kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৭ চৈত্র ১৪২৬। ৩১ মার্চ ২০২০। ৫ শাবান ১৪৪১

যে ১০টি খাবার ও ভিটামিন করোনার বিরুদ্ধে লড়বে!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৬ মার্চ, ২০২০ ২০:৫৩ | পড়া যাবে ৬ মিনিটে



যে ১০টি খাবার ও ভিটামিন করোনার বিরুদ্ধে লড়বে!

প্রাণঘাতী কোভিড-১৯ করোনাভাইরাস আতঙ্কে ভুগছে পুরো বিশ্ব। ছড়িয়েছে বিশ্বের ১৩০টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চলে। করোনার ভয়াল থাবা থেকে মুক্ত নয় বাংলাদেশও। এরই মধ্যে দেশে ৮ জন করোনা আক্রান্ত রোগীর সন্ধান পাওয়া গেছে বলে সরকারিভাবে জানানো হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে আমাদের সচেতনতাই কেবল পারে এই ভাইরাসকে রুখে দিতে। শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী হলে করোনাভাইরাসের কাছে ঘায়েল হতে হবে না। বরং লড়াই করার শক্তি থাকবে। তাই এমন সব খাবার খান যা আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াবে। চলুন জেনে নেয়া যাক এমন ১০টি খাবার সম্পর্কে। যেগুলো খেলে করোনা থেকে বাঁচতে পারবেন-

১) ভিটামিন সি

ভিটামিন সি এর অপর নাম অ্যাসকরবিক অ্যাসিড। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে এর জুড়ি মেলা ভার। ইট বার্ন স্লিপ-এর প্রতিষ্ঠাতা ইয়ালদা টি আলাউই জানিয়েছেন, 'ইমিউন সিস্টেম বাড়াতে ভিটামিন সি অপরিহার্য। কাঁচা আপেল,কমলা, গাজর ইত্যাদি খাবারে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি, ফাইবার এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে। সাপ্লিমেন্টারি ভিটামিন সি খাওয়ার চেয়ে ফলমুলের মাধ্যমে খাওয়া আরও বেশি কার্যকর। এটা ধীরে ধীরে আমাদের শরীরের সঙ্গে মিশে যায়।

২) জিংক

স্বাস্থ্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থার জন্য এটি খুবই প্রয়োজনীয়। পুষ্টি প্রতিষ্ঠান নাওরিসড এর সিইও মেলিসা স্নোভার বলেছেন, 'জিঙ্কের অভাব একজন ব্যক্তিকে রোগ-ব্যাধির জন্য আরও বেশি সংবেদনশীল করে তুলতে পারে। এই প্রয়োজনীয় পুষ্টিগুণ শরীরের নতুন কোষ এবং এনজাইমগুলি তৈরিতে, কার্বোহাইড্রেট প্রক্রিয়াজাতকরণ, খাবারে ফ্যাট এবং প্রোটিন তৈরিতে সহায়তা করে এবং পেশী এবং ক্ষত নিরাময়ের গতি বাড়ায়। কিছু প্রমাণে এও বোঝায় যে জিংক সর্দি এবং ভাইরাস প্রতিরোধে সহায়ক। এলার্জি ও জ্বরে আক্রান্তদের লক্ষণগুলি হ্রাস করে।' তবে কোন কোন খাবারে প্রচুর পরিমাণে জিংক থাকে? আপনি যদি মাংস খেতে পছন্দ করেন তাহলে সেটা আপনার জন্য সুসংবাদ। লাল মাংসে প্রচুর পরিমাণে জিঙ্ক থাকে। এছাড়া, যেমন আঁশযুক্ত মাছ,ডিম, বাদাম,শিম, ছোলা, মসুর, মটরশুটি ইত্যাদিও খেতে পারেন। এগুলোতে প্রচুর পরিমাণে জিংক থাকে।

৩) প্রক্রিয়াজাত খাবার

ফার্মেন্টেড ফুড বা গাঁজায়িত খাদ্য হচ্ছে প্রাণীজ বা উদ্ভিজ্ব উৎসের সে সকল খাদ্য, যা ল্যাক্টোফারমেন্টশোন পদ্ধতিতে উৎপাদিত হয়; যেখানে প্রাকৃতিকভাবে বিরাজমান ব্যাকটেরিয়া, চিনি ও শর্করা জাতীয় খাদ্যের উপর নির্ভর করে এবং ল্যাকটিক এসিড উৎপাদন করে। এ ধরণের খাবার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক। 

গাঁজায়িত গন্ধযুক্ত খাবারগুলি আপনার অন্ত্রে ভাল ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধিতে সাহায্য করে এবং যখন তাদের মাত্রা বেশি থাকে তখন আপনার প্রতিরোধ ক্ষমতাও বেশি হয়। তাই ভাইরাসের সংক্রমণের হাত থেকে রক্ষা পেতে বেশি বেশি ফার্মেন্টেড ফুড খান। দই, পান্তা ভাত, শুটকি মাছ ইত্যাদি ফার্মেন্টেড খাবার খেতে পারেন। এছাড়া বাঁধাকপির সঙ্গে লবণ মিশিয়ে উচ্চ ব্যকটেরিয়া সমৃদ্ধ ফার্মেনন্টেড ফুড ঘরেই তৈরি করে নিতে পারেন।

৪) আদা

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে আদা একটি যাদুকরি উপাদান। বিশেষত যদি আপনি এরই মধ্যে ঠান্ডায় ভুগতে থাকেন তবে এটা আপনাকে রক্ষা করবে। আদায় থাকা অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট শীত ও ফ্লু উপসর্গ, বমি বমিভাব ইত্যাদির বিরুদ্ধে লড়াই করে। এছাড়া, আয়রন, দস্তা, ক্যালসিয়াম এবং ম্যাগনেসিয়ামে পরিপূর্ণ বলে আদা রোগ প্রতিরোধের লড়াইয়ে দারুণ কার্যকরি। ২০০১৩ সালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে, তাজা আদা শরীরের শ্বাসযন্ত্রের উন্নতিতে সহায়তা করে, তবে শুকনো আদা একই ফলাফল প্রদর্শন করেনি। এটি আপনার পেটের পক্ষেও দুর্দান্ত, গবেষণা অনুসারে আদা হজম এবং কোষ্ঠকাঠিন্যে সহায়তা করতে পারে।

৫) এলডারবেরি টিঙ্কচার

এলডারবেরি টিঙ্কচার হল ফুল এবং বাকলের মিশ্রণে তৈরি এক প্রকার ভেষজ ওষুদ। প্রাচীন কাল থেকেই এটা জ্বর, মুখের জ্বালা এবং শ্বাস প্রশ্বাসের সংক্রমণ যা সর্দি, কাশি, সাইনোসাইটিস সৃষ্টি করে ইত্যাদির নিরাময়ে ব্রবহার হযে আসছে। এলডারবেরিতে মূত্রবর্ধক, রেচক, অ্যান্টিরিউম্যাটিক এবং অন্যান্য বৈশিষ্ট্য রয়েছে। যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ব্যাপক কার্যকরি বলে প্রমাণিত। আপনি ভেষজ ওষুধের দোকানে এটা পেতে পারেন অথবা নিজেও তৈরি করে নিতে পারেন। ১০০ শতাংশ খাঁটি ভোদকার সঙ্গে কালোজাম মিশিয়ে ৬ সপ্তাহ রেখে দিলে এলডারবেরি টিঙ্কচার তৈরি হয়ে যাবে। 

৬) হাড়ের ঝোল

এই খাবারটি অবশ্য নিরামিষভোজী বা নিরামিষাশীদের জন্য উপযুক্ত নয়। তবে আপনি যদি মাংস খান, তাহলে হাড়ের ঝোল আপনার জন্য খুবই উপকারী উপাদান হতে পারে। হাড়ের ঝোল এল-গ্লুটামিনে পূর্ণ, এটি শরীরের জন্য আতি প্রয়োজনীয় অ্যামিনো অ্যাসিড সরবরাহ করে যা শরীর উৎপাদন করতে পারে না এবং কেবল খাবার থেকেই পেতে পারে। গ্লুটামাইন অন্ত্রের  প্রাচীর সহ কোষের মেরামতকে সহায়তা করে। শক্তিশালী ইমিউন সিস্টেমের জন্য একটি স্বাস্থ্যকর এবং রোগমুক্ত অন্ত্র অপরিহার্য। যদি আপনি হাড়ের সঙ্গে ভিনেগার এবং পানি মিশিয়ে ফুটান তাহলে এটা ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম এবং পটাসিয়ামযুক্ত খাবার উৎপন্ন করবে। এটা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

৭) রসুন

আমাদের রান্নার একটি প্রধান উপাদান রসুন। এটা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখে। রসুনকে আমরা রান্নায় ব্যবহার করলেও এটা আসলে একটা প্রাকৃতিক ওষুধ। রসুনে থাকে ম্যাঙ্গানিজ,ভিটাম বি-৬ এবং সি, পাশাপাশি সেলেনিয়াম এবং ফাইবার। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে এই যৌগগুলির ক্ষমতা অনেক বেশি। রসুন একটি শক্তিশালী অ্যান্টি-ভাইরাল, অ্যান্টি-ফাঙ্গাল এজেন্ট এবং এটি কাঁচা খাওয়া বা আপনার সাধারণ খাবারের পাশাপাশি এটি রান্না করেও খেতে পারেন। সব ভাইরাস নির্মূল হয়ে যাবে।

৮) বিটা গ্লুকান

এটি একটি দ্রবণীয় ফাইবার, ইস্ট থেকে পাওয়া যায়। এটি আপনার রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাটিকে ইতিবাচকভাবে উদ্দীপিত করতে পারে। হাঁপানি, অ্যালার্জি, ক্রোনিক রোগের মতো অসুস্থতাগুলির বিরুদ্ধে এটি শক্তিশালী লড়াই করে। তবে কিছু গবেষণায় দেখা গেছে যে বিটা গ্লুকান রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা উন্নত করতে পারে।

৯) মাশরুম

মাশরুমে প্রায় ৪০০ প্রজাতির ছত্রাক রয়েছে যা এগুলোর ঔষধী গুণাবলী দ্বারা চিহ্নিত হয়েছে। এছাড়া মাশরুমে অনেক অ্যান্টিভাইরাল, অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল বা অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি গুণ রয়েছে। মাশরুমগুলিতে বিটা গ্লুকান বেশি রয়েছে - আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে উন্নত করতে এটা প্রাকৃতিকভাবে সাহায্য করে। এটি নিশ্চিত যে মাশরুম ভাইরসের সংক্রমণের বিরুদ্ধেও কার্যকরি।

১০) কালমেঘ

কালমেঘ গ্রিন চিরোতা বা ইন্ডিয়ান ইচিনেসিয়া নামেও পরিচিত। চিরতা হল একটি এন্টি-ইনফ্ল্যামেটরি ভেষজ যা দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ,ভারতে  এবং শ্রীলঙ্কায় পাওয়া যায়। অ্যান্টিবডিগুলির উৎপাদন বৃদ্ধি করতে এবং সংক্রমণের তীব্রতা কমাতে ঐতিহ্যগতভাবে আয়ুর্বেদিক ওষুধ হিসেবে চিরতার ব্যবহৃত হয়। চিরতায় এমন কিছু যৌগ রয়েছে যা ভাইরাসের মতো আক্রমণকারীদের বিরুদ্ধে কার্যকরভাবে লড়াই করার জন্য প্রতিরোধ ব্যবস্থা জোর করে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা