kalerkantho

রবিবার । ১ কার্তিক ১৪২৮। ১৭ অক্টোবর ২০২১। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

গরমে কেমন হবে পলো টি-শার্ট?

অনলাইন ডেস্ক   

২১ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ১৫:০২ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



গরমে কেমন হবে পলো টি-শার্ট?

পলো টি-শার্টের কদর চিরন্তন। তবে এর ফ্যাব্রিক, রং ও স্লিভের কারণে গরমে চাহিদা বেড়ে যায়। আড্ডা থেকে অফিস সহজেই পরিপাটি লুক এনে দেয় পলো। ডিজাইনারদের সঙ্গে কথা বলে জানাচ্ছেন আতিফ আতাউর।

আবহাওয়াকে প্রাধান্য দিয়েই এখন পোশাক ডিজাইন, ম্যাটেরিয়াল নির্বাচন থেকে রং বাছাই করেন ডিজাইনাররা। সঙ্গে থাকে তারুণ্যের রূপকে আরো সতেজ ও সাবলীলভাবে তুলে ধরার বিষয়টি। এ জন্য গরমে ফ্যাশন হাউসগুলোতে পলো টি-শার্টের সমাহার বেশি দেখা যায়। এবারও ব্যতিক্রম নেই তার। প্রায় সব ফ্যাশন হাউসেই রয়েছে নতুন ডিজাইনের পলো।

কেমন ফ্যাব্রিক

পলো টি-শার্টে সুতি, নিট, লিনেন কাপড়ের ব্যবহারই বেশি দেখা যায়। তবে ইদানীং গরমে আরো স্বস্তি দিতে জার্সি কাপড়ের পলো টি-শার্ট নিয়ে আসছেন ডিজাইনাররা। এগুলোর বিশেষত্ব হচ্ছে, গরমে ঘেমে গেলে সহজেই তা শুকিয়ে যায়। ফলে ঘামে ভেজা পোশাক নিয়ে বেশিক্ষণ অস্বস্তি পোহাতে হয় না। এর বাইরে কটন, অ্যান্ডি কটন, রিমি কটন, আদ্দি, পিকে বা ল্যাকোস্ট, পলিয়েস্টারসহ বিভিন্ন কাপড়ের পলো টি-শার্ট পাওয়া যাচ্ছে হাউসগুলোতে। পিকে বা ল্যাকোস্ট ফ্যাব্রিকে তৈরি পলো টি-শার্টে ইলাস্টিসিটি ভাব আনতে ভিসকস কাপড় ব্যবহৃত হচ্ছে। এ জন্য পলো টি-শার্টও মোলায়েম লাগে। স্ট্রেচিং নিট কাপড়ের পলো টি-শার্টও বেশ আরামদায়ক। এটি স্র্বেচেবল হওয়ায় খোলা পরা এবং ব্যবহারেও স্বস্তিদায়ক। ইজির স্বত্বাধিকারী তৌহিদ চৌধুরী বললেন, ‘তরুণদের পলো টি-শার্টে আরামদায়ক কাপড় বেশি প্রাধান্য দিই আমরা। সাধারণত সুতি কাপড় বেশি ব্যবহার করি। কারণ এতে কাপড়ের মধ্য দিয়ে বাতাস চলাচল করতে পারে। এ জন্য গরমে আরামদায়ক মনে হয়।’

কাট ছাঁট

পলো টি-শার্টের ডিজাইনে প্রতিবছরই ভিন্নতা আনার চেষ্টা করেন ডিজাইনারা। এ বছর কলার, হাতা, গলার কাটে পরিবর্তন এনেছেন তারা। বিশেষ করে পলো টি-শার্টের পকেটে এখন বেশি ভিন্নতা দেখা যাচ্ছে। পকেট আগের মতো বাইরে না রেখে এখন ভেতরে রাখার চেষ্টা করছেন তারা। ছোট পকেট, বড় পকেটযুক্ত পলোর পাশাপাশি পাওয়া যাবে পকেটবিহীন পলোও। জেন্টল পার্কের স্বত্বাধিকারী ও ডিজাইনার শাহাদাত্ হোসেন চৌধুরী বললেন, ‘পলো টি-শার্টের কাটে খুব বেশি বৈচিত্র্য যোগ করার সুযোগ নেই। এ জন্য বারবার কলার, হাতা আর পকেটেই বেশি বদল আনেন ডিজাইনাররা। সাধারণত কলারের আকৃতি, পকেটের পরিবর্তন, বোতামের কাটিং ও প্যাটার্নে পরিবর্তন আনা হয়, যাতে দেখতে একটু ভিন্নতা আসে।’ বোতামের পাশাপাশি আবার অনেক পলোতে চেইন ব্যবহার করেও ভিন্নতা আনার চেষ্টা করেছেন ডিজাইনাররা। পলো টি-শার্টের হাতায় রাবার দেওয়া কাফের ব্যবহারও হচ্ছে। পেশিবহুল তরুণদের কাছে এমন হাতা বেশি জনপ্রিয়।

নকশার বৈচিত্র্য

একরঙা ও চেকের নকশার পলো টি-শার্টই বেশি জনপ্রিয়। এর বাইরে প্রকৃতির বিভিন্ন উপজীব্যকে ঘিরেও পলোতে নকশা ফুটিয়ে তোলা হয়। কখনো প্রিয় ব্যক্তিত্ব, কবিতার লাইন, প্রচ্ছদ, প্রাকৃতিক দৃশ্যসহ বিভিন্ন লোগোও পলো টি-শার্টে ফুটিয়ে তোলা হয়। প্রিন্টেড ফ্যাব্রিকস ও লাইট চেক পলোও তরুণদের কাছে জনপ্রিয়। এ ছাড়া পলোর গলা, কাঁধে বাড়তি স্ক্রিন প্রিন্টের নকশা বেশি হচ্ছে এখন। স্ট্রাইপ পলো টি-শার্ট এবং পুরো বডিতে ছোট ছোট মোটিফের ছাপও চোখে পড়ে। মোটা চেক, চিকন চেক, পাতলা বা ঘন চেক—সব ধরনের চেকই দেখা যাচ্ছে পলো টি-শার্টে। প্রিন্ট আর নানা রকম ওয়াশের কারণেও পরিবর্তন এসেছে পলো টি-শার্টে।

রঙের ব্যবহার 

গরমে বেছে নিতে পারেন একরঙা পলো টি-শার্ট। উজ্জ্বল, সাদা ও বিভিন্ন একরঙা পলো টি-শার্টে বেশি স্বস্তি পাবেন গরমে। নীল, ধূসর, লাল, সবুজ, মেরুন, হলুদ, বেগুনি, বাদামি, গোলাপিসহ বিভিন্ন রঙের পলো পাওয়া যাবে হাউসগুলোতে।

পলোতেই পরিপাটি

পলো টি-শার্ট যেকোনো পরিবেশেই খুব সহজে মানিয়ে যায়। ক্লাস, শপিং, খেলার মাঠ, অফিস থেকে বন্ধুদের আড্ডা, ঘুরতে যাওয়াসহ ঘরে-বাইরে যেকোনো জায়গায় পলো টি-শার্ট পরা যায়।

জিন্স কিংবা গ্যাবার্ডিন যেকোনো প্যান্টের সঙ্গেও সহজে মানিয়ে যায় পলো। একরঙা পলো টি-শার্ট অফিসসহ বিভিন্ন মিটিংয়েও খুব সহজে পরিপাটি লুক এনে দেয়। আবার স্ট্রাইপ ডিজাইনের পলোতে পাবেন আড্ডাসহ ঘোরাঘুরির মুড।

বিভিন্ন অনুষ্ঠানেও পরা যায় পলো টি-শার্ট। দিনে ব্যবহারের জন্য প্রিন্টেড, স্ট্রাইপ ডিজাইনের পলো বেছে নিতে পারেন। আর রাতে ব্যবহারের ক্ষেত্রে একরঙা পলো বেশি মানানসই।

যেমন পলোই বেছে নিন খেয়াল করুন তা যেন পাতলা হয়। একরঙা, সাদা, লেমন, হালকা নীল, বোতল গ্রিন, হালকা মেরুন, অফ হোয়াইট পলো টি-শার্ট এই সময় ভালো দেখাবে।



সাতদিনের সেরা