kalerkantho

শনিবার । ২৪ শ্রাবণ ১৪২৭। ৮ আগস্ট  ২০২০। ১৭ জিলহজ ১৪৪১

করোনার চিকিৎসায় ১৯ রকম আয়ুর্বেদিক উপাদানের ট্রায়াল হচ্ছে ভারতে

ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল হবে গো-মূত্রের তৈরি ক্যাপসুলেরও

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৬ জুলাই, ২০২০ ১৯:০৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



করোনার চিকিৎসায় ১৯ রকম আয়ুর্বেদিক উপাদানের ট্রায়াল হচ্ছে ভারতে

ভারতের যোগগুরু রামদেবের প্রতিষ্ঠান পতঞ্জলির তৈরি করোনিল বিস্তর বিতর্ক চলছে দেশটিতে। তবে শুধু করোনিল নয় প্রায় ১৯ রকম আয়ুর্বেদিক উপাদান ও তাদের মিশ্রণের ট্রায়াল শুরু হতে চলেছে ভারতে। গোমূত্র পিল থেকে পঞ্চগব্য, হলুদ ও বিভিন্ন ভেষজ উপাদানের মিশ্রণ কভিড থেরাপিতে প্রয়োগের জন্য অনুমোদন পেয়েছে বলে জানা গেছে দেশটির স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে।

ভারতের বিকল্প চিকিৎসাবিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়ুষের তত্বাবধানে আয়ুর্বেদিক উপাদানের ট্রায়ালের জন্য তৈরি হয়েছে টাস্ক ফোর্স। দেশটির ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল রেজিস্ট্রিতে ওই ১৯ রকম আয়ুর্বেদিক উপাদানের পরীক্ষামূলক প্রয়োগের জন্য অনুমোন চাওয়া হয়েছিল। কোনো ওষুধ, ভ্যাকসিন বা থেরাপির ট্রায়াল করতে হলে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চ (আইসিএমআর)-এর অধীনস্থ ‘ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল রেজিস্ট্রি অব ইন্ডিয়া’ (সিটিআরআই)-র ‘ম্যান্ডেটেড প্রোটোকল’  মেনে চলতে হয়। সেখান থেকে ছাড়পত্র মেলার পরেই ড্রাগ কন্ট্রোলে আবেদন করতে হয়।

কী কী আয়ুর্বেদিক উপাদানের ট্রায়াল শুরু হবে?

গিলয় গোমূত্র

ভারতের গান্ধীনগর নিউরোপঞ্চ আয়ুর্বেদ হাসপাতালের ডাক্তার দীনেশচন্দ্র পাণ্ডের নেতৃত্বে গোমূত্র দিয়ে তৈরি ওষুধ গিলয় গোমূত্র ক্যাপসুলের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরু হতে চলেছে কভিড রোগীদের চিকিৎসায়। ডাক্তার জানিয়েছেন, এই ক্যাপসুলের সঙ্গেই অস্থিচূর্ণ ও কামধেনু অশ্বের কম্বিনেশন ট্রায়াল করা হবে। দুটি দলে ভাগ করে এই ওষুধের মিশ্রণের ট্রায়াল হবে। একটি দলকে আয়ুর্বেদিক ওষুধের মিশ্রণ খাওয়ানো হবে, অন্যদলকে দেওয়া হবে অ্যালোপ্যাথি ওষুধ। এই দুই দলের তুলনামূলক রিপোর্ট বিশ্লেষণ করা হবে।

দীনেশচন্দ্র পাণ্ডে বলেন, গিলয় গোমূত্র বিভিন্ন রোগের থেরাপিতে কাজে লাগে। যদিও এই ওষুধের গুণাগুণ কেমন, বা চিকিৎসায় তার প্রভাব কিরকম, সে বিষয়ে কোনো বিজ্ঞানসম্মত তথ্য বা রিপোর্ট নেই। 

পঞ্চগব্য

গোজাত বিভিন্ন দ্রব্য দিয়ে তৈরি হয় পঞ্চগব্য। গোবর, গোমূত্র, গরুর দুধের সঙ্গে নির্দিষ্ট অনুপাতে দই ও ঘি মিশিয়ে তৈরি করা হয় এই আয়ুর্বেদিক ওষুধ। ডাক্তার পাণ্ডের দাবি, সংক্রমণজনিত রোগের চিকিৎসায় এই পঞ্চগব্যের সুফলের কথা আগেই জানা গেছে। করোনা থেরাপিতে এই ওষুধ প্রয়োগ করে দেখা হবে।

কাবাসুরা কুদিনার

কাবাসুরা হলো আয়ুর্বেদিক সিদ্ধার একটি ফর্মুলা। দেশটির আয়ুষ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনেই সিদ্ধা ও অন্যান্য ভেষজ উপাদান দিয়ে করোনার ওষুধ তৈরির চেষ্টা চলছে। তামিলনাড়ুর সরকারি হাসপাতালে করোনা রোগীদের চিকিৎসায় কাবাসুরার পরীক্ষামূলক প্রয়োগ করতে চলেছেন ডাক্তার সি আনবারাসি। তিনি জানিয়েছেন, আদা, লবঙ্গ, পিপ্পালিসহ ১৫ রকম উপকরণ দিয়ে তৈরি হয় এই ওষুধ। দক্ষিণ ভারতেই এর প্রয়োগ বেশি হয়। ডাক্তারের কথায় করোনা সংক্রমণে জ্বর, সর্দি-কাশি, নাকের গন্ধ চলে যাওয়া ইত্যাদি যে উপসর্গগুলো দেখা যাচ্ছে, তার চিকিৎসায় এই সিদ্ধার ফর্মুলা প্রয়োগ করে দেখা যেতে পারে।

হলুদ

হলুদের উপাদান কারকুমিনের সঙ্গে ভিটামিনের কম্বিনেশন কভিড থেরাপিতে ট্রায়াল করতে চলেছেন মুম্বাইয়ের অ্যালোপ্যাথি চিকিৎসক যোগেশ অরুণ দাউন্দ। তিনি জানিয়েছেন, কারকুমিনের অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি ও অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট গুণকে কভিড রোগীদের চিকিৎসায় কাজে লাগানো যেতে পারে। হার্টের রোগ, অ্যালঝাইমার্স, ক্যানসার থেকে যে কোনো প্রদাহজনিত রোগের থেরাপিতে কারকুমিন কাজে লাগে।

কারকুমিন আর ব্ল্যাক পেপার ট্যাবলেট

নাসিকের প্রত্যন্ত এলাকায় কারকুমিন আর ব্ল্যাক পেপার ট্যাবলেটের কম্বিনেশন ট্রায়াল করবেন ভারতের বিখ্যাত ডাক্তার কৃতী পাওয়ার। এক মাসের জন্য কভিড রোগীদের বিভিন্ন ডোজে এই কম্বিনেশন দিয়ে পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। ডাক্তার কৃতী বলেছেন, জিকা ভাইরাসের সংক্রমণ রুখতে কারকুমিনের সুফল দেখা গেছে। এই ওষুধ আর ব্ল্যাক পেপার ট্যাবলেটের মিশ্রণ রক্ত জমাট বাঁধা আটকাবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা