kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৭ চৈত্র ১৪২৬। ৩১ মার্চ ২০২০। ৫ শাবান ১৪৪১

করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে শক্তি যোগাবে এই ১০ খাবার

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৮ মার্চ, ২০২০ ২২:০৭ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে শক্তি যোগাবে এই ১০ খাবার

কোভিড-১৯ বা করোনাভাইরাস বিশ্বজুড়ে মহাবিপর্যয় সৃষ্টি করেছে। এরই মধ্যে আক্রান্ত হয়েছে প্রায় দুই লাখ মানুষ। মৃত্যু হয়েছে ৮ হাজার। আশ্চর্য ক্ষমতাধর এই ভাইরাসের হাত থেকে কিভাবে নিজেকে রক্ষা করা যায় সেটা নিয়ে চিন্তিত সবাই। এখনও আবিষ্কৃত হয়নি কোনো কার্যকরী ভ্যাকসিন বা টিকা। তবে গবেষণায় দেখা গেছে, শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি থাকলে করোনাভাইরাস খুব একটা সুবিধা করতে পারে না। কিছু নির্দিষ্ট খাবার খাওয়ার মাধ্যমে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করা যায়। এটা আপনাকে করোনায় আক্রান্তের হাত থেকে বাঁচাতে না পারলেও লড়াইটা সহজতর করে তুলবে। মৃত্যুর ঝুঁকি অনেক কমিয়ে দেবে। তো আসুন জেনে নেই এমন ১০টি খাবার সম্পর্কে।

১) লেবু জাতীয় ফল

শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে লেবু জাতীয় ফল খুবই কার্যকরী। হেলথ গাইডেন্স ওয়েবসাইট হেলথলাইনে প্রকাশিত তথ্য মতে, বেশিরভাগ মানুষ সর্দি-কাশিতে আক্রান্ত হয় ভিটামিন সি এর অভাবে। লেবু জাতীয় ফলে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি রয়েছে, এটি আপনার রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে মজবুত করতে সহায়তা করে। ভিটামিন-সি সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের মূল চাবিকাঠি শ্বেত রক্ত ​​কোষের উৎপাদন বাড়িয়ে দেয়। ভিটামিন সি-ত্বক, দাঁত ও চুল ভালো রাখতে সাহায্য করে। পাশাপাশি এটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে, যা মানবদেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বাড়িয়ে হৃদ্‌রোগ, ক্যানসারসহ বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি হ্রাস করে। পরিচিত কিছু ফল এবং শাকসবজি যেমন: আমলকী, লেবু, কমলালেবু, পেয়ারা, জাম্বুরা, আমড়া, পেয়ারা, পেঁপে, কাঁচা মরিচ ইত্যাদিতে প্রচুর পরিমাণে থাকে।

২) জিংক

শরীরে জিঙ্কের ঘাটতি হলে রক্তে শ্বেতকণিকার ক্ষমতা কমে যেতে পারে। ফলে দেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। বাদাম, শিম, দুগ্ধজাত পণ্যে জিঙ্কের পরিমাণ বেশি থাকে। মনে রাখবেন, শিশুদের ক্ষেত্রে জিঙ্কের পরিমাণ কমে গেলে তারা বেশি ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যায়।

পুষ্টি প্রতিষ্ঠান নাওরিসড এর প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও মেলিসা স্নোভারের মতে, 'জিঙ্কের অভাব একজন ব্যক্তিকে রোগ এবং অসুস্থতার জন্য আরও বেশি সংবেদনশীল করতে পারে।

এই অপরিহার্য পুষ্টি শরীরের নতুন কোষ এবং এনজাইমগুলি তৈরিতে, শর্করা, চর্বি এবং প্রোটিন জাতীয় খাবার তৈরির ক্ষমতা বজায় রাখতে সহায়তা করে এবং পেশী এবং ক্ষত নিরাময়ের গতিও বাড়ায়।

জিঙ্কের উচ্চতর খাবারগুলির মধ্যে লাল মাংস, শেলফিস, ডিম, বাদাম, মটরশুটি, ছোলা, মসুর ডালে প্রচুর পরিমাণে জিংক রয়েছে।

৩) ব্রোকলি

ব্রকলি ভিটামিন এবং খনিজ দিয়ে পরিপূর্ণ একটি খাবার। ভিটামিন এ, সি এবং ই এর পাশাপাশি অনেকগুলি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং ফাইবার রয়েছে এতে। ব্রোকলি হল স্বাস্থ্যকর সবজিগুলির মধ্যে একটি যা আপনি আপনার খাবার টেবিলে রাখতে পারেন।

৪) আদা

শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির আরেকটি আন্যতম উৎস হল আদা। যখন ঠান্ডা অনুভূত হয় বা সর্দি লাগে তখন আদা খেলে খুব ভালো উপকার পাওয়া যায়। এটা শরীরের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৃদ্ধি করে। আয়রন, দস্তা, ক্যালসিয়াম এবং ম্যাগনেসিয়ামে ভরা আদা ঠান্ডা,জ্বর, বমি বমিভাব এর বিরুদ্ধে লড়াই করে বলে মনে করা হয়।

৫) রসুন

আমাদের রান্নার একটি প্রধান উপাদান রসুন। এটা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখে। রসুনকে আমরা রান্নায় ব্যবহার করলেও এটা আসলে একটা প্রাকৃতিক ওষুধ। রসুনে থাকে ম্যাঙ্গানিজ,ভিটাম বি-৬ এবং সি, পাশাপাশি সেলেনিয়াম এবং ফাইবার। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে এই যৌগগুলির ক্ষমতা অনেক বেশি। রসুন একটি শক্তিশালী অ্যান্টি-ভাইরাল, অ্যান্টি-ফাঙ্গাল এজেন্ট এবং এটি কাঁচা খাওয়া বা আপনার সাধারণ খাবারের পাশাপাশি এটি রান্না করেও খেতে পারেন। সব ভাইরাস নির্মূল হয়ে যাবে।

৬) দই

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার বৃদ্ধির আরেকটি অন্যতম খাবার হল দই। হেলথলাইনের মতে, দই ভিটামিন ডি-এর একটি দুর্দান্ত উৎসও হতে পারে। ভিটামিন ডি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করতে সহায়তা করে এবং আমাদের দেহের রোগ প্রতিরোধের জন্য প্রাকৃতিক প্রতিরোধকে বাড়িয়ে তোলে বলে মনে করা হয়।

৭) সূর্যমুখী বীজ

সূর্যমুখী বীজে প্রচুর পরিমানে ফসফরাস, ম্যাগনেসিয়াম এবং ভিটামিন বি ৬ রয়েছে। এগুলি একটি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এছাড়া এতে উচ্চমাত্রার ভিটামিন ই রয়েছে। ভিটামিন ই ইমিউন সিস্টেমের কার্যকারিতা নিয়ন্ত্রণ ও বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে।  আ্যাভোকাডো এবং পাতাযুক্ত শাকেও প্রচুর ভিটামিন ই রয়েছে।

৮) মাশরুম

মাশরুমে প্রায় ৪০০ প্রজাতির ছত্রাক রয়েছে যা এগুলোর ঔষধী গুণাবলী দ্বারা চিহ্নিত হয়েছে। এছাড়া মাশরুমে অনেক অ্যান্টিভাইরাল, অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল বা অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি গুণ রয়েছে। মাশরুমগুলিতে বিটা গ্লুকান বেশি রয়েছে - আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে উন্নত করতে প্রাকৃতিকভাবে সাহায্য করে। এটি নিশ্চিত যে মাশরুম ভাইরসের সংক্রমণের বিরুদ্ধেও কার্যকরি।

৯) লাল মরিচ

হেলথলাইনের মতে লাল মরিচে লেবু জাতীয় ফলের চেয়েও দ্বিগুণ ভিটামিন সি রয়েছে। এগুলি বিটা ক্যারোটিনের একটি সমৃদ্ধ উৎস। আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি, ভিটামিন সি স্বাস্থ্যকর ত্বক বজায় রাখতে সহায়তা করতে পারে। বিটা ক্যারোটিন আপনার চোখ এবং ত্বকের জন্য স্বাস্থ্যকর।

১০) প্রক্রিয়াজাত খাবার

ফার্মেন্টেড ফুড বা গাঁজায়িত খাদ্য হচ্ছে প্রাণীজ বা উদ্ভিজ্ব উৎসের সে সকল খাদ্য, যা ল্যাক্টোফারমেন্টশোন পদ্ধতিতে উৎপাদিত হয়; যেখানে প্রাকৃতিকভাবে বিরাজমান ব্যাকটেরিয়া, চিনি ও শর্করা জাতীয় খাদ্যের উপর নির্ভর করে এবং ল্যাকটিক এসিড উৎপাদন করে। এ ধরণের খাবার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক। 

গাঁজায়িত গন্ধযুক্ত খাবারগুলি আপনার অন্ত্রে ভাল ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধিতে সাহায্য করে এবং যখন তাদের মাত্রা বেশি থাকে তখন আপনার প্রতিরোধ ক্ষমতাও বেশি হয়। তাই ভাইরাসের সংক্রমণের হাত থেকে রক্ষা পেতে বেশি বেশি ফার্মেন্টেড ফুড খান। দই, পান্তা ভাত, শুটকি মাছ ইত্যাদি ফার্মেন্টেড খাবার খেতে পারেন। এছাড়া বাঁধাকপির সঙ্গে লবণ মিশিয়ে উচ্চ ব্যকটেরিয়া সমৃদ্ধ ফার্মেনন্টেড ফুড ঘরেই তৈরি করে নিতে পারেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা