kalerkantho

রবিবার। ২৮ চৈত্র ১৪২৭। ১১ এপ্রিল ২০২১। ২৭ শাবান ১৪৪২

ছেলেমেয়ে কথা শুনছে না? সন্তানের সাথে পরিণত হতে হবে আপনাকেও

অনলাইন ডেস্ক   

৩১ জানুয়ারি, ২০২১ ১২:১৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ছেলেমেয়ে কথা শুনছে না? সন্তানের সাথে পরিণত হতে হবে আপনাকেও

এখনকার ছোটরা অনেক বেশি স্মার্ট। আসলেই তাই। আপনি ছোটবেলায় যেভাবে বড় হয়েছেন সেই পন্থা আপনার ছেলেমেয়েদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।  ছোটরা এখন অনেক বেশি আপডেট, তারা বয়স অনুপাতে বেশি পরিণত। এজন্য সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে প্যারেন্টিংয়েও আনতে হবে পরিবর্তন।

আপনার সাত বছরের কন্যা রেগে গেলেই জিনিস ছুড়ে ফেলতে থাকে। খেয়াল করলে দেখা যাবে, আপনারা কেউ রেগে গেলে ঠিক এই কাজটাই করেন। বাবা-মায়ের আচরণে উগ্রতা দেখলে, শিশু সেটা স্বাভাবিক বলে ধরে নেয়। ‘ও কিছু শুনতে চায় না’, ‘ভীষণ অধৈর্য’— এই অভিযোগ সব বাবা-মায়েরই। আপনি কী ভাবে সন্তানকে সামলাচ্ছেন, তার ভিত্তিতেই ওর স্বভাব গড়ে উঠছে। ধৈর্য ধরে শিশুর সব কথা শুনতে হবে। ধমকে নয় বোঝাতে হবে যুক্তি দিয়ে।  বাবা মায়েরা মনে করেন সন্তানকে ধমকালেই ফল পাওয়া যাবে বিষয়টি কিন্তু সেরকম না। কিন্তু যুক্তি দিয়ে বোঝালে সেই সমাধান চিরস্থায়ী হবে।  পেরেন্টিংয়ের ক্ষেত্রে কিছু বিষয়ের উপর  জোর দিতে হবে।

শাস্তি নয়, সংশোধন:

শাস্তির ধারণা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। সন্তান ভুল করলে তাকে শাস্তি না দিয়ে ভালোভাবে বুঝাতে হবে। আপনি কথায় কথায় আপনার সন্তানকে মারধর করলে সে মনে করবে মারধর করা খুব সহজ একটি বিষয়। এ থেকে তাদের মধ্যে উগ্রভাব তৈরি হবে। সে খুব সহজেই তার বন্ধুর গায়ে হাত তুলবে। ভুল করলে আপনার সন্তানকে শুধরে দেন।

আচরণে সংযত:

বাবা-মায়ের মধ্যে অনেক সমস্যাই হয়। সবসময় সমস্যা আড়াল করাও যায় না। তবে কখনো সন্তানের সামনে ভুল করে ঝগড়ায় জড়িয়ে পড়লে তা শুধরে নিন। বাবা মায়ের মধ্যে সমস্যা দেখলে শিশুরা অসহায় বোধ করে। আপনার সন্তানকে বুঝিয়ে বলুন আপনাদের মধ্যে যে সমস্যা হয়েছিল তা সমাধান হয়ে গিয়েছে।  এতে করে আপনার শিশু সহজেই ভুলে যাবে বিষয়টি।

দাম্পত্যে চ্যালেঞ্জ:

স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ডিভোর্স হলেও সন্তান প্রতিপালন যৌথ কর্তব্য। বাবা-মায়ের মধ্যে বিরোধ, দ্বন্দ্বে ওরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। কারও মনে এতটাই গভীর ছাপ ফেলে যে, তার থেকে বেরোতে অনেকটা সময় লেগে যায়। ছোটদের সামনে একে অপরকে দোষারোপ করবেন না। আপনারা আলাদা থাকলেও ওর প্রয়োজনে দু’জনেই আছেন, সেটা ওকে বোঝাতে হবে।

দায়িত্ববোধ গড়ে তুলুন:

জোর না খাটিয়ে সন্তানের মধ্যে দায়িত্ববোধ গড়ে তুলুন। সন্তানের বয়স দশ-বারো বছর হলে ওর কাজের দায়িত্ব ওকে নেওয়ার অভ্যেস করতে দিন। ধরুন, রোজ সকালে জোর করে আপনার সন্তানকে অনলাইন ক্লাসে বসাতে হয়। এ বিষয় বাদ দিন। ডাকা বন্ধ করে দিন। স্পষ্ট করে দিন ক্লাস করতেই হবে। ক্লাস না করলে তার অন্যান্য আবদার বাতিল করুন।

অন্যের সঙ্গে তুলনা নয়:

নিজের আশা আকাঙ্খা ছেলেমেয়ের উপরে চাপিয়ে দেবেন না। আপনার সন্তান ওর বন্ধুর মতো ভাল ছবি নাও আঁকতে পারে আবার ভালো না গাইতেও পারে। কেন বন্ধুর চেয়ে কম নম্বর পেয়েছে, এই প্রশ্ন আপনি যদি শিশুটিকে করেন, ও কিন্তু দু’দিন বাদে এসে বলতেই পারে, ‘আমার বন্ধু বিদেশ বেড়াতে গিয়েছে, আমাকেও নিয়ে চলো। আবার সন্তানের টিনএজ সময়টা স্পর্শকাতর এজন্য এ সময়টা খেয়াল রাখুন।  অযথা রাগারাগি না করে বোঝানোর চেষ্টা করুন।

সূত্র: আনন্দবাজার

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা