kalerkantho

শনিবার । ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ২৭ নভেম্বর ২০২১। ২১ রবিউস সানি ১৪৪৩

শিশুর উচ্চতা ঠিকমতো বাড়ছে কি না যেভাবে বুঝবেন

অনলাইন ডেস্ক   

১৫ নভেম্বর, ২০২১ ১৩:৩৫ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



শিশুর উচ্চতা ঠিকমতো বাড়ছে কি না যেভাবে বুঝবেন

বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে শিশুদের উচ্চতাও বাড়ে। কিন্তু সঠিক যত্ন, সুষম খাবারসহ নানা কারণে উচ্চতার হেরফের হতে পারে। করণীয় কী? পরামর্শ দিয়েছেন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের শিশু বিশেষজ্ঞ ও সহযোগী অধ্যাপক ডা. শামীমা ইয়াসমীন। লিখেছেন আতিফ আতাউর

জন্মের পর কয়েক বছরে বেশ ভালোই বেড়ে উঠেছিল আদিয়ান বিন সাদ। কিন্তু বছর দুয়েক ধরে বয়স বাড়ার সঙ্গে উচ্চতা বাড়ছে না। বিষয়টি নিয়ে অফিসের এক সহকর্মীর সঙ্গে আলাপ করেন সাদের মা। তার পরামর্শ মোতাবেক এক শিশু বিশেষজ্ঞের কাছে গেলে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তিনি জানান, হরমোনগত সমস্যার কারণে উচ্চতা বৃদ্ধি আটকে আছে সাদের। চিকিৎসা নিলে অল্প দিনের মধ্যেই সাদের উচ্চতা আবার বাড়তে শুরু করে। হাঁপ ছেড়ে বাঁচেন সাদের মা-বাবা।

যেসব শিশুর বৃদ্ধি ব্যাহত হয় তারা বয়সের তুলনায় অনেক খাটো থাকে। শিশুর খর্বাকার গঠনের পেছনে মস্তিষ্কের পুষ্টিহীনতাই বেশি দায়ী। এ ছাড়া পর্যাপ্ত পুষ্টির অভাব ও হরমোনগত কারণেও শিশুর বৃদ্ধি ও বিকাশ ব্যাহত হতে পারে।

উচ্চতা কেন বাড়ে না

শৈশবেই শিশুর যত্ন ও বেড়ে ওঠার বিষয়ে সবচেয়ে বেশি খেয়াল রাখা জরুরি। শিশু জন্ম নেওয়ার প্রথম আট বছর তার বেড়ে ওঠার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। এর মধ্যে প্রথম তিন বছর শিশুর মস্তিষ্ক সবচেয়ে নমনীয় থাকে এবং দ্রুত বিকশিত হয়। শিশুর সঠিক বিকাশ ও বৃদ্ধির জন্য অত্যাবশ্যক উপাদানগুলো হচ্ছে পুষ্টি, উদ্দীপনা, সুরক্ষা ও শিক্ষা।

বেশির ভাগ অভিভাবকই শিশুর যত্ন ও প্রতিপালন বিষয়ে তেমনভাবে অবগত নন। এ ছাড়া মা-বাবা কর্মজীবী হলে শিশুকে ঠিকমতো সময় দিতে পারেন না। এতে শিশুরা সঠিক পরিচর্যা ও সেবা থেকে বঞ্চিত হয়। সুষম ও পুষ্টিকর খাবার, সঠিক প্রতিপালনের অভাবে দেখা যায় বস্তি, প্রত্যন্ত গ্রামীণ অঞ্চল এবং সুবিধাবঞ্চিত সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর শিশু, যাদের মৌলিক সেবা পাওয়ার সুযোগ সীমিত, তারা খর্বাকৃতির হয়ে থাকে। তা ছাড়া কম ওজন নিয়ে শিশুর জন্ম, মানসম্মত খাবার না পাওয়া এবং দুর্বল খাদ্যাভ্যাসের কারণেও শিশুর বৃদ্ধি থমকে যায়। আবার ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, হাম ইত্যাদি রোগে ভুগলেও শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হতে পারে। মাতৃদুগ্ধদানকারী মায়ের অপুষ্টি ও অসুখ-বিসুখও শিশুর বৃদ্ধি ও বিকাশে প্রভাব রাখতে পারে।

উচ্চতা বাড়াতে কী করবেন

গবেষণায় দেখা গেছে, শিশুর নিরাপদ জন্ম ও সঠিকভাবে বেড়ে ওঠা নিশ্চিত করতে মাতৃগর্ভে থাকা অবস্থায় মা ও শিশু উভয়েরই পরিচর্যা জরুরি। মা-বাবারা তিন বছরের কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে সাধারণত তার স্বাস্থ্য ও পুষ্টি নিয়ে বেশি উদ্বিগ্ন থাকেন। তবে শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও বিকাশের জন্য ছয় মাস পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত মায়ের দুধই যথেষ্ট। 

শিশুর জন্মের প্রথম আট বছর শিশুর সঠিক বিকাশ ও বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় সব কিছুই মা-বাবাকে নিশ্চিত করতে হবে। সময় মেনে টিকা দিতে হবে। মাতৃদুগ্ধদানকারী মাকেও শিশুর সঠিক পুষ্টি ও বৃদ্ধির জন্য খেতে হবে পরিমিত ও সুষম খাবার। শিশুর বয়স ছয় মাস পার হলে তাকে পরিপূরক খাবার খেতে দিন। শিশু অসুস্থ হলে অনেক সময় খাবার কম খায়। এ সময় অসুখ থেকে সেরে উঠলে তাকে বেশি বেশি খাবার খেতে দিন। শিশুদের পাকস্থলী বড়দের তুলনায় ছোট। এ জন্য একবারে অল্প খাবার খেতে পারে। তাই ঠিকমতো বেড়ে ওঠার জন্য শিশুকে ঘন ঘন খাবার দিতে হবে। ছোট মাছ, ডিম, ডাল, চিনি ও মৌসুমি ফলমূল খেতে দিন। মোট কথা, ছয় মাস পর সব ধরনের খাবারই শিশুকে খাওয়াতে পারেন।

শিশুর পুষ্টি ও সঠিক প্রতিপালনের মাধ্যমেই বয়সের সঙ্গে সঙ্গে তার সঠিক উচ্চতা নিশ্চিত করা সম্ভব। শিশুর ওজন ও উচ্চতা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দেওয়া সর্বজনস্বীকৃত গ্রোথ চার্টের সঙ্গে মিলিয়ে নিতে পারেন। এতে বয়স অনুযায়ী ওজন, উচ্চতা ও মাথার পরিধি গ্রাফচিত্রে দাগানো থাকে।

শিশুর দেখভালের জন্য স্বাস্থ্য ও পুষ্টিকার্ড ব্যবহার করুন।



সাতদিনের সেরা