kalerkantho

শনিবার । ১৫ মাঘ ১৪২৮। ২৯ জানুয়ারি ২০২২। ২৫ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

শীতের অসুখ, নিরাপদ থাকতে করণীয়

ডা. মো. মাসুদ আলম, সিনিয়র ফিজিশিয়ান, উত্তরা আধুনিক মেডিক্যাল কলেজ

অনলাইন ডেস্ক   

৪ ডিসেম্বর, ২০২১ ১০:০৫ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



শীতের অসুখ, নিরাপদ থাকতে করণীয়

মডেল : মালিহা সুলতানা

এই সময়ে উপযুক্ত তাপমাত্রার কারণে বাতাসে ধুলাবালির পরিমাণ বেড়ে যায়। বাতাসের এই অতিরিক্ত  ধূলিকণা আমাদের শ্বাসতন্ত্রের নানা রোগের কারণ। শীত এলেই আমরা কিছু সমস্যার কথা শুনি। যেমন—সর্দি-কাশি, কোল্ড অ্যালার্জি, যা আমাদের কাছে ‘কমন কোল্ড’ নামে পরিচিত।

বিজ্ঞাপন

ইনফ্লুয়েঞ্জা, ডায়রিয়া ছাড়াও আরো নানা রোগের প্রকোপ এ সময় বাড়তে পারে। আর এর সঙ্গে বর্তমান বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসের সংক্রমণ তো আছেই। সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে এগুলো অনেক সময় মারাত্মক সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। শীত মৌসুমে সবারই একটু অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্ক মানুষের প্রতি বিশেষ দৃষ্টি দিতে হবে। একটু সতর্কতা আপনাকে দিতে পারে সুরক্ষা।

কমন কোল্ড থেকে সাবধান
কমন কোল্ড—ইনফ্লুয়েঞ্জা, হাঁপানি, পোস্ট-কভিড ও শ্বাসতন্ত্রের অন্যান্য রোগের প্রধান কারণ বিভিন্ন ধরনের ভাইরাস। এ ছাড়া কিছু ব্যাকটেরিয়া ও ফাঙ্গাসও দায়ী এসব রোগের জন্য। আমাদের শরীরে রোগ প্রতিরোধের জন্য কিছু এনজাইম থাকে, যেগুলো শীতকালে তাপমাত্রা কমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কিছুটা কমে যায়। ফলে এ ধরনের শ্বাসতন্ত্রের রোগে যাঁরা আগে থেকেই ভুগছেন, অন্যদের তুলনায় তাঁদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে কিছুটা বেশি। এ জন্য শীতের এই শুরুতে একটু বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করবেন। কারণ এখন আমরা বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। মাস্ক ব্যবহার ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার কোনো বিকল্প নেই। যাঁরা কমন কোল্ডে ভুগছেন তাঁদের হালকা জ্বর, শরীর ব্যথা হওয়া, শরীর ম্যাজম্যাজ করা, দুর্বল লাগা ও ক্ষুধা মন্দা দেখা দিতে পারে। প্রাথমিকভাবে কমন কোল্ডের জন্য অ্যান্টিহিস্টামিন ও প্যারাসিটামল খেতে পারেন। এ ছাড়া নাক বন্ধ থাকলে বা নাক দিয়ে পানি পড়লে নাকের ড্রপ ব্যবহার করতে পারেন, খেয়াল রাখবেন নাকের ড্রপ বড়দের ও ছোটদের ক্ষেত্রে আলাদা আলাদা হতে হবে। একজনেরটা অন্যজন ব্যবহার করা যাবে না। এ ছাড়া বাড়িতে মধু, লেবু, আদা, কালিজিরা দিয়ে কুসুম গরম পানি বা চা পান করতে পারেন।

এই সময় বেশি আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে বাচ্চা ও বয়স্ক মানুষের। যাঁরা আগে থেকে বিভিন্ন সমস্যায় ভুগছেন তাঁদের শীতের এই সময়ে নিয়মিত ডাক্তারের ফলোআপে থাকা উচিত। হাঁপানি ও অন্যান্য শ্বাসতন্ত্রের রোগীরা নিয়মিত ওষুধ চালিয়ে যাবেন ও ইনহেলার ব্যবহার করবেন। এ ছাড়া শ্বাসতন্ত্রের বিভিন্ন সমস্যায় ভুগতে থাকা রোগীরা ওষুধ চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি বিশেষজ্ঞের সঙ্গে পরামর্শ করে দরকারি ভ্যাকসিনগুলো নিয়ে নিতে পারেন। ইনফ্লুয়েঞ্জা ভ্যাকসিন, কভিড-১৯ ভ্যাকসিনগুলো আমাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

শ্বাসতন্ত্রের রোগগুলো সাধারণত হাঁচি-কাশি-সর্দি এসবের মাধ্যমে ছড়ায়। তাই কারো এই লক্ষণ দেখা দিলে অবশ্যই বাসায় থাকুন।

নাক বন্ধ সমস্যায় ভুগলে
নাক বন্ধের জন্য নিয়মিত ড্রপ ব্যবহার করা উচিত নয়। ড্রপ দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে নাকের মধ্যে ঝিল্লির আর্দ্রতা শুকিয়ে যেতে পারে। তাই বেশিদিন নাক বন্ধ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

ডায়রিয়া হলে
ঠাণ্ডার কারণে অনেক সময় শিশুদের, এমনকি বড়দেরও পাতলা পায়খানা হতে দেখা যায়। বিশেষ করে যখন বেশি ঠাণ্ডা পড়ে, তখন বয়স্কদেরও পাতলা পায়খানা হয়ে থাকে। এ সময় খাবারের ক্ষেত্রে সতর্ক হওয়া উচিত। বাইরের খাবার একেবারে খাওয়া যাবে না।

অ্যালার্জির সমস্যা থাকলে

►      শীতের সকালে বা রাতে ঠাণ্ডা বাতাস এড়িয়ে চলবেন। এই সময় গরম-ঠাণ্ডার সঙ্গে একটু মানিয়ে নেওয়া প্রয়োজন।

►      গোসল করার পর তাড়াতাড়ি চুল শুকিয়ে ফেলবেন।

►      ভেজা কাপড় পরে বেশিক্ষণ থাকা যাবে না।

►      বাসায় ঝুল পরিষ্কার করা থেকে বিরত থাকুন। ধুলাবালি জমে এমন মাদুর ব্যবহার করা যাবে না।

►      নাক পরিষ্কার রাখতে হবে। ওজু করার সময় যেভাবে নাক পরিষ্কার করে সেভাবেও করতে পারেন।

►      যাঁদের অ্যালার্জি আছে, তাঁরা উলের কাপড় পরিহার করুন। কারণ উলের কাপড়ে অনেক বেশি অ্যালার্জি হয়।

►      গরম কাপড় ব্যবহার করুন।

►      যাঁদের গলায় ব্যথা হয় তাঁদের কুসুম গরম পানিতে লবণ দিয়ে কুলকুচা করা উচিত।



সাতদিনের সেরা