kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৫ কার্তিক ১৪২৮। ২১ অক্টোবর ২০২১। ১৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

অবশেষে স্কুল শুরু, শিশুদের মানিয়ে নিতে যেভাবে সাহায্য করবেন

অনলাইন ডেস্ক   

২১ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ১৪:৩৯ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



অবশেষে স্কুল শুরু, শিশুদের মানিয়ে নিতে যেভাবে সাহায্য করবেন

দেড় বছরেরও অধিক সময় বন্ধ থাকার পর খুলেছে স্কুলের দুয়ার। দীর্ঘ বিরতির পর পুনরায় স্কুলের সঙ্গে মানিয়ে নিতে সবারই উচিত শিশু শিক্ষার্থীদের সহায়তা করা। এ বিষয়ে করণীয় কী—সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানাচ্ছেন আতিফ আতাউর।

দীর্ঘদিনের ছুটির বিরতি কাটিয়ে খুদে শিক্ষার্থীরা আবার ক্লাসে ফিরেছে। এই ফেরা যেমন আনন্দের, সেই সঙ্গে শঙ্কারও। করোনা সংক্রমণ কমে এলেও এখনো বিদায় নেয়নি। করোনা সংক্রমণ রোধে সরকার ঘোষিত নীতিমালা মেনেই খুলেছে স্কুলগুলো। স্কুলের নতুন পরিবেশের সঙ্গে শিশুদের মানিয়ে নেওয়া এবং নতুন করে ক্লাসে মনোযোগী হতে অভিভাবক ও শিক্ষকদের সচেতনতা দরকার সবার চেয়ে বেশি।

 শিশু শিক্ষার্থীরা যাতে কোনো রকম আশঙ্কায় না ভোগে বরং আনন্দমুখর পরিবেশে আবার নিজেদের মানিয়ে নিতে পারে সে জন্য সবাইকে সচেষ্ট থাকার কথা বললেন জাতীয় মানসিক  স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সহযোগী পরিচালক ও মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মেখলা সরকার। তার মতে, দীর্ঘদিন স্কুলের বাইরে থাকার কারণে অনেক শিক্ষার্থীর মধ্যেই আচরণগত নানা পরিবর্তন আসতে পারে। তাদের মনোজগতেও এর প্রভাব পড়া স্বাভাবিক। আগে যে নিয়মতান্ত্রিক জীবনে অভ্যস্ত ছিল শিক্ষার্থীরা, সেখানেও অনভ্যস্ততা আসতে পারে। বই বাড়িতে রেখে আসা, সঠিক সময়ে না আসা, পাঠবিমুখতা এবং অমনোযোগী মনোভাবও দেখা দিতে পারে শিশুদের মধ্যে। এ জন্য এসব বিষয়ে শিক্ষক ও অভিভাবক দুই পক্ষকেই ছাড় দিতে হবে। তা ছাড়া করোনা নিয়ে শিশুরা যাতে কোনো ধরনের ভয় বা শংকায় না ভোগে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। শিশুদের আশ্বস্ত করতে হবে টিকা এসে গেছে। সংক্রমণ কমে গেছে। আর যথাযথভাবে স্বাস্থ্যবিধি মানলে সংক্রমণের ভয় নেই। তাহলেই তারা আবার তাদের আগের স্কুলজীবনের স্বাভাবিকতা সহজে ফিরে পাবে।

দীর্ঘদিন পর শিশু শিক্ষার্থীদের স্কুলে ফেরাতে পারাটাই বড় দিক বলে জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক মুজিবুর রহমান। তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের করোনাকালীন পড়াশোনার ক্ষতি দ্রুত পুষিয়ে নেওয়ার মনোভাব থেকে দূরে থাকতে হবে শিক্ষক ও অভিভাবকদের। এই বছরের শিক্ষা বর্ষের আর মাত্র দুই মাস বাকি। এই সময়ে শিশুদের কোমল মনে অযথা চাপ দেওয়া যাবে না। বদলে শিশুদের মধ্যে স্কুল বিষয়ে আগের অভ্যস্ততা তৈরির দিকে বেশি মনোযোগ দিতে হবে। তারা যাতে ভয় নয় বরং স্কুলে এসে আনন্দ অনুভব করে সেদিকে জোর দিতে হবে।’

এখন করোনাকালীন ডিজিটাল মাধ্যমে শিক্ষাদানের পরিবর্তে সরাসরি পাঠ্য বইয়ের দিকে মনোযোগী হতে শিশুদের উত্সাহ দিন। এ সময় সন্তানের স্কুল অ্যাসাইনমেন্ট, পাঠ প্রস্তুতিতে কোনো খামতি থাকলে সেটাকে বড় করে দেখা অনুচিত। বরং শিক্ষার্থীকে উত্সাহ দিন যেন আরো ভালো করতে পারে। শিশুদের আবার স্কুল, পাঠ্যসূচির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে সহায়তা করুন।

বাসা, স্কুল ও ক্লাসে শিশুর জেদি মনোভাব, ইমোশনাল রি-অ্যাকশন, কান্নাকাটি, বাড়ির কাজ না করার মতো বিষয়গুলোর প্রতি ছাড় দিন। দেড় বছরের বেশি সময় শিক্ষার্থীরা স্কুলের বাইরে। এই সময়ে শিশুরা অনেক নতুন অভ্যাসে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে। সেখানে হঠাৎ করে স্কুলের অভ্যাস তৈরি করতে তাদের কিছুদিন সময় লাগবে।

এ ক্ষেত্রে মা-বাবাকেও সচেষ্ট ভূমিকা পালন করতে হবে। শিশুদের জীবনে পরিবারের বিকল্প কিছু নেই। এ জন্য পরিবারকেই হাল ধরতে হবে শিশুকে আবার তার স্কুলজীবনের অভ্যাসে ফেরাতে। স্কুলে শিক্ষার্থীদের তাপমাত্রা পরীক্ষা, স্বাস্থ্যবিধি মানা, মাস্ক পরিধান করা ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার গুরুত্বের বিষয়ে শিশুকে সহজভাবে বুঝিয়ে বলতে হবে, যাতে তারা অযথা ভয় বা শঙ্কায় না ভোগে।



সাতদিনের সেরা