পনা করা উচিত। শহরে আরো সবুজ জায়গা, কম চাপের পরিবেশ এবং এমন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম দরকার, যেখানে অপ্রয়োজনীয় প্রতিযোগিতা কম থাকবে। এতে মানুষের মানসিক সুস্থতা উন্নত হতে পারে।

তবে গবেষকরা বলেছেন, এই বিষয়ে আরো বাস্তবভিত্তিক গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে। তাদের বিশ্বাস, মানুষের বিবর্তন এবং আধুনিক জীবনের পার্থক্য ভালোভাবে বুঝতে পারলে ভবিষ্যতে মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষায় আরো কার্যকর পরিকল্পনা নেওয়া সম্ভব হবে।

ভ্যান গঘের সবচেয়ে দামি ১০ চিত্রকর্ম

সৈয়দা আশাপূর্ণা
ভ্যান গঘের সবচেয়ে দামি ১০ চিত্রকর্ম
নিলামে বিক্রি হওয়া ভ্যান গঘের সেরা ১০টি সবচেয়ে দামি চিত্রকর্ম।

জীবদ্দশায় দারিদ্র্য ও তীব্র মানসিক যন্ত্রণার সঙ্গে লড়াই করা ভিনসেন্ট ভ্যান গঘ বেঁচে থাকতে বিক্রি করতে পেরেছিলেন মাত্র একটি চিত্রকর্ম! অথচ মৃত্যুর শতবর্ষ পেরিয়ে আজ আন্তর্জাতিক নিলাম বাজারে ক্যানভাসে আঁকা তার একেকটি তুলির আঁচর মানেই শত শত কোটি টাকার মহাকাব্য। আর্ট সংগ্রাহকদের হাত ঘুরে বছরে দু-একটি ছবি আলোয় এলেই সেখানে তৈরি হয় টাকার পাহাড় আর নতুন ইতিহাস।

সম্প্রতি ভ্যান গঘের চিত্রকর্ম নিয়ে প্রকাশিত এক বিশেষ অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দেখা গেছে, নিলামের ইতিহাসে তার সবচেয়ে দামি ১০টি ছবির প্রতিটির মূল্যই চোখধাঁধানো ৫০ মিলিয়ন বা ৫ কোটি মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে গেছে—বাংলা টাকায় যা প্রায় ৬০০ কোটি টাকারও বেশি!

তবে এই নিলামযুদ্ধের সবচেয়ে আশ্চর্যের ব্যাপার হলো—ভ্যান গঘ নাম বললেই চোখে ভেসে ওঠা বিশ্বখ্যাত ‘সানফ্লাওয়ার্স’ (সূর্যমুখী) স্থানই পায়নি সেরা ১০ দামি ছবির তালিকায়!

ক্যানভাসের ক্যানভাস টপকে কোটি টাকার রেকর্ড গড়ে তোলা ভ্যান গঘের সেই ১০টি মাস্টারপিসের বিস্তারিত নিচে তুলে ধরা হলো:

১০. ল্যান্ডস্কেপ আন্ডার স্টর্মি স্কাই ($৫৪ মিলিয়ন / প্রায় ৬ ৪৮ কোটি টাকা)

hhhh
ভ্যান গঘের ‘ল্যান্ডস্কেপ আন্ডার স্টর্মি স্কাই’ (এপ্রিল ১৮৮৯)

নিজের কান কাটার পর এবং আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে ১৮৮৯ সালের এপ্রিলে আরলেসে বসে এই ছবিটি একেছিলেন ভ্যান গঘ। বসন্তের ফুলে ভরা সবুজ মাঠ, বাম পাশে হেঁটে যাওয়া একটি দম্পতি এবং ওপরে এক নাটকীয় আকাশ ফুটে উঠেছে এই ক্যানভাসে। ২০১৫ সালে নিউ ইয়র্কের সোদেবিসে এটি ৫৪ মিলিয়ন ডালারে বিক্রি হয়।

৯. আইরিসেস ($৫৪ মিলিয়ন/প্রায় ৬ ৪৮ কোটি টাকা)

ll
ভ্যান গঘের ‘আইরিসেস’ (মে ১৮৮৯)

আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা অবস্থায় ভ্যান গঘের আঁকা প্রথম ছবিগুলোর একটি ‘আইরিসেস’ (মে ১৮৮৯)। ১৯৮৭ সালে সোদেবিসে এটি ৫৪ মিলিয়ন ডালারে বিক্রি হলেও বিজয়ী ক্রেতা অস্ট্রেলিয়ান ব্যবসায়ী অ্যালান বন্ড অর্থ পরিশোধ করতে পারেননি। পরবর্তীতে ১৯৯০ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার ‘জে পল গেটি মিউজিয়াম’ প্রাইভেট চুক্তিতে ছবিটি কিনে নেয়।

৮. পপিস অ্যান্ড ডেইজিস ($৬২ মিলিয়ন / প্রায় ৭৪৪ কোটি টাকা)

nnn
ভ্যান গঘের ‘পপিস অ্যান্ড ডেইজিস’ (জুন ১৮৯০)

১৮৯০ সালে আত্মহত্যার মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে এই রঙিন স্থিরচিত্রটি (Still Life) শেষ করেছিলেন শিল্পী। ২০১৪ সালে নিউ ইয়র্কের সোদেবিসে এটি ৬২ মিলিয়ন ডালারে বিক্রি হয়। ছবিটি কিনে নেন চীনের বিনোদন জগতের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ওয়াং ঝংজুন।

৭. প্যারিসিয়ান নভেলস ($৬৩ মিলিয়ন / প্রায় ৭৫৬ কোটি টাকা)

hh
ভ্যান গঘের ‘প্যারিসিয়ান নভেলস’ (নভেম্বর-ডিসেম্বর ১৮৮৭)

টেবিলে ছড়িয়ে থাকা হলুদ প্রচ্ছদের বই নিয়ে আঁকা চিত্রকর্মটি ২০২৫ সালের শেষে সোদেবিসের নিলামে ৬৩ মিলিয়ন ডালারে বিক্রি হয়। সাধারণত প্রোভেন্স পর্বের ছবিগুলো চড়া দামে বিক্রি হলেও, এটি ভ্যান গঘের প্যারিস পর্বের ছবির মধ্যে সবচেয়ে বেশি দামের নতুন রেকর্ড গড়েছে। এটিও একজন এশীয় ক্রেতার কাছে গেছে বলে জানা যায়।

৬. দ্য এভিনিউ অব লে অ্যালিসক্যাম্পস ($৬৬ মিলিয়ন / প্রায় ৭৯২ কোটি টাকা)

jjj
ভ্যান গঘের ‘দ্য এভিনিউ অব লে অ্যালিসক্যাম্পস’ (নভেম্বর ১৮৮৮)

বন্ধু পল গগ্যাঁ আরলেসে আসার মাত্র কয়েক দিন পর ছবিটি এঁকেছিলেন ভ্যান গঘ। ২০০৩ সালে যা ক্রিস্টিসে মাত্র ১২ মিলিয়নে বিক্রি হয়েছিল, ২০১৫ সালের সোদেবিস নিলামে তার দাম বেড়ে দাঁড়ায় ৬৬ মিলিয়ন ডালারে! পাঁচ গুণেরও বেশি দামে ছবিটি কিনে নেন এক বেনামী চীনা সংগ্রাহক।

৫. উডেন কেবিনস এমং দ্য অলিভ ট্রিস অ্যান্ড সাইপ্রেসেস ($৭১ মিলিয়ন / প্রায় ৮৫২ কোটি টাকা)

ll
ভ্যান গঘের ‘উডেন কেবিনস এমং দ্য অলিভ ট্রিস অ্যান্ড সাইপ্রেসেস’ (অক্টোবর ১৮৮৯)

জলপাই গাছ ও সাইপ্রেসের মাঝে কাঠের কুঁড়েঘরের এই অসাধারণ ও কম পরিচিত ল্যান্ডস্কেপ চিত্রকর্মটি ২০২১ সালে ক্রিস্টিসের নিলামে ৭১ মিলিয়ন ডালারে বিক্রি হয়। এটি লন্ডনের এক আর্ট অ্যাডভাইজরি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে গোপন এক সংগ্রাহক কিনে নেন।

৪. সেলফ-পোর্ট্রেট উইদাউট আ বিয়ার্ড ($৭২ মিলিয়ন / প্রায় ৮৬৪ কোটি টাকা)

ll
ভ্যান গঘের ‘সেলফ-পোর্ট্রেট উইদাউট আ বিয়ার্ড’ (সেপ্টেম্বর ১৮৮৯)

১৯৯৮ সালে যখন এটি নিলামে ওঠে, তখন ‘দাড়ি ছাড়া আত্মপ্রতিকৃতি’ ছবিটির দাম ৭২ মিলিয়ন ডালারে পৌঁছেছিল (আজকের হিসেবে যা প্রায় ১৫০ মিলিয়ন ডলার বা ১৮০০ কোটি টাকা)। ভ্যান গঘের মাত্র দুটি আত্মপ্রতিকৃতি এখন ব্যক্তিমালিকানায় রয়েছে। এটি তিনি আশ্রয়কেন্দ্রে বসে তার মায়ের ৭০তম জন্মদিনের উপহার হিসেবে এঁকেছিলেন।

৩. লেবারার ইন আ ফিল্ড ($৮১ মিলিয়ন / প্রায় ৯৭২ কোটি টাকা)

ll
ভ্যান গঘের ‘লেবারার ইন আ ফিল্ড’ (সেপ্টেম্বর ১৮৮৯)

আশ্রয়কেন্দ্রের শোবার ঘরের জানালার দৃশ্য থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে ছবি টি এঁকেছিলেন ভ্যান গঘ। প্রখর সূর্যের নিচে এক চাষী কাজ করছেন—এমন দৃশ্য সংবলিত এই ছবিটি ২০১৭ সালে নিউ ইয়র্কের ক্রিস্টিসে ৮১ মিলিয়ন ডালারে বিক্রি হয়।

২. পোর্ট্রেট অব ডা. পল গ্যশে ($৮৩ মিলিয়ন / প্রায় ৯৯৬ কোটি টাকা)

yy
ভ্যান গঘের ‘পোর্ট্রেট অব ডা. পল গ্যশে’ (জুন ১৮৯০)

দীর্ঘ ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ভ্যান গঘের সবচেয়ে দামি ছবির রেকর্ড ধরে রেখেছিল এটি। ১৯৯০ সালে ক্রিস্টিসের নিলামে ৮৩ মিলিয়ন ডালারে বিক্রি হয়ে তৎকালীন সময়ের সবচেয়ে দামি শিল্পের রেকর্ড গড়েছিল। মুদ্রাস্ফীতি হিসাব করলে আজকের দিনে এর প্রকৃত দাম দাঁড়ায় প্রায় ২১০ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ২৫২০ কোটি টাকা)! ফলে প্রকৃত মূল্যের বিচারে এটিই এখনও সবচেয়ে দামি ভ্যান গঘ।

১. অর্চার্ড উইথ সাইপ্রেসেস ($১১৭ মিলিয়ন / প্রায় ১৪০৪ কোটি টাকা)

ll
ভ্যান গঘের 'অর্চার্ড উইথ সাইপ্রেসেস' (এপ্রিল ১৮৮৮)

২০২২ সালে নিউ ইয়র্কের ক্রিস্টিসে মাইক্রোসফটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত পল অ্যালেনের সংগ্রহ থেকে ছবিটি ১১৭ মিলিয়ন ডালারে বিক্রি হয়। ১৮৮৮ সালে আরলেসে পৌঁছানোর পর বসন্তের ফুল নিয়ে আঁকা সিরিজের অংশ এটি। বর্তমানে এটিই ভ্যান গঘের সবচেয়ে দামি চিত্রকর্মের শীর্ষে অবস্থান করছে।

তালিকায় কেন নেই ‘সানফ্লাওয়ার্স’?

tgtg
ভ্যান গঘের ‘সানফ্লাওয়ার্স’ (জানুয়ারি ১৮৮৯)

১৯৮৭ সালে যখন লন্ডনে ভ্যান গঘের বিখ্যাত ‘সানফ্লাওয়ার্স’ (সূর্যমুখী) নিলামে ওঠে, তখন সেটি বিক্রি হয়েছিল ৪০ মিলিয়ন ডালারে (বাংলা টাকায় প্রায় ৪৮০ কোটি টাকা)। তৎকালীন সময়ে যেকোনো আধুনিক আর্টের জন্য এটি রেকর্ড সৃষ্টি করলেও, পরবর্তী দশকগুলোতে চিত্রকর্মের বাজার দর বহু গুণ বৃদ্ধি পাওয়ায় এটি মূল শীর্ষ ১০ থেকে পিছিয়ে পড়েছে। ছবিটি বর্তমানে টোকিওর ‘সোম্পো মিউজিয়াম অব আর্ট’-এ সংরক্ষিত রয়েছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এটি যদি আবার কখনো নিলামে ওঠে, তবে নিশ্চিতভাবেই কয়েকশো মিলিয়ন ডালারে বিক্রি হবে।

মাত্র একটি খাবারেই মুক্তি মিলবে কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে

অনলাইন ডেস্ক
মাত্র একটি খাবারেই মুক্তি মিলবে কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে
ছবি : এআই দিয়ে তৈরি

কোষ্ঠকাঠিন্য খুবই সাধারণ একটি সমস্যা। অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস, কম পানি পান, আঁশযুক্ত খাবারের অভাব কিংবা অনিয়মিত জীবনযাপনের কারণে অনেকেই এ সমস্যায় ভোগেন। কখনো ওষুধের প্রয়োজন হলেও বেশির ভাগ ক্ষেত্রে জীবনযাপনে পরিবর্তন এবং কিছু প্রাকৃতিক খাবারই স্বস্তি দিতে পারে। খবর হিন্দুস্তান টাইমস

ভারতের পুষ্টিবিদ দীপশিখা জৈন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে এমন একটি খাবারের কথা জানিয়েছেন, যা কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে প্রাকৃতিক জোলাপের মতো কাজ করতে পারে। তার মতে, শুকনো কালো আলুবোখারা নিয়মিত খেলে অন্ত্রের কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করে।

কেন উপকারী শুকনো আলুবোখারা

দীপশিখা জৈনের ভাষ্য, শুকনো কালো আলুবোখারায় সরবিটল নামের একটি প্রাকৃতিক উপাদান থাকে। এটি মলকে নরম করতে সাহায্য করে, ফলে মলত্যাগ সহজ হয় এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা কমতে পারে। এ কারণে অনেকেই একে প্রাকৃতিক জোলাপ হিসেবে বিবেচনা করেন। শুকনো আলুবোখারা মূলত সংরক্ষণের জন্য পানি শূন্য করা বরইজাতীয় ফল। এটি রান্নায়, বিশেষ করে বিরিয়ানি বা বিভিন্ন মাংসের পদে ব্যবহার করা হলেও স্বাস্থ্যগত উপকার পেতে এটি আলাদাভাবে খাওয়াই ভালো বলে জানিয়েছেন পুষ্টিবিদ।

দীপশিখা জৈনের পরামর্শ, চার থেকে পাঁচটি শুকনো কালো আলুবোখারা রাতে পানিতে ভিজিয়ে রেখে সকালে খালি পেটে খেতে পারেন। এতে কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে স্বস্তি পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।

আলুবোখারার অন্যান্য উপকারিতা

বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে শুকনো আলুবোখারা খেলে—

  • হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়তা করে।
  • শরীরে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের জোগান দেয়।
  • অন্ত্রের উপকারী জীবাণুর ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।
  • কোষ্ঠকাঠিন্য ও মূত্রথলির সমস্যায় উপকার পেতে পারেন।
  • রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।

তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দেন, দীর্ঘদিন কোষ্ঠকাঠিন্য, তীব্র পেটব্যথা, রক্তপাত বা ওজন কমে যাওয়ার মতো উপসর্গ থাকলে শুধু ঘরোয়া উপায়ে নির্ভর না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

জিরার যত গুণ | কালের কণ্ঠ