kalerkantho

শুক্রবার । ১৯ আষাঢ় ১৪২৭। ৩ জুলাই ২০২০। ১১ জিলকদ  ১৪৪১

লকডাউন শিথিল হলে কিভাবে নিরাপদ থাকব?

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৩০ মে, ২০২০ ১৪:৪২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



লকডাউন শিথিল হলে কিভাবে নিরাপদ থাকব?

সারা বিশ্বজুড়ে চলছে করোনা প্রকোপ। এরই মধ্যে বিশ্ব অর্থনীতিকে বাঁচাতে বেশিরভাগ দেশেই লকডাউন শিথিল করা হয়েছে। অনেক দেশেই সীমিত আকার লকডাউন শিথিল করা হয়েছে। তবে এখন প্রশ্ন হলো লকডাউন শিথিল করা হলে কিভাবে করোনার হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে। বাড়ির বাইরে কিভাবে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা সম্ভব। ঘরের বাইরে অফিস রেস্তোরায় কিভাবে সাবধানতা অবলম্বন করা যায় এ বিষয়ে বিজ্ঞানীরা অনুসন্ধান চালাচ্ছেন। ভাইরাস কিভাবে ছড়াতে পারে এবং কোথায় ছড়ানোর সম্ভবনা বেশি সে বিষয়ে আগে নিশ্চিত হতে হবে।

যে বিষয়গুলো অবশ্যই মেনে চলতে হবে:

প্রথমে যা খেয়াল রাখতে হবে তা হলো সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা। ১৯৩০ সাল থেকে শুরু হওয়া গবেষণায় দেখা যায়, যখন কেউ কাশে তখন ড্রপলেটস বাতাসে মিশে যায় বা ১ মিটার দূরত্বে যেয়ে মাটিতে পড়ে। এ থেকেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ১ মিটার দূরত্ব বজায় রাখার কথা বলছেন। কোন কোন দেশের সরকার দেড় মিটার দূরত্ব বজায়ের কথা বলছে, আবার কেউ বলছে ২ মিটারের কথা। মূল বিষয়টি হলো আপনি যত দূরে থাকবেন তত নিরাপদে থাকবেন।

দ্বিতীয়ত বিষয়টি সময়। আপনি কতক্ষণ ধরে অন্য কারো সাথে আছেন তা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ব্রিটেন সরকার বলছে করোনা আক্রান্ত ব্যক্তির সাথে ১ মিটার দূরে থেকে ৬ সেকেন্ড সময় কাটানো আর ২ মিটার দূরত্ব থেকে ১ মিনিট সময় কাটানোও সমান ঝুঁকি। যেখানে কোনও সহকর্মীর কাছ থেকে আপনার দূরত্ব রাখা সম্ভব নয়, সেখানে সময়টি ১৫ মিনিটের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত।

 সময় নির্ধারণের পাশাপাশি আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা রয়েছে বায়ুচলাচল। বাইরে থাকা সবচেয়ে ঝুঁকি বহন করে কারণ সংক্রামিত কারও দ্বারা  যে কোনও ভাইরাস বাতাসে মিশ্রিত হবে। ব্রিটিশি সরকার বলছে দরজার বাইরেও ২ মিটার দূরে থাকুন। আর কাছাকাছি থাকলে মুখোমুখি কথা বলার চেষ্টা করবেন না। তবে ভিতরে, যেখানে খুব বেশি বাতাস চলাচল করেনা আর অনেক মানুষ  দীর্ঘ সময়ের জন্য একত্রে থাকতে পারে সেখানে সংক্রামিত হওয়ার সম্ভাবনা সম্ভবত আরও বেশি।

কোনও রেস্তোরাঁর অভ্যন্তরে ঝুঁকিগুলি কী কী?

চীন শহর গুয়াংজুতে করা একটি গবেষণা থেকে জানা যায়, কীভাবে ক্লাস্টার সংক্রমণ অর্থাৎ গুচ্ছ সংক্রমণ ঘটেছে। রেস্তোরাঁয় টেবিলে বসে কয়েকজন খাবার খাচ্ছিল। এর মধ্যে একজন আক্রান্ত হয়েছিল কিন্তু তার কোন লক্ষণ না থাকায় সে বুঝতে পারেনি। পরের দিনগুলিতে, সেই সময়ে রেস্তোরাঁয় থাকা আরও নয় জন লোক করোনায় আক্রান্ত হয়  যার পাঁচ জন যারা আরও কয়েক মিটার দূরে অন্য টেবিলে বসে ছিলেন। সংক্রমণের মূল কারণটি ছিল বায়ুপ্রবাহের দিকনির্দেশনা।

 কর্মক্ষেত্রে ঝুঁকিগুলো কি?

অফিস এবং কারখানায় সামাজিক দূরত্ব কঠোরভাবে মেনে চলা উচিত। আপনি সহকর্মীদের খুব কাছে গিয়েছেন কিনা তা খতিয়ে দেখতে একটি পরীক্ষার ব্যবস্থা করেছেন যুক্তরাজ্যের একজন চিকিৎসক।  আপনি যদি আপনার সহকর্মীর মুখের অ্যালকোহল বা তরকারির গন্ধ পান তাহলে বাতাসে বহনকারী ভাইরাসও খুব সহজে শ্বাস নেওয়ার মাধ্যমে আপনার শরীরে প্রবেশ করবে।

করোনা থেকে নিজেকে রক্ষা করতে যে জিনিসটি জরুরী তা হলো হাত ধোওয়া। আপনি যখন কোনও সহকর্মীর সাথে কথা বলছেন তখন আপনি তাদের স্পর্শ করবেন না এবং দূরত্ব বজায় রাখবেন।সুরক্ষিত থাকার একটি উপায় নেই সুরক্ষিত থাকার জন্য একসাথে কয়টি পদ্ধতি অবলম্বন করা উচিত।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা