kalerkantho

শুক্রবার । ১০ বৈশাখ ১৪২৮। ২৩ এপ্রিল ২০২১। ১০ রমজান ১৪৪২

পুষ্টি

লিভারবান্ধব খাবার

ভাজাপোড়া, প্রসেসড ও চর্বিজাতীয় খাবার গ্রহণে লিভার বা যকৃতে বেশ চাপ পড়ে লিভারের কার্যকারিতা ব্যাহত হয়। কিছু খাবার আছে, যা নিয়মিত গ্রহণ করলে যকৃতের কার্যকারিতা ঠিক থাকে। এ বিষয়ে লিখেছেন ডায়েট প্লানেট বাংলাদেশের পুষ্টিবিদ মাহবুবা চৌধুরী

২৭ মার্চ, ২০২১ ১১:০৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



লিভারবান্ধব খাবার

বিট/গাজর
বিট-গাজরের মধ্যে উচ্চমাত্রার ফ্লেভিনয়েড ও বিটা ক্যারোটিন থাকে। এর অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট লিভারকে কার্যকর রাখতে সহযোগিতা করে। এই সবজিগুলো নিয়মিত রান্না করে কিংবা কাঁচা খাওয়া যেতে পারে। আবার এই সবজিগুলো জুস করে লেবু মিশিয়ে দু-এক দিন পর পর পান করলে যকৃৎ ভালো থাকে।

আপেল/পেঁপে
আপেলে পেকটিন এবং পেঁপেতে রয়েছে পেপিন নামের এনজাইম, যা রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। এ ফলগুলোতে উচ্চমাত্রার অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এবং প্রয়োজনীয় রাসায়নিক পদার্থ রয়েছে, যা দেহ থেকে দূষিত উপাদান পরিশোধনের মাধ্যমে লিভারকে সঠিকভাবে কাজ করতে সহযোগিতা করে। ফ্যাটি লিভার রোগীদের জন্য পেঁপে খুবই কার্যকর।

সবুজ শাক-সবজি
লিভার পরিষ্কার ও সক্রিয় রাখতে সবুজ শাক-সবজির ভূমিকা অপরিসীম। এতে রক্তের দূষিত জীবাণু ধ্বংস করার উপাদান ভিটামিন, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও অত্যাবশ্যকীয় খনিজ লবণ রয়েছে।

রসুন
শরীর থেকে দূষিত পদার্থ বের করে দেয় এবং লিভারে এনজাইম তৈরিতে সহায়তা করে রসুন। এতে প্রচুর পরিমাণ সেলিনিয়াম ও অ্যালিসিন নামের দুটি প্রাকৃতিক উপাদান রয়েছে, যা পরিপাকে সহায়তা করে।

আখরোট
আখরোটে রয়েছে উচ্চমাত্রার এমাইনো এসিড আরজিনিন, যা লিভারে উৎপাদিত অ্যামোনিয়া পরিশোধনে সহায়তা করে। আখরোটে গ্লোটাথিয়ন নামের অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এবং ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড রয়েছে, যা লিভার ভালো রাখতে সহায়ক। এই বাদাম চিবিয়ে তরল করে খেলে শোষণ ভালোভাবে হয়।

লেবু/জাম্বুরা
এ দুটি ফলে যথেষ্ট পরিমাণ অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও ভিটামিন ‘সি’ রয়েছে। লেবুতে গ্লোটাথিয়ন নামের যে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট রয়েছে তা লিভারের জন্য খুবই উপকারী। এ ছাড়া জাম্বুরা, কমলা, লেবু ইত্যাদি ফল প্রাকৃতিকভাবে লিভার পরিষ্কার করে এবং কারসিনোজেন নামের দূষিত পদার্থগুলো শরীর থেকে বের করে দিতে সাহায্য করে।

জলপাইয়ের তেল
জলপাই তেলে ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড রয়েছে, যা লিভারের জন্য খুবই উপকারী। এই তেল শরীরের বিভিন্ন ব্যথা উপশম করে এবং লিভার থেকে ক্ষতিকারক জীবাণু বের করে দিতে সহায়তা করে।

সয়া/টফু
টফুতে উচ্চমানের আমিষ রয়েছে, যা লিভারে চর্বি জমতে বাঁধা দান করে। এ ছাড়া টফুতে যথেষ্ট পরিমাণ ক্যালসিয়াম, জিংক, আয়রন, সেলেনিয়াম, পটাসিয়াম ও ভিটামিন বি১ রয়েছে, যা যকৃতের জন্য খুবই উপকারী।

মাছ
মাছে বিশেষ করে সামুদ্রিক মাছে থাকে ওমেগা-৩, ৬ ফ্যাটি এসিড, যা লিভার পরিশোধনের জন্য সহায়ক। তাই খাদ্যতালিকায় সপ্তাহে অন্তত দুই দিন মাছ রাখতে পারেন।

সূর্যমুখীর বীজ
এতে ভিটামিন ‘ই’, ‘বি’, উচ্চমানের খনিজ লবণ, অত্যাবশ্যকীয় ফ্যাটি এসিড এবং গ্লোটাথিয়ন নামের অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট রয়েছে। খনিজ লবণ সেলিনিয়াম ও গ্লোটাথিয়ন যকৃৎ পরিশোধন করে দেহ থেকে বর্জ্য পদার্থ বের করে লিভারকে সুরক্ষা দিতে সহায়তা করে।

বাঁধাকপি/ব্রকোলি
এই সবজি দুটিতে গ্লোকসিনোলেট নামের অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট রয়েছে, যা লিভারে এনজাইম তৈরিতে সহযোগিতা করে। কারসিনোজেন নামের দূষিত জীবাণু দেহ থেকে বের করে দিতে এই এনজাইম বিশেষভাবে কাজ করে। লিভার পরিশোধনে খুবই উপকারী।

গ্রিন টি/কফি
এতে ক্যাটচিন নামের এক ধরনের উপাদান রয়েছে, যা রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে। সবুজ চায়ে ফ্লেবিনয়েড নামের অ্যন্টি-অক্সিডেন্ট রয়েছে, যা লিভারের কার্য পরিচালনায় সহায়তা করে। যদি এই চা নিয়ম করে পান করা যায় তাহলে লিভারের অন্যান্য রোগ ও ক্যান্সার থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

হলুদ
হলুদের মূল বা কাণ্ড লিভার পরিশোধনে সবচেয়ে বেশি কার্যকর। এটা দ্রুতগতিতে দূষিত পদার্থ ধ্বংস করে লিভার পরিষ্কার করে। এতে রয়েছে বিটাক্যারোটিন নামের খুব উপকারী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা