kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৪ আশ্বিন ১৪২৭ । ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০। ১১ সফর ১৪৪২

করোনায় বিশেষ শিশুদের জন্য করণীয়

ডা. গোপেন কুমার কুণ্ডু , চেয়ারম্যান, শিশু নিউরোলজি বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়

অনলাইন ডেস্ক   

২৫ জুলাই, ২০২০ ১১:২৬ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



করোনায় বিশেষ শিশুদের জন্য করণীয়

বিশ্বের প্রায় সব দেশেই এখন কভিড-১৯ ছড়িয়ে পড়েছে। করোনাভাইরাস বড়দের পাশাপাশি শিশুদেরও সংক্রমিত করে জীবনযাত্রাকে প্রভাবিত করছে। করোনার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব থেকে দূরে রাখতে অটিজম ও বিশেষ শিশুদের বেশ গুরুত্ব দিতে হবে। অভিভাবকদের উচিত তাদের খাওয়াদাওয়া, খেলাধুলা, বিশ্রাম, শিক্ষাদীক্ষা—সব কিছু একটি নির্দিষ্ট সময় অনুযায়ী চলতে অভ্যস্ত করানো।

খাবারদাবার
করোনার এই ক্রান্তিকালে অটিজম ও বিশেষ শিশুদের মাছ, মাংস, দুধ, ডিম, ডাল ইত্যাদি প্রোটিনজাতীয় খাবার একটু বেশি দিতে হবে, যা রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করবে। পাশাপাশি সবুজ শাকসবজি, ফলমূল, ভিটামিন ও মিনারেলযুক্ত খাবার ভাইরাসের আক্রমণ ঠেকাবে। এ সময় পান করতে হবে প্রচুর পরিমাণে পানি। দিনে তিন থেকে পাঁচবার গরম পানিতে লবণ দিয়ে লেবু চা পান করানো উচিত।

খেলাধুলা বা সময় কাটানো
করোনাকালে বিশেষ শিশুদের মধ্যে মানসিকভাবে এক ধরনের বিষণ্নতা ও উদ্বিগ্নতা কাজ করে। এ সময় তাদের যথেষ্ট সময় দিন। সম্ভব হলে বাড়ির ছোট ছোট কাজে নিয়োজিত রাখুন। পাজল, বাবল ফুলানো, টুকি, পুতুল, চা বানানো ইত্যাদি খেলায় নিয়োজিত রাখুন। এসব খেলায় মা-বাবাও অংশ নিয়ে খেলাকে আরো আনন্দময় ও প্রাণবন্ত করুন।

বাইরের খেলাধুলা
বলতে গেলে তিন-চার মাস ধরে শিশুরা ঘরবন্দি। এতে তাদের স্বাভাবিক জীবন-যাপন ব্যাহত হচ্ছে। সম্ভব হলে এ সময় স্বাস্থ্যবিধি মেনে খোলা মাঠে (যেখানে মানুষ কম) অথবা ছাদে বিকেলে খেলাধুলা অথবা হালকা শারীরিক শরীরচর্চার ব্যবস্থা করুন। এতে শিশুর শরীর ও মনে অনেক পরিবর্তন আসতে পারে। খোলা মাঠ ও ছাদে নেওয়া সম্ভব না হলে শিশুকে দিনের বেলায় ঘরের বারান্দা বা জানালার পাশে বসতে উৎসাহিত করুন।

শিশুর ঘুম
বিশেষ শিশুর ঘুমের প্রতি বিশেষ নজর রাখুন। মনে রাখবেন, রাতের স্বাভাবিক ঘুম দিনের আনন্দকে বাড়িয়ে দেবে অনেক গুণ। এ সময় তাদের মানসিক উদ্বিগ্নতা ও উৎকণ্ঠা বেশি বলে ঘুমের ব্যাঘাত হতে পারে। এ জন্য রাত ৯-১০টার মধ্যে বিছানায় শোয়ানোর অভ্যাস করুন। এ সময় মোবাইল ও অন্যান্য ডিভাইস দূরে রাখুন। ঘুম না হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী মেলাটনিনজাতীয় এক-দুটি ট্যাবলেট খাওয়াতে পারেন।

আচরণের প্রতি লক্ষ রাখুন
এ সময় বিশেষ শিশুর আচরণের ওপর মনোযোগ দিন। শিশুর হঠাৎ আচরণের পরিবর্তন দেখা গেলে, হঠাৎ অতিমাত্রায় চঞ্চলতা দেখা দিলে (হাইপার অ্যাক্টিভিটি) তার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। খেয়াল রাখুন এই সময় শিশু যেন অতিমাত্রায় ডিভাইসনির্ভর না হয়ে পড়ে।

শিক্ষাদীক্ষা বা পড়াশোনা
স্কুল হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশেষ শিশুদের আচরণে পরিবর্তন আসতে পারে। ওরা নির্দিষ্ট নিয়মের মধ্যে থাকতে চায় এবং রুটিন মেনে চলতে চায়। তাই এ সময় শিশুর জন্য বাসায় স্কুল সময়ে ১-২ ঘণ্টার একটি সেশনের আয়োজন করুন। সেটি হতে পারে সকাল ১০-১২টা বা ৯-১১টায়। স্কুলের সঙ্গে মিল রেখে শিশুকে বয়স অনুযায়ী ছবি আঁকা, ছড়া, গল্প বলা, ধর্মীয় বিধি-বিধান, গান বা মিউজিক শেখান। এতে সে শিক্ষায় পারদর্শী হবে এবং সময় ভালো কাটবে। এ সময় পড়াশোনার ব্যাপারে স্কুলশিক্ষকের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখুন।

করোনা উপসর্গ দেখা দিলে
বিশেষ শিশুদের করোনার উপসর্গ অন্য শিশুদের মতোই। যেমন—জ্বর, হাঁচি, কাশি, গলা ব্যথা, শ্বাসকষ্ট ইত্যাদি। উপসর্গগুলো অন্য শিশুদের মতো হলেও তারা আক্রান্ত হলে ঝুঁকি বেশি থাকে। কেননা তাদের রোগপ্রতিরোধক্ষমতা কম এবং তারা নিজেদের পরিষ্কার-পরিছন্নতা নিজেরা বজায় রাখতে পারে না। এ জন্য হালকা ঠাণ্ডা, কাশি, জ্বরের জন্য প্যারাসিটামল এবং অ্যান্টিহিস্টামিনজাতীয় ওষুধ খাওয়ানো যেতে পারে। জ্বরের জন্য শরীর স্পঞ্জ করতে হবে। গলা ব্যথা হলে লবণ ও গরম পানি দিয়ে গড়গড়া করা; গরম পানি, তুলসী পাতার রস পান করা যেতে পারে। জ্বর যদি না কমে তাহলে শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বা হাসপাতালে যোগাযোগ করতে হবে। তবে শিশুদের হাইপারঅ্যাক্টিভিটি ও অন্যান্য নির্ধারিত ওষুধ বন্ধ করার প্রয়োজন নেই।

সুরক্ষার জন্য ব্যবস্থা
শিশু বাইরে গেলে মাস্ক পরাবেন। দিনে তিন-চারবার সাবান-পানি দিয়ে (নিজে এবং শিশুকে) হাত ধুবেন, গরম পানি খাওয়াবেন কয়েকবার, বাসার খেলনাগুলো সপ্তাহে দুইবার পরিষ্কার করবেন। এই সময় বাড়িতে অতিথি প্রবেশ না করানোই ভালো। প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে কারোর যাওয়া উচিত নয়। জরুরি হলে শারীরিক দূরত্ব মেনে, মাস্ক পরে, হাঁচি, কাশির শিষ্টাচার মেনে, বাসায় ঢোকার আগ মুহূর্তে অ্যালকোহলযুক্ত হ্যান্ড স্যানিটাইজার দ্বারা হাত স্যানিটাইজ করে, সাবান দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। সর্বোপরি গোসল ও কাপড় ধৌত করে তারপর প্রিয় শিশুকে স্পর্শ করুন।

সর্বোপরি করোনার সময় অটিজম ও বিশেষ শিশুর প্রতি অধিক নজর রাখুন এবং নিয়মিত ওই শিশুর চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ রাখুন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা