kalerkantho

শনিবার । ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ২৭ নভেম্বর ২০২১। ২১ রবিউস সানি ১৪৪৩

ঝটপট সকালের নাশতায় কী খাবেন?

অনলাইন ডেস্ক   

১১ অক্টোবর, ২০২১ ১১:১১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ঝটপট সকালের নাশতায় কী খাবেন?

ব্যস্ত নাগরিক জীবনে সময় বাঁচাতে অনেক কিছুই করতে হয় আমাদের। তারপরে যদি রুটি বানাতেই সকালের বেশিরভাগ সময় পার করে দেয় তাহলে তো কথাই নেই। এই সমস্যার সমাধান দিচ্ছে এখন বাজারের রেডিমেড রুটি। জানাচ্ছেন আতিফ আতাউর।

ইউনিভার্সিটি কোচিং করতে গ্রাম থেকে ঢাকায় এসে একটি মেসে উঠেছে পঞ্চগড়ের ফাইজা আফরোজ। সকালের ব্যাচে তার ক্লাস। এ জন্য ঘুম থেকে উঠে তাড়াহুড়ায় কোনো দিন খাবার খেতে পারে না। কারণ ততক্ষণে রান্নাই শেষ হয় না মেসে। বাধ্য হয়ে পাউরুটি আর কলা খেয়েই কোচিংয়ে চলে যেত ফাইজা। এতে ক্ষুধা না মেটায় ক্লাসে ভালো করে মনোযোগও দিতে পারত না। একদিন পত্রিকায় রেডিমেড রুটির বিজ্ঞাপন দেখে দোকান থেকে কিনে খেয়ে মজা পেয়ে যায়। এখন তার প্রতিদিনের নাশতার সঙ্গী রেডিমেড রুটি। ফাইজা জানায়, ‘প্রথমে ভেবেছিলাম রেডিমেড রুটি, না জানি কেমন। খেতে পারব তো? খেয়ে দেখি ঘরে তৈরি রুটির মতোই স্বাদ। এখন ক্ষুধা ও সময় নিয়ে আর বেগ পেতে হয় না। আমি তো বাড়িতেও ফোন করে আম্মুকে রুটি বানাতে কষ্ট না করে রেডিমেড রুটি কিনে খেতে বলেছি।’

মিরপুর ডিওএইচএসের বাসিন্দা পারভীন সুলতানার গল্পটা আবার ভিন্ন। দুই সন্তানের মা পারভীনের সম্প্রতি ডায়াবেটিস ধরা পড়েছে। চিকিৎসক খাদ্যতালিকায় ভাতের বদলে রুটি রাখতে বলে দিয়েছেন। নিয়ম করে সকাল-বিকাল হাঁটার নির্দেশ দিয়েছেন। চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে সকালে রুটি বানাতে চেষ্টাও চালিয়েছিলেন কিছুদিন। রুটি বানানোর ঝক্কির সঙ্গে কুলিয়ে উঠতে পারেননি। কেননা সময় বেশি লাগে। ততক্ষণে আবার স্বামী-সন্তানদের অফিস ও স্কুলের সময় হয়ে যায়। কোনো কূলকিনারাই যখন পাচ্ছিলেন না তখনই সহজ সমাধান হয়ে এলো রেডিমেড রুটি। পারভীন সুলতানা বলেন, ‘আমার ব্যস্ত জীবনে বেশ খানিকটা আরাম এনে দিয়েছে রেডিমেড রুটি। এখন আর সকালের খাবার কিংবা বিকেলের নাশতার জন্য চিন্তা করতে হয় না আমাকে। বরং সকালের নাশতা বানানোর সময়টা অন্য কাজে লাগাই বা বিশ্রাম নিই। সকালে এখন হাঁটতে পারি, নয়তো গানের রেওয়াজ করি কিংবা বাচ্চাদের পড়াতে বসি। এখন তো হোম ডেলিভারিতেই বাসায় এসে রেডিমেড রুটি দিয়ে যায়।’

রেডিমেড রুটি সম্পূর্ণ মেশিনে তৈরি করা হয়। থাকে না হাতের কোনো সংস্পর্শ। ফলে ধুলাবালি কিংবা অন্যান্য ময়লা মিশে যাওয়ার ভয় নেই। তাই স্বাস্থ্যগুণও অটুট থাকে।

রেডিমেড রুটি খাওয়া যায় প্যাকেট খুলেই। যাদের একটু নরম আর বেশি মোলায়েম রুটি খেতে পছন্দ তাদের জন্যও আছে ঝটপট সমাধান। ১০ সেকেন্ড গরম করে নিলেই রেডিমেড রুটিগুলো নরম আর তুলতুলে হয়ে যায়। ফলে শিশু থেকে বয়স্ক সব বয়সীর জন্যই ক্ষুধা মেটাতে জুড়ি নেই রেডিমেড রুটির। কয়েক দিন ঘরে রেখেও খাওয়া যায়। বাড়তি সতর্কতার জন্য প্যাকেটের গায়ে উত্পাদন ও মেয়াদের তারিখ উল্লেখ করা থাকে।

প্যাকেট খোলার পর রুটি সংরক্ষণ করতে চাইলে আছে সেই ব্যবস্থাও। একটি এয়ারটাইট পাত্রে তুলে ফ্রিজে রেখেও খাওয়া যাবে রেডিমেড রুটি। আবার চাহিদা অনুযায়ী আছে ভিন্ন ভিন্ন রুটি।

সংখ্যার প্যাকেট। তিন পিসের প্যাকেট, পাঁচ পিসের প্যাকেট ও ১০ পিসের প্যাকেট পাওয়া যাচ্ছে বাজারে। এ জন্য খুব সহজেই পরিবারের সদস্য সংখ্যা বুঝেও কিনে খেতে পারবেন। ডিম, ভুনা মাংস, চা ও ডালভাজি যেকোনো তরকারির সঙ্গে সহজেই সুস্বাদ যোগ করতে জুড়ি নেই রেডিমেড রুটির।



সাতদিনের সেরা