kalerkantho

শনিবার । ৩১ আশ্বিন ১৪২৮। ১৬ অক্টোবর ২০২১। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস হলে

অধ্যাপক ডা. শিরিন আক্তার, গাইনি বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়

১৪ আগস্ট, ২০২১ ১১:২৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস হলে

গর্ভাবস্থায় ভ্রুণ তৈরি ও বেড়ে ওঠার জন্য প্লাসেন্টা বা গর্ভফুল বিভিন্ন রকমের হরমোন তৈরি করে। তখন গর্ভবতী মায়ের শরীরে বেশি মাত্রায় গ্লুুকোজ তৈরি হয়।

আর এই গ্লুকোজকে সঠিকভাবে ব্যবহার করার জন্য মায়ের শরীরে তখন বেশি ইনসুলিন দরকার হয়। শরীর হঠাৎ এই পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত থাকে না বলে যথেষ্ট ইনসুলিন নিঃসরণ করতে পারে না। ফলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বাড়তে থাকে; আর তখন দেখা দেয় ডায়াবেটিস।

গর্ভকালীন ডায়াবেটিসে নানা জটিলতা বাড়ে। বিশেষ করে জন্মের সময় বাচ্চার ওজন বেশি হতে পারে। ফলে প্রসবের সময় সমস্যা তৈরি করে। এ ছাড়া মায়ের রক্তচাপ বেড়ে যাওয়া, প্রি-এক্লাম্পশিয়া বা খিঁচুনির ঝুঁকি তৈরি, সময়ের আগে প্রসব হওয়া, মৃত সন্তান প্রসব করা ইত্যাদি ঝুঁকি থাকে।

ঝুঁকি বেশি যাদের
* গর্ভবতীর পরিবারে ডায়াবেটিসের ইতিহাস থাকলে বা বংশে কারো ডায়াবেটিস থাকলে

* প্রথম গর্ভধারণকালে বয়স পঁচিশের বেশি হলে

* অতিরিক্ত ওজন বা ওবিসিটি থাকলে

* আগে গর্ভধারণের সময় ডায়াবেটিসের ইতিহাস থাকলে

* গর্ভপাতের ইতিহাস থাকলে

* মায়ের উচ্চ রক্তচাপ থাকলে ইত্যাদি।

লক্ষণ ও করণীয়
গর্ভকালীন ডায়াবেটিসে তেমন নির্দিষ্ট কোনো লক্ষণ নেই। তবে কিছু ক্ষেত্রে নানা উপসর্গ দেখা দেয়। যেমন—

* ঝাপসা দৃষ্টি

* যোনিপথ ও চামড়ায় সংক্রমণ

* অতিরিক্ত ক্লান্তি

* অতিরিক্ত পানির তৃষ্ণা

* ঘন ঘন মূত্র ত্যাগ

* বমি বমি ভাব বা বমি ইত্যাদি দেখা দেওয়া।

আবার ক্ষুধা বৃদ্ধি পাওয়া সত্ত্বেও ওজন কমে যাওয়াও গর্ভকালীন ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার একটি লক্ষণ।

পরীক্ষা
কারো গর্ভকালীন ডায়াবেটিস হয়েছে কি না এটা পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়ার উপায় হলো ব্লাড গ্লুুকোজ পরীক্ষা করা।

এই পরীক্ষা গর্ভের ২৪ থেকে ২৮ সপ্তাহে আবারও করা উচিত। এ ছাড়া রক্তের এইচবিএ১সির মাত্রা বলে দেয় পূর্ববর্তী তিন মাসে ব্লাড গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণে ছিল কি না।

যদি মাত্রা বেশি থাকে তাহলে অনেক ক্ষেত্রেই নির্ধারিত তারিখের আগেই নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে প্রসব করিয়ে ফেলতে হয়। কেননা এ অবস্থায় শেষের দিকে গর্ভস্থ শিশুটি মারাও যেতে পারে।

নিয়ন্ত্রণের উপায়
যাদের গর্ভকালীন ডায়াবেটিস রয়েছে, তাদের উচিত গর্ভধারণের পরিকল্পনা শুরু করার সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া। এ ক্ষেত্রে ভালো উপায় হলো গর্ভধারণের আগেই ওজন নিয়ন্ত্রণ করা। আর গর্ভকালীন ডায়াবেটিসে আক্রান্ত মায়ের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ হলো রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখা।

আশার কথা হলো, বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই স্বাস্থ্যকর খাবার ও ব্যায়ামের মাধ্যমে গর্ভকালীন ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। অনেক গর্ভবতী নারীর ইনসুলিন নিতে হতে পারে, যাতে রক্তের গ্লুকোজকে সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করে এসংক্রান্ত জটিলতা এড়ানো সম্ভব।



সাতদিনের সেরা