kalerkantho

রবিবার । ৯ কার্তিক ১৪২৭। ২৫ অক্টোবর ২০২০। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

যেভাবে চাকরি পেলাম

দৈনিক ৮-১০ ঘণ্টা পড়াশোনা করেছি

মাকসুদুর রহমান সনি, ৩৭তম বিসিএস (স্বাস্থ্য), মেডিক্যাল অফিসার, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, রানীনগর, নওগাঁ   

১৭ অক্টোবর, ২০২০ ০৯:৩৭ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



দৈনিক ৮-১০ ঘণ্টা পড়াশোনা করেছি

আমার বিসিএস পরীক্ষার প্রস্তুতিটা ছিল আট মাসের। প্রথমে বিগত পাঁচ বছরের প্রশ্ন সমাধান করি। এরপর প্রশ্নগুলো বিশ্লেষণ করে একটা ধারণা নিই—কী পড়ব আর কী পড়ব না। এগুলো নিজেই বিশ্লেষণ করে বের করেছি এইচএসসির পর মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিই। ২০০৯-১০ শিক্ষাবর্ষে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজে ভর্তির সুযোগ পাই।

 যখন এমবিবিএস কোর্সের পঞ্চম বর্ষে পড়ি, তখনই সরকারি চাকরির প্রতি আগ্রহী হই। তাই বিসিএসের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করা শুরু করি। ছোটবেলা থেকেই সাধারণ জ্ঞানের ওপর ঝোঁক ছিল। স্কুল-কলেজে পড়ার সময় পত্রিকা পড়তাম, সাধারণ জ্ঞানের বই ছিল বাসায়। ফলে বিসিএস প্রস্তুতিতে সাধারণ জ্ঞান নিয়ে ততটা বেগ পেতে হয়নি। এমবিবিএস কোর্সের শেষ দিকে এসে নিয়মিত বিসিএস পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করি। আমার বিসিএস পরীক্ষার প্রস্তুতিটা ছিল আট মাসের। প্রথমে বিগত পাঁচ বছরের প্রশ্ন সমাধান করি। এরপর প্রশ্নগুলো বিশ্লেষণ করে একটা ধারণা নিই—কী পড়ব আর কী পড়ব না। এগুলো নিজেই বিশ্লেষণ করে বের করেছি। ইংরেজির তুলনায় গণিতে দুর্বল ছিলাম, তাই ইংরেজির চেয়ে গণিতে বেশি সময় দিয়েছি। এমবিবিএস পরীক্ষা দিয়েই চূড়ান্ত প্রস্তুতি শুরু করি।

বিসিএসের জন্য বাজার থেকে একটি গাইড কিনে আনি। পাশাপাশি নবম-দশম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির ইতিহাস ও ভূগোলও পড়তে থাকি। সময় ও বিষয় বণ্টন করে রুটিন ঠিক করি—নির্ধারিত পড়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত উঠিনি। বিষয়ভিত্তিক পড়াগুলো কত দিনে শেষ করব, সেটাও রুটিনে ছিল। দৈনিক ৮-১০ ঘণ্টা করে পড়াশোনা করেছি। বিগত বছরের প্রশ্নের ধরন দেখে অঙ্ক করেছি। ইংরেজি ব্যাকরণের নিয়মও নিয়মিত অনুশীলন করেছি। ইংরেজির বেসিকটা স্ট্রং ছিল। গণিতে তুলনামূলক কিছুটা দুর্বল ছিলাম। এমপি-থ্রি সিরিজের গণিত বই থেকে সমাধান করতাম। ৩৭তম বিসিএস পরীক্ষার প্রিলিমিনারিতে ২০০টির মধ্যে ১৪০টি প্রশ্ন দাগিয়েছিলাম। এর মধ্যে ১২০টি প্রশ্নের উত্তর সঠিক হওয়ার ব্যাপারে নিশ্চিত ছিলাম। বাকি ২০টির উত্তর অনুমাননির্ভর দাগিয়েছি। চান্স পাওয়ার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাস ছিল। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হই। এরপর পড়াশোনার গতি আরো বাড়িয়ে দিই। ভাইভা পরীক্ষার আগের দিন সাম্প্রতিক বিষয়, মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধু, মেডিক্যালের বেসিক বিষয়গুলো দেখে গিয়েছিলাম।

আমার ভাইভা হয়েছিল (২০১৯ সালে) নূরজাহান বেগম (পিএসসির সদস্য) ম্যাডামের বোর্ডে। প্রথমেই আমাকে নিজের সম্পর্কে বলতে বললেন। তারপর আমার পরিবার এবং কোথা থেকে এসেছি সেটা জানতে চাইলেন। এরপর প্রশ্ন করলেন, How is Hepatitis-B spread?

আমি উত্তর দিলাম, ‘Hepatitis-B spreads when blood, semen, or other body fluid infected with the Hepatitis-B virus enters the body of someone who is not infected.’

তারপর কলেরা ও এইচআইভি সম্পর্কে জানতে চাইলেন। মুজিবনগর সরকার সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে উত্তরে বললাম, ‘১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণার পর ১০ এপ্রিল এই সরকার গঠিত হয়। ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলা গ্রামে মুজিবনগর সরকার শপথগ্রহণ করে। শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন আবদুল মান্নান এবং স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেন অধ্যাপক ইউসুফ আলী। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে মুজিবনগর সরকারের রাষ্ট্রপতি করা হয়।’ এরপর আরো অনেক প্রশ্ন করেন। ভাইভা প্রায় ২০ মিনিট ধরে হয়েছিল। ভাইভায় ভালো করি। এরপর স্বাস্থ্য ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হই।

নতুনদের উদ্দেশে বলব, নিজেই নিজেকে বিশ্লেষণ করতে হবে। নিজের দুর্বলতাগুলো খুঁজে বের করতে হবে। কী পড়বেন, কী পড়বেন না—সেটা আপনাকেই ঠিক করতে হবে। প্রিলিমিনারিতে ১৮০টি প্রশ্ন টার্গেট করুন, তাহলেই হয়ে যাবে। প্রতিদিনের রুটিনে ইংরেজির প্রস্তুতির জন্য সময় বরাদ্দ রাখুন।

শ্রুতলিখন : জুবায়ের আহম্মেদ

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা