kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৪ আশ্বিন ১৪২৭ । ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০। ১১ সফর ১৪৪২

উপসর্গহীন বা সামান্য উপসর্গের করোনায় আক্রান্তরা কী করবেন?

অনলাইন ডেস্ক   

২৮ জুলাই, ২০২০ ২০:২৫ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



উপসর্গহীন বা সামান্য উপসর্গের করোনায় আক্রান্তরা কী করবেন?

বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস সম্পর্কে নিত্যনতুন নানা হাড় হিম করা তথ্য জানাচ্ছেন চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞরা। আমেরিকার সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ভয়ানক ভাইরাস নাকি ৪৯ দিন পর্যন্ত মানুষের শরীরে লুকিয়ে বাস করতে পারে। তবে সংক্রামক রোগ ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কভিড ১৯-এর সংক্রমণ হলেই যে হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে, তা নয়। অল্পবিস্তর উপসর্গ থাকলে বাড়িতে আলাদা থেকে চিকিৎসা করা উচিত। এর ফলে যাদের হাসপাতালে ভর্তি থেকে চিকিৎসা করা একান্ত দরকার, তাদের চিকিৎসাসেবা সহজ হবে।

ভারতের কার্শিয়াং এস ডি হাসপাতালের চিকিৎসক ত্রিবর্ণা সিনহা চক্রবর্তী জানালেন, কভিড-১৯ সংক্রমণ হলে ৮০ শতাংশ ক্ষেত্রে অত্যন্ত মৃদু উপসর্গ থাকে। তার জন্য হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার দরকার হয় না। ১৫ শতাংশ রোগীর উপসর্গ বেশি মাত্রায় হয় এবং শ্বাসকষ্ট থাকায় তাদের অক্সিজেন প্রয়োজন হয়। মাত্র ৫ শতাংশ রোগীর অবস্থা সংকটজনক হয় বলে তাদের ভেন্টিলেটর দিয়ে চিকিৎসা করা দরকার হয়।

নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণজনিত অসুখ অন্যান্য ভাইরাল জ্বরের মতোই। যেহেতু এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট কোনো ওষুধের খোঁজ এখনো পর্যন্ত পাওয়া যায়নি, তাই উপসর্গভিত্তিক চিকিৎসা করা হয়।

বাড়ির কোনো সদস্য করোনায় আক্রান্ত হলে অন্যদের টেস্ট করিয়ে পজিটিভ এলে এবং বিশেষ কোনো উপসর্গ না থাকলে অর্থাৎ অ্যাসিম্পটোম্যাটিক হলে তাদের হাসপাতালে আসার কোনো প্রয়োজন নেই। তবে রোগীর বয়স ৬০ বছর বা তার বেশি হলে এবং অনিয়ন্ত্রিত রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস থাকলে অথবা ক্রনিক কিডনির অসুখ কিংবা হার্টের সমস্যা থাকলে তাকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা উচিত।

কার বেশি বা কম উপসর্গ দেখা দেবে তা আগে থেকে বোঝা মুশকিল। ৫-১৪ দিনের মধ্যে কারো কারো হালকা থেকে মাঝারি উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

কী কী উপসর্গ  

* গলা ব্যথা

* হালকা জ্বর

* মাথা ও গা হাত-পা ব্যথা

* শুকনো কাশি

* গা ম্যাজম্যাজ করা

* গন্ধের অনুভূতি কমে যাওয়া

* পেটে ব্যথা

* ডায়রিয়া

* বমি ও বমি বমি ভাব

* ত্বকে র‍্যাশ

* চোখ লাল

এ ধরনের উপসর্গগুলো দেখলে অবশ্যই কভিড টেস্ট করান।


বাড়িতে থাকলে যেসব নিয়ম মানতে হবে

* শৌচাগারসংলগ্ন আলাদা ঘরে থাকতে হবে

* স্নান বা অন্য কারণে ঘরের বাইরে যাবেন না

* বাড়িতে থাকলেও ঘুম ও স্নানের সময় বাদে থ্রি লেয়ার যুক্ত মেডিক্যাল মাস্ক পরে থাকতে হবে, টানা আট ঘণ্টা মাস্ক পরার পর মাস্কটি জীবাণুমুক্ত করে কেটে টুকরো করে পেপার ব্যাগে করে ফেলে দিতে হবে।

* কখনোই টি জোন- অর্থাৎ মুখে নাকে বা চোখে হাত দেবেন না

* নিজের প্রত্যেক দিনের উপসর্গ খাতায় লিখে রাখুন

* পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি, শরবত, স্যুপ, ফল খেতে হবে

* মনের জোর বজায় রাখতে সচেতন হতে হবে। ভালো বই পড়ুন, গান শুনুন। বাড়ির মানুষ বা কাছের বন্ধুদের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলতে পারেন

* নিয়মিত চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ রাখুন, কোনো উপসর্গ বাড়লে জানান

* পালস অক্সিমিটারে নিয়ম করে অক্সিজেনের মাত্রা মাপতে হবে দিনে ৪–৫ বার। ৯৫ এর থেকে কম হলে চিকিৎসককে জানান।

* সুস্থ বোধ করলেও ১৪ দিন এই ভাবে আইসোলেশনে থাকতে হবে।

* নিয়মিত তাপমাত্রা মাপতে হবে গায়ে জ্বর না থাকলেও।

কখন হাসপাতালে যেতে হবে

* জ্বর বাড়ছে, অন্যান্য উপসর্গ কমছে না বরং বাড়ার দিকে

* ভয়ানক ক্লান্ত ও দুর্বল বোধ করছেন

* শ্বাসকষ্ট হচ্ছে

* বুকে চাপ ভাব বোধ করছেন

* মানসিক স্থিতাবস্থা চলে যাচ্ছে

করোনা নিয়ে সতর্ক থাকুন; কিন্তু অকারণে আতঙ্ক তৈরি করবেন না। সংক্রমণ আটকাতে সঠিক মাস্ক সঠিকভাবে পরুন, ভিড় এড়িয়ে চলুন, ভালো থাকুন।

সূত্র : আনন্দবাজারপত্রিকা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা