kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৫ কার্তিক ১৪২৮। ২১ অক্টোবর ২০২১। ১৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

কেমন হবে এবারের পূজার পোশাক?

অনলাইন ডেস্ক   

২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ১০:২৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কেমন হবে এবারের পূজার পোশাক?

করোনায় পূজা উত্সব অনেকটাই সীমিত হয়ে পড়েছিল। প্রায় দুই বছর পর দুর্গাপূজায় জাঁক দেখা যাবে এবার। ফ্যাশন ব্র্যান্ডগুলোও পূজা উপলক্ষে আউটলেট সাজিয়েছে নতুন আর বর্ণিল ডিজাইনের পোশাকে। ডিজাইনারদের সঙ্গে কথা বলে লিখেছেন এ এস এম সাদ

রং

দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রায় সব ফ্যাশন হাউসই নতুন থিম ও মোটিফের পোশাক নিয়ে আসে। উত্সব ঘিরে শাড়ি, ধুতি- পাঞ্জাবি, সালোয়ার-কামিজ ও শার্টের কালেকশন আনা হয়। পূজার পোশাকে উত্সবের আবহ ফুটিয়ে তুলতে রঙের বিচিত্র ব্যবহার করেন ডিজাইনাররা। এবারও তার ব্যতিক্রম নয়। বিশ্বরঙের স্বত্বাধিকারী ও ডিজাইনার বিপ্লব সাহা বলেন, ‘দুর্গাপূজা বাংলার সংস্কৃতির একটি অংশ। দুর্গাপূজায় মানুষ ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরতেই বেশি ভালোবাসে। পূজা শুরু হয় সকাল থেকে। একটু পরই রোদ ওঠে। মেয়েরা সকালে লাল-সাদা শাড়ি পরে। কারো পছন্দ কমলা, টিয়া, ম্যাজেন্টা রঙের শাড়িও। শাড়িতে তাই প্রতিবারই আমরা নানা বৈচিত্র্য আনি। এ ছাড়া সালোয়ার-কামিজেও উজ্জ্বল রং চলছে এখন।’

ম্যাটেরিয়াল  

আবহাওয়া গরম। তাই শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ ও পাঞ্জাবি তৈরি করা হয়েছে সময়োপযোগী ম্যাটেরিয়ালে। সুতি ছাড়াও আছে সিল্ক, টিস্যু, অরগাঞ্জা, হাফসিল্ক, বাটারফ্লাই, মসলিনের মতো কাপড়। আবার ক্রেতাদের সামর্থ্য ও রুচির বিষয়গুলোও মাথায় রাখা হয়েছে ম্যাটেরিয়াল ব্যবহারে। রঙ বাংলাদেশের স্বত্বাধিকারী ও ডিজাইনার সৌমিক দাস বলেন, ‘একেকজনের সামর্থ্য একেক রকম। সব পোশাক সবাইকে মানায়ও না। সবার কথা ভেবেই পোশাক ডিজাইন করে হাউসগুলো, যাতে সাধ ও সাধ্যের মধ্যে সমন্বয় ঘটে। এবার গরমের মধ্যে পূজা, তাই পোশাকের সুতায় বেশি মনোযোগ দেওয়া হয়েছে। আবার পোশাকে প্রিন্টের ব্যবহার হলেও তুলনামূলক তা কম। গরমে আরামের কথা মাথায় রেখেই টিস্যু জাতীয় কাপড়ের কালেকশন বাড়ানো হয়েছে।’ সুতি কাপড়ের পোশাক ছাড়াও লিনেন ও হালকা সিল্কের পোশাক বেশি দেখা যাচ্ছে এবার। মসলিনও রয়েছে সামনের সারিতেই। এর বাইরেও সেমি কটন, জামদানি ও তাঁতের পোশাক তৈরি করেছে ফ্যাশন হাউসগুলো। এতে সব ধরনের ক্রেতা রুচি ও পছন্দমতো পোশাক বেছে নিতে পারেন। 

পূজার থিম

একেকবার একেক থিমের পূজার পোশাক নিয়ে হাজির হয় হাউসগুলো। ব্যতিক্রম নেই এবারও। রঙ বাংলাদেশ মন্দির, প্রতীক, দেবীর অলংকার ও সপ্তমর্জি থিমে পোশাক ডিজাইন করেছে। বিশ্বরঙে দেখা যাবে দুর্গা মায়ের থিমের পোশাক। দুর্গাপূজায় শুধু পোশাক বিকিকিনি নয়, পোশাকের মধ্য দিয়েও মায়ের আশীর্বাদ, বাংলা ও বাঙালির শত বছরের ইতিহাস, ঐতিহ্য তুলে ধরার প্রয়াস চালায় হাউসগুলো। পূজার পোশাকে নকশায় ফুটে ওঠে বাঙালির রূপকথা ও হাজার বছরের গল্প।

ধুতি ও পাঞ্জাবি

পূজায় পিছিয়ে নেই পুরুষের পোশাকও। ধুতি ও পাঞ্জাবির নকশায় নতুনত্ব যোগ করেছেন ডিজাইনাররা। গরমে আরামের বিষয়টি মাথায় রেখে সুতি কাপড়ে তৈরি ধুতি-পাঞ্জাবির সংগ্রহেই বেশি মনোযোগ দিয়েছে তারা। পূজার পাঞ্জাবিতে দেখা যাচ্ছে দেবী মোটিফ। ধুতি সাদা রঙের হলেও পাঞ্জাবিতে রঙের খেলা খেলেছে হাউসগুলো। সাদা, লাল, নীল, আকাশি, মেরুন, খয়েরিসহ বিভিন্ন উজ্জ্বল রঙের পাঞ্জাবির দেখা মিলবে শোরুমগুলোতে। শর্ট ও লং দুই ধরনের পাঞ্জাবিই চলছে।

এবারকার ট্রেন্ড

ঘেরের কাজ, ফ্রিল বা কুচি, অরগাঞ্জা, চুড়িদার সালোয়ার, রঙে ভাইব্র্যান্ট শেড—এবার ট্রেন্ডে এগিয়ে। ম্যাটেরিয়ালে টিস্যু, মসলিন কাপড়ের পোশাক এগিয়ে।

তবে পোশাকে যত ভিন্নতাই আসুক লাল-সাদা পারের গরদের আবেদন চিরন্তন। থাকছে তাও। লোয়ার মানে সালোয়ারে দেখা যাচ্ছে নানা কাট। চাপা ও খানিকটা খাটো সালোয়ার চলছে এবার বেশ।



সাতদিনের সেরা