kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ২ জুন ২০২০। ৯ শাওয়াল ১৪৪১

হোম কোয়ারেন্টিনে ঘরের নারীদের কাজে সহায়তা করছেন তো?

রোদেলা নীলা   

৩ এপ্রিল, ২০২০ ১১:২৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



হোম কোয়ারেন্টিনে ঘরের নারীদের কাজে সহায়তা করছেন তো?

লকডাউন বা কোয়ারেন্টিন শব্দটির সাথে আমরা প্রায় সবাই পরিচিত হয়ে গেছি। এভাবে দিনের পর দিন ঘরের ভেতর নিজেদের আটকে রাখতে হবে; এ ভাবনা কোনো দিন কারো মাথায় এসেছিল? শুধু বাংলাদেশ নয় , করোনাভাইরাস আতঙ্কে থেমে গেছে গোটা পৃথিবী, থেমে গেছে সামাজিক আনাগোনা।

কারো ঘরে গৃহপরিচারিকার প্রবেশ নিষিদ্ধ হয়ে গেছে, আবার কারো বা গাড়িচালকের। সবাইকে ঘরে বসে থাকতে হচ্ছে। তাই বলে কী থেমে গেছে আহার, নিদ্রা বা গৃহস্থালির কাজ! বরং আগের চাইতে অনেক বেশি বেড়ে গেছে। হোম কোয়ারেন্টিন কিংবা লকডাউন পরিস্থিতির ফলে স্কুল-কলেজ-অফিস বন্ধ। তাই পরিবারের সদস্যরা একইসাথে এখন বাড়িতে উপস্থিতি। ফলে গৃহিনীদের কাজও বেড়ে গেছে কয়েক গুণ।

এখন কথা হচ্ছে, এই অফুরন্ত সময় কী কেবল নেট ব্রাউজ করেই কাটাচ্ছেন নাকি নিজের স্ত্রী, মা বা বোনকে ঘরের কাজে সাহায্য করছেন? এবার পুরুষদের সময় হয়েছে বাড়ির কয়েক গুণ বেড়ে যাওয়া কাজ সামলাতে এগিয়ে আসার। 

আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে দেখা যায় বেশিরভাগ ছেলেরাই অতি আহ্লাদে বড় হয়। তারা নিজের পানিটাও হাত দিয়ে পান করতে অভ্যস্থ নয়। অবশ্য এজন্য দায়ী আমাদের মমতাময়ী মায়েরা। অধিকাংশ মা ছোটখাটো কাজগুলো ছোটবেলা থেকে মেয়েদের শেখায়। কোন এক অদ্ভুত কারণে তারা ধরেই নেন যে, ঘরের কাজ ছেলেদের শেখার দরকার নেই।

কিন্তু কাজের মধ্যে ছেলে বা মেয়ের কোনো ব্যবধান থাকে না। এই আদরের ছেলেটিই যখন উন্নত বিশ্বে পড়তে যায় তখন তার কি অবস্থা হয়? খুবই কষ্টে পড়ে যেতে হয় তাকে। নিজের কাপড় ধোয়া, ঘর পরিষ্কার করা, অতঃপর রান্না করে নিজের লেখাপড়ার কাজটিও চালিয়ে নিতে হয়। দুর্দশা আর কষ্টের যেন শেষ নেই। এই অভ্যাসগুলো যদি ছোটবেলা থেকেই তৈরি হতো, তবে সুবিধা কিন্তু তাদেরই।

আর যারা বাচ্চাদের নিয়ে একা থাকেন কিংবা বিবাহবিচ্ছেদ ঘটেছে যাদের, তাদের তো নিজ সন্তানকেও নিজ হাতে খাইয়ে দিতে হয়। তাদের কাজে সহায়তা করবার মতো নারী গৃহপরিচারিকাও পাওয়া যায় না। 

তাই আর দেরি কেন! লক ডাউনের এই সময়টি দারুণভাবে কাজে লাগান। ইউটিউব দেখে মজার মজার রেসিপি বানিয়ে মাকে অথবা বৌকে চমকে দিন। তাই বলে রান্নাঘরের এঁটো থালা-কড়াই আবার তুলে রাখবেন না তাদের জন্য। রান্না-খাওয়ার পর ওগুলো পরিষ্কার করে ফেলুন। জানেন তো পৃথিবীর সেরা রাঁধুনি কিংবা গৃহরক্ষক কিন্তু পুরুষ। 

টুকটাক কাজগুলোও বাড়ির ছেলেরাই করে ফেলুন। এই যেমন মশারি টাঙানো, প্লেট বাটি ধোয়া, ঘর ঝাড়ু দেওয়া, সবজি কেটে দেওয়া। এভাবেই কিছু কাজ করতে করতে আপনি এতোটাই অভ্যস্ত হয়ে যাবেন যে তখন অফিস থেকে বাড়ি ফিরলে নিজের ঘর নিজে না গোছালে খুব অস্বস্তি লাগবে। এমন দুর্বিষহ সময় নিশ্চয়ই আমাদের আজীবন থাকবে না, কিন্তু নিজেকে বদলে ফেলার দারুল সুযোগ এটা।

তাই লকডাউনের এই পরিস্থিতিতে বাড়িতেই থাকুন। নারী সদস্যদের ওপর হুকুম তামিল নয়, তাদের হাতের কাজে সাহায্য করুন।

লেখক: গল্পকার এবং নাগরিক সাংবাদিক

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা