kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২২ শ্রাবণ ১৪২৭। ৬ আগস্ট  ২০২০। ১৫ জিলহজ ১৪৪১

করোনায় মাংস সংরক্ষণ

প্রবহমান পানিতে মাংস ধুয়ে নিন

অনলাইন ডেস্ক   

১ আগস্ট, ২০২০ ১৬:৪৯ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



প্রবহমান পানিতে মাংস ধুয়ে নিন

পশু কোরবানি, মাংস বণ্টন ও সংরক্ষণ নিয়ে করোনার সময়ে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। পরামর্শ দিয়েছেন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের ভাইরোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. নুসরাত সুলতানা। লিখেছেন আতিফ আতাউর

করোনার শুরুর সময়ে মাছ, মাংসসহ সব কিছুই ভালোভাবে সিদ্ধ করে খাওয়ার ব্যাপারে পরামর্শ পাওয়া যাচ্ছিল; যদিও মাংস থেকে করোনায় সংক্রমণের ঘটনা সম্পর্কে এখনো সুস্পষ্ট কিছু পাওয়া যায়নি। এর পরও মাছ, মাংস, তরিতরকারি সিদ্ধ করে খাওয়া ভালো। এতে হজমপ্রক্রিয়া সহজ হয়। কিন্তু কাঁচা মাংসের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সংরক্ষণের বিষয়ে করোনার এই সময়ে আমাদের বিশেষ কিছু নিয়ম মেনে চলা জরুরি। বিশেষ করে কোরবানির সময়ে। কারণ কোরবানি উপলক্ষে সারা দেশে গরু জবাই করা হয়। মাংস কাটাকুটি ও বণ্টন নিয়ে আনন্দঘন পরিবেশ তৈরির পাশাপাশি ছোট-বড় জটলা করতে দেখা যায়। এ সময় বেশি মাংস পাওয়ার কারণে অনেকেরই হয়তো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার প্রতি বেশি নজর থাকে না। এটা কিন্তু মোটেই ঠিক নয়। মহামারির এই সময়ে সতর্কতার অংশ হিসেবেই নিম্নোক্ত বিষয়গুলো মেনে চলুন। 

কসাই থেকে সাবধান
করোনা এখন উপসর্গবিহীন। কে করোনায় আক্রান্ত এখন আর তা কারো বোঝার উপায় নেই। শহর অঞ্চলে বেশির ভাগ মানুষ গরু কোরবানি করতে কসাইয়ের দারস্থ হন। এই সময়ে পারতপক্ষে কসাইদের দ্বারা কোরবানির মাংস কাটাকাটি না করাই ভালো। যদি তাদের দারস্থ হতেই হয়, তাহলে চেষ্টা করুন করোনা নেগেটিভ সনদ বিশিষ্ট কসাই ঠিক করতে। এখনো হাতে অনেকটাই সময় আছে। আগেভাগেই একজন কসাই ঠিক করুন। এরপর তাকে করোনা পরীক্ষা করিয়ে তার সঙ্গে চুক্তি করুন। করোনায় আক্রান্ত কসাই থেকে খুব সহজেই ভাইরাস মাংসের সংস্পর্শে চলে আসতে পারে। 

পরিবারের সবাই কোরবানিস্থলে নয়
করোনা এখন সমাজের সর্বস্তরে ছড়িয়ে গেছে। এর পরও সবচেয়ে ঝুঁকি হচ্ছে উপসর্গবিহীন করোনা রোগী। এ জন্য পরিবারের একের অধিক সদস্য জনসমাগমস্থলে না যাওয়াই ভালো। গরু জবাই থেকে শুরু করে মাংস কাটা ও বাসায় নিয়ে আসা, বণ্টন ও সংরক্ষণ পর্যন্ত দায়িত্ব পরিবারের একজনই পালন করুন। 

পরস্পর থেকে তিন ফুট দূরত্ব
এখন আশপাশের সবাইকে করোনায় আক্রান্ত ধরে নিয়ে চলতে হবে আমাদের। এ জন্য সংক্রমণরোধে প্রত্যেককেই পরস্পর থেকে তিন ফুট দূরত্বে অবস্থান করতে হবে। গরু জবাই, মাংস কাটা, বণ্টন থেকে শুরু করে সবাইকে এই দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। কোরবানির জায়গায় বেশি মানুষের জটলা সৃষ্টি হতে দেওয়া যাবে না। গরু কোরবানি থেকে শুরু করে মাংস কাটা এবং বণ্টনের জন্য সতর্কতা হিসেবে মাস্ক ও গ্লাভস ব্যবহার করুন। চাইলে পলিথিনের অ্যাপ্রন বা ডিসপোজেবল গাউন পরেও কোরবানি, কোরবানির মাংস কাটা ও বণ্টন করতে পারেন। গরু জবাই ও মাংস কাটার ছুরি, চাকু, দা, বঁটি আগে থেকেই ব্লিচিং মেশানো পানিতে ধুয়ে জীবাণুমুক্ত করে নিন। কোরবানিস্থলে হাত ধোয়ার জন্য সাবান-পানির ব্যবস্থা রাখা ভালো। যিনি বা যাঁরা কোরবানির মাংস কাটাবাছা, পরিষ্কার ও সংরক্ষণের দায়িত্বে থাকবেন তাঁরা বারবার সাবান পানি দিয়ে হাত ধুয়ে নিন। 

প্রবহমান পানিতে মাংস পরিষ্কার
আবদ্ধ পানিতে মাংস ধোয়ার কাজটি করোনার সময়ে মোটেই করা যাবে না। এতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজটি ঝুঁকিপূর্ণ থেকে যাবে। মাংস করোনাভাইরাস থেকে দূরে রাখতে প্রবহমান পানিতে খুব ভালো করে কচলিয়ে পরিষ্কার করতে হবে। 

করোনাকালীন মাংস সংরক্ষণ
কোরবানির সময়ে বেশি মাংসের কারণে অনেকেই তা না ধুয়েই ফ্রিজে সংরক্ষণ করেন। এটা করা যাবে না। সব মাংস অবশ্যই প্রবহমান পানিতে ভালো করে পরিষ্কার করে নিতে হবে। এরপর মাংস থেকে সব পানি ঝরিয়ে নিতে হবে। প্রয়োজনে হাত দিয়ে মাংস চিপে অতিরিক্ত পানি ঝরিয়ে নিন। এরপর ছোট ছোট প্যাকেটে মাংস ভরে ফ্রিজে সংরক্ষণ করতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে মাংস সংরক্ষণের ব্যাগটিও যেন পরিষ্কার হয়। প্রয়োজনে ডিটারজেন্ট মেশানো পানি দিয়ে মাংস সংরক্ষণের ব্যাগ ধুয়ে নিতে পারেন। এরপর প্রবহমান পানিতে ব্যাগটি পুনরায় ধুয়ে নিন। মাংস সংরক্ষণের ফ্রিজটি কোরবানির আগের দিন ভালো করে পরিষ্কার করে নিন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা