kalerkantho

শুক্রবার । ৭ কার্তিক ১৪২৭। ২৩ অক্টোবর ২০২০। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

কিটো ও ইন্টারমিটেন্ট ডায়েট একসাথে করা কতটা নিরাপদ?

অনলাইন ডেস্ক   

২১ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০৯:৩৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কিটো ও ইন্টারমিটেন্ট ডায়েট একসাথে করা কতটা নিরাপদ?

ওজন কমাতে ডায়েটের বিকল্প নেই। ছিপছিপে গড়নের শরীর এখন সবারই পচ্ছন্দ। তবে চাইলেই তো আর হবে না। এর জন্য চাই চেষ্টা ও উদ্যোগ। কিটো ডায়েট ও ইন্টারমিটেন্ট ডায়েট গোটা বিশ্বেই এখন জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। একসাথে কিটো ডায়েট ও ইন্টারমিটেন্ট ডায়েট করলে ফলাফল কি হতে পারে এই নিয়ে সবার মনে তৈরি হয়েছে হাজারো প্রশ্ন। এসব প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার আগে জানা দরকার কিটো ডায়েট ও ইন্টারমিটেন্ট ডায়েট কি?

কিটো ডায়েট:

কিটো ডায়েট, কম কার্বোহাইড্রেট যুক্ত ডায়েট হিসাবেও পরিচিত, এর ফলে শরীরে উর্জার সৃষ্টির জন্য লিভারে কিটোন উৎপন্ন করা হয়। সাধারণত কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাদ্য বেশি খেলে শরীরে ওজন বৃদ্ধির সম্ভাবনা থেকে যায়। অন্যদিকে কিটো ডায়েট যে প্রক্রিয়ায় ফ্যাটের থেকে উর্জার সৃষ্টি করে তাকে কিটোসিস বলা হয়। এই ডায়েটে প্রায় ৭০ শতাংশ ফ্যাট গ্রহণ করা হয়, অন্যদিকে ২৫ শতাংশ প্রোটিন আর ৫ শতাংশ কার্বোহাইড্রেট থাকে। কিটোজেনিক ডায়েট ওজন কমানোর বিষয়ে সবচেয়ে বেশি ফলপ্রসূ।

ইন্টারমিটেন্ট ডায়েট:

ইন্টারমিটেন্ট ডায়েট হচ্ছে সপ্তাহে বা দিনে একটা নির্দিষ্ট সময় না খেয়ে থাকার ডায়েট। নারী ও পুরুষভেদে এই না খেয়ে থাকার সময়সূচি আলাদা। সহজ কথায় বললে এটি সপ্তাহে এক দিন, দুই দিন বা কখনো কখনো টানা তিন দিন একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত শুধু পানি আর ফলের রস পান করে থাকার ডায়েট। যেমন সপ্তাহে দুই দিন মানে ৪৮ ঘণ্টা শুধু পানি বা চিনি ছাড়া ফলের রস পান করা আর পাঁচ দিন স্বাভাবিক খাবার খাওয়া। ওই দুই দিন সারা দিনে ৫০০-৬০০ ক্যালরি খাওয়া যাবে। আবার এক দিন (২৪ ঘণ্টা) না খেয়ে পরদিন স্বাভাবিক খাওয়াদাওয়াও করা যায়।

কিটো ও ইন্টারমিটেন্ট একসাথে করা কতটা নিরাপদ:

সাধারণভাবে দেখলে কিটো ডায়েট ও ইন্টারমিটেন্ট একসাথে করা শরীরে কোন ক্ষতির কারণ বলে মনে হয় না। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন ভিন্ন কথা। দুইটি একসাথে করা ভালো সিদ্ধান্ত না বলে জানিয়েছেন তারা। প্রথমত কিটো এমন এক ধরণের ডায়েট যার মাধ্যমে শরীর সীমিত পরিমাণ পুষ্টি পেয়ে থাকে। পুষ্টির অনুপস্থিতি শরীরে থেকেই যায়। এর সাথে ইন্টারমিটেন্ট ডায়েট শরীরের উপর বাড়তি চাপ তৈরি করে। এর ফলাফল ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে পারে। মুড সুইং হতে পারে, শরীরে ক্লান্তি, অবসাদ আসতে পারে।

এছাড়াও, কিছু গবেষণা অনুসারে, কিটো ডায়েট ওজন হ্রাস করার একটি স্বল্প সময়ের পদ্ধতি। ডায়েট বজায় রাখার ফলে ওজন এবং রক্তের গ্লুকোজের মাত্রায় ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

কিটো এবং ইন্টারমিটেন্ট দুইটি নিজের জায়গা থেকে সফলতা এনে দেবে। দুটো ডায়েটকে একসাথে করার কোন প্রয়োজন নেই। বিষয়টি এমন নয় যে দুইটি ডায়েট একসাথে করলে শরীরে তাড়াতাড়ি বাড়তি ওজন ঝরিয়ে ফেলবে। নিজের শরীর বুঝে কার্যকর ও স্বাস্থ্যকর ডায়েট চার্ট পদ্ধতি অনুসরণ করা উচিত।

সূত্র: টাইমস অফ ইন্ডিয়া

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা