kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ৩০ নভেম্বর ২০২১। ২৪ রবিউস সানি ১৪৪৩

মরণোত্তর অঙ্গদান প্রক্রিয়ায় একজনে বাঁচতে পারে ছয়জন মানুষ

অনলাইন ডেস্ক   

২২ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মরণোত্তর অঙ্গদান প্রক্রিয়ায় একজনে বাঁচতে পারে ছয়জন মানুষ

দেশের লাখ লাখ মানুষ অঙ্গ বিকল হওয়ার মতো অসুখে ভোগেন। এর একমাত্র চিকিৎসা অঙ্গ প্রতিস্থাপন বা অর্গান ট্রান্সপ্ল্যান্ট হলেও শুধু ডোনার সংকটের কারণে অঙ্গ প্রতিস্থাপনের সংখ্যা এ দেশে অনেক কম। ফলে অকালে মৃত্যু হচ্ছে হাজার হাজার মানুষের। বাংলাদেশে ১৯৮৮ থেকে শুরু হয়ে ২০১৯ পর্যন্ত দেশে দুই হাজারের বেশি অর্গান ট্রান্সপ্ল্যান্ট, পাঁচ শতাধিক কর্নিয়া ট্রান্সপ্ল্যান্ট, ৬টি লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট ও ২৫টি অস্থি মজ্জা ট্রান্সপ্ল্যান্ট সম্পন্ন হয়েছে। দুঃখের বিষয়, বাংলাদেশে জীবিত মানুষের দেহ থেকে অঙ্গ বিযুক্ত করে অঙ্গ প্রতিস্থাপন হলেও এখনো চালু হয়নি ক্যাডাভারিক অর্গান ট্রান্সপ্ল্যান্ট বা মরণোত্তর অঙ্গ প্রতিস্থাপন। অথচ একজন মানুষ তাঁর মৃত্যুর পর দুটো কিডনি, দুটি ফুসফুস, হার্ট, লিভার দান করতে পারেন, যাতে বাঁচতে পারে অঙ্গবিকল আলাদা আলাদা ছয়জন মানুষ।

বৃহস্পতিবার অর্গান ট্রান্সপ্ল্যান্টেশন সংক্রান্ত তৃতীয়বারের মতো বাংলাদেশ-কোরিয়া ফ্রেন্ডশিপ কনফারেন্স নামে আন্তর্জাতিক সম্মেলনের ভার্চুয়ালি উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন। কিডনি ফাউন্ডেশন ও সোসাইটি অব অর্গান ট্রান্সপ্লান্টের সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আর রশিদের সভাপতিত্বে ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন- বিএসএমএমইউ-র সাবেক প্রো-ভিসি ও বাংলাদেশ রেনাল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অধ্যাপক ডা. রফিকুল আলম। বক্তব্য রাখেন- কিডনি ফাউন্ডেশনের মহাসচিব অধ্যাপক ডা. এম. মুহিবুর রহমান, সোসাইটি অব অর্গান ট্রান্সপ্ল্যান্টের মহাসচিব অধ্যাপক ডা. হাবিবুর রহমান প্রমুখ।

সম্মেলনে জানানো হয়, এবারের সম্মেলনের যৌথ আয়োজন কিডনি ফাউন্ডেশন, সোসাইটি অব অর্গান ট্রান্সপ্লান্ট ও কোরিয়া ইউনিভার্সিটি আনাম হাসপাতাল। করোনা পরিস্থিতির কারণে এবার ভাচুয়ালি এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। শুক্রবার কোরিয়া ও বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞদের নিয়ে মিরপুরস্থ কিডনি ফাউন্ডেশন মিলনায়তনে এ সংক্রান্ত ৪টি আলাদা সেশন অনুষ্ঠিত হবে। ভার্চুয়াল এসব সেশনে বাংলাদেশের কয়েকশ নেফ্রোলজিস্ট ও ইউরোলজিস্টগণ অংশ নেবেন বলে জানা গেছে।

অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, মরণোত্তর অঙ্গদান হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে একজন মানুষ অঙ্গদান করবেন এবং তাঁর মৃত্যুর পরেই সেই অঙ্গটি সংগ্রহ করে তা প্রতিস্থাপিত করা হবে, সেই অঙ্গের প্রয়োজন রয়েছে এমন কারোর দেহে। তাই যত বেশি সংখ্যক মানুষ মরণোত্তর অঙ্গ দান করবেন, তত বেশি সংখ্যক মানুষের জীবন রক্ষা করা সম্ভব হবে।

অধ্যাপক ডা. হারুন আর রশিদ বলেন, মরণোত্তর প্রক্রিয়ায় একজন ব্যক্তি হার্ট, দুটি ফুসফুস, দুটি কিডনি, হার্ট, লিভার দান করতে পারেন। উন্নত বিশ্বে আজকাল হাত, মুখও প্রতিস্থাপন করা হচ্ছে। চক্ষুদান ছাড়াও স্কিন, লিগামেন্ট, বোন এবং হার্ট ভালভও ডোনেট করা যায়।

তিনি আরো বলেন, উন্নত বিশ্বে কিডনি বিকল ৬০-৭০ ভাগের বেশি মানুষ মরণোত্তর অঙ্গ দান প্রক্রিয়ায় চিকিত্সা নিয়ে নতুন জীবন ফিরে পাচ্ছে। ধর্ম কিংবা বিদ্যমান আইনে মরণোত্তর অঙ্গদানে কোনো ধরনের বাধা না থাকলেও দেশে এটা শুরুই করা যায়নি। আমরা মরণোত্তর অঙ্গ প্রতিস্থাপন শুরু করতে চাই কিন্তু শুধু দাতার অভাবে আমাদের দেশে এটা চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। এ ব্যাপারে সকলের সচেতনতা দরকার।



সাতদিনের সেরা