kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৭ ফাল্গুন ১৪২৭। ২ মার্চ ২০২১। ১৭ রজব ১৪৪২

অতিরিক্ত ঋতুস্রাব অগ্রাহ্য করছেন? দেখে নিন যে বিপদগুলো হতে পারে

অনলাইন ডেস্ক   

২৫ জানুয়ারি, ২০২১ ১১:১০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অতিরিক্ত ঋতুস্রাব অগ্রাহ্য করছেন? দেখে নিন যে বিপদগুলো হতে পারে

মেয়েদের পিরিয়ডের সময় অতিরিক্ত রক্তপাত স্বাভাবিক মনে হলেও বিষয়টি স্বাভাবিক নয়। যে কোন মেয়েরই যাদের পিরিয়ড শুরু হয়েছে তাদের এ সমস্যা হতে পারে। সঠিক চিকিৎসার অভাবে এদের অনেকেই ক্রনিক অ্যানিমিয়া-সহ নানা সমস্যায় ভোগেন। তবে রোগ নির্ণয় পদ্ধতির উন্নতি হওয়ায় এবং সচেতনতা বাড়ায় আগের থেকে অনেক বেশি রোগ ধরা পড়ছে।

গবেষণায় দেখা গিয়েছে, কিশোরী এবং ৪০ বছরের বেশি বয়সিদের অতিরিক্ত ঋতুস্রাবের ঝুঁকি বাড়ে। কারণ, কিশোরী বয়সে পিরিয়ড শুরুর সময় এবং ৪০ বছর বয়সের পর মেনোপজের আগে শরীরে সাময়িক ভাবে ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরন হরমোনের তারতম্য হয়। এর ফলেই অতিরিক্ত ঋতুস্রাবের সমস্যা বাড়ে । আবার অতিরিক্ত ওজনের কারণেও হেভি ব্লিডিং হতে পারে।
 

অতিরিক্ত ঋতুস্রাবের কারণ:

১. জরায়ুতে ফাইব্রয়েড বা টিউমার।
২. ওভারিতে কোনও সমস্যা থাকলে ঠিক মতো ডিম্বাণু নিঃসরণ হয় না। তাতে প্রোজেস্টেরন হরমোন উৎপাদন কমে গিয়ে এই সমস্যা দেখা দেয়।
৩. জরায়ু লাইনিং এ বিনাইন (অর্থাৎ ক্যানসার নয় এমন) পলিপ হলে।
৪. জরায়ুর এন্ডোমেট্রিয়ামের সমস্যা।
৫.জন্ম নিয়ন্ত্রণের জন্য ইন্ট্রা ইউটেরাইন ডিভাইস ব্যবহার করলে তার পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ায়।
৬. সারভিক্সে সংক্রমণ।
৭. গর্ভপাত।
৮. ইউটেরাস ও সারভিক্সের ক্যানসার হলেও অতিরিক্ত ঋতুস্রাব হয়।
৯.  হরমোন ওষুধ, রক্ত পাতলা করার ওষুধের পার্শ্ব প্রতিক্রয়ায় অতিরিক্ত ঋতুস্রাবের ঝুঁকি থাকে।
১০. লিভার ও কিডনির অসুখ থাকলেও এই সমস্যা হতে পারে।
 
যে সব পরীক্ষা জরুরি:

অতিরিক্ত ঋতুস্রাব হলে যেসব পরীক্ষাগুলো করা জরুরী: 
•       রক্তের হিমোগ্লোবিন  এবং থাইরয়েড হরমোনের ভারসাম্য বজায় আছে কিনা জানতে রক্ত পরীক্ষা করানো দরকার।
•       সারভিক্সে সংক্রমণ বা ক্যানসার আছে কিনা জানতে প্যাপ স্মিয়ার পরীক্ষা করা হয়।
•       জরায়ু থেকে টিস্যু সংগ্রহ করে এন্ডোমেট্রিয়াল বায়োপ্সি করা দরকার।
•       ইউটেরাস, ওভারি ও পেলভিসের আল্ট্রাসাউন্ড।
•       ইউটেরাসের লাইনিং-এর সমস্যা জানতে সোনোহিস্টেরোগ্রাফি করতে হয়।
•       ইউটেরাস খুঁটিয়ে দেখতে হিস্টেরোস্কোপি করতে হতে পারে।


অ্যানিমিয়ার ঝুঁকি:

অনেক সময় হেভি ব্লিডিং হলেও অনেকে ব্যাপারটা বিশেষ আমল দেন না। পরে ঠিক হয়ে যাবে ভেবে ফেলে রাখেন। প্রতি মাসে অতিরিক্ত রক্তপাত হতে হতে রক্তাল্পতা বা অ্যানিমিয়ার ঝুঁকি বাড়ে। অন্য দিকে অ্যানিমিয়া হলেও অতিরিক্ত ঋতুস্রাব হয়। ব্যাপারটা চক্রাকারে চলতে থাকে। আবার যে কারণে হেভি ব্লিডিং হচ্ছে, তার চিকিৎসা না করানোয় অসুখটা ক্রমশ জটিল হতে শুরু করে। অসুখের প্রাথমিক পর্যায়ে ওষুধ দিয়ে চিকিৎসা করে কাজ হলে অনেক দিন ফেলে রাখলে রোগের জটিলতা বেড়ে যায়। বিশেষ করে মেনোপজের পর বেশি ঋতুস্রাব অনেক সময় ক্যানসারের উপসর্গ হতে পারে। তাই অসুখের শুরুতেই সঠিক চিকিৎসা করা জরুরী।

সূত্র: আনন্দবাজার

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা