লিভার আমাদের শরীরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। অথচ অসচেতনতার কারণে এই লিভারেই যখন অতিরিক্ত চর্বি জমে, তখন তা রূপ নেয় ফ্যাটি লিভারে। সঠিক সময়ে এর যত্ন না নিলে রোগটি ক্রমান্বয়ে লিভার সিরোসিস বা ক্যান্সারের মতো মারাত্মক পর্যায়ে রূপ নিতে পারে, যা ডেকে আনে মৃত্যু।
সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হলো, ফ্যাটি লিভার প্রতিরোধের চাবিকাঠি কোনো ডাক্তারের প্রেসক্রিপশনে নয়, বরং লুকিয়ে আছে আপনার নিজের হাতে। রক্তে অতিরিক্ত চর্বি, অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস, অতিরিক্ত ওজন কিংবা ভুল জীবনযাত্রার কারণে এই রোগ বাসা বাঁধে শরীরে। তবে ভয়ের কিছু নেই; লিভার বিশেষজ্ঞ ডা. রোকসানা বেগমের মতে, লাইফস্টাইলে মাত্র ৩টি সাধারণ কিন্তু কার্যকরী পরিবর্তন এনে আপনি খুব সহজেই ফ্যাটি লিভার সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেন।
মূলত, শর্করা এবং ফ্যাট বিপাক ক্রিয়ার নানা অসামঞ্জস্যতার ফলে এই রোগ হয়।
- ওজন নিয়ন্ত্রণ
ফ্যাটি লিভার থেকে মুক্তি পেতে ওজন কমানো সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি। যাদের ওজন বেশি, তারা যদি মাত্র ৭-১০% ওজন কমাতে পারেন তবে ফ্যাটি লিভার থেকে খুব দ্রুতই মুক্তি সম্ভব। তবে মনে রাখবেন, না খেয়ে বা কোনো মেডিসিনের মাধ্যমে খুব দ্রুত ওজন কমানোর চেষ্টা করবেন না, এতে লাভের চেয়ে ক্ষতিই বেশি। আপনার ওজন যেমন ১ দিনে বা ৭ দিনে বাড়েনি তাই, ওজন কমানোর ক্ষেত্রে অবশ্যই আপনাকে সময় দিতে হবে। সঠিক খাবার গ্রহণ সেই সঙ্গে নিয়মিত ব্যায়াম আপনাকে আপনার কাঙ্ক্ষিত ওজন অর্জনে সহায়তা করবে।
- পানি
যকৃত বা লিভার ভালো রাখার সবচেয়ে ভালো উপায় হচ্ছে পানি পান করা। লিভার ভালো রাখতে অবশ্যই সঠিক পরিমাণে বিশুদ্ধ পানি পান করা আবশ্যক। সুতরাং, অস্বাস্থ্যকর পানীয় যেমন কার্বোনেটেড বেভারেজ বা রাস্তার মোড়ে থাকা শরবত পানের অভ্যাস থাকলে আজ থেকে বাদ দিন এবং বিশুদ্ধ পানি পান করুন এবং আপনার যকৃতকে ভালো রাখুন।
- খাদ্যাভাসে পরিবর্তন
যেকোনো রোগ থেকে বাঁচার জন্য খাদ্যভাসে পরিবর্তন আনার কোনো বিকল্প নেই। একজন মানুষের ওজন, উচ্চতা, পরিশ্রমের ধরন, শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে নিয়মিত সুষম এবং পুষ্টিকর খাবার খাওয়া উচিত। বিভিন্ন রঙের শাকসবজি, ফল, লাল আটার রুটি বা লাল চালের ভাত এবং সঠিক পরিমাণে প্রোটিন, খাদ্য তালিকায় প্রতিদিন রাখতে হবে। চিনি এবং চর্বি জাতীয় খাবার বাদ দিতে হবে।
নিয়মিত স্বাস্থ্যসম্মত ও পুষ্টিকর খাবার সঠিক পরিমাণে গ্রহণ করলে ডায়াবেটিস, ওজন নিয়ন্ত্রণ বা লিপিড প্রোফাইল ঠিক রাখা কোনো কঠিন বিষয় নয়। আর এই কাজগুলো সঠিকভাবে করতে পারলে লিভার থেকে ফ্যাট খুব সহজে দূর হবে। মনে রাখবেন, লিভার ভালো রাখতে ফিট থাকার কোনো বিকল্প নেই।





