kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৬ আশ্বিন ১৪২৭ । ১ অক্টোবর ২০২০। ১৩ সফর ১৪৪২

বাংলা ভাষার শব্দসম্ভার

শরীফুল ইসলাম শরীফ   

১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০৮:৩৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বাংলা ভাষার শব্দসম্ভার

বাংলায় রয়েছে বৈচিত্র্যময় শব্দ, যা বাংলা ভাষাকে সমৃদ্ধ করেছে। শব্দগুলো আমরা প্রতিনিয়তই ব্যবহার করে থাকি। আজ বাংলা ভাষার শব্দসম্ভার সম্পর্কে আলোকপাত করা হলো। এগুলোর উৎস ও ইতিহাস জেনে রাখলে তোমরা উপকৃত হবে।

অর্থবিশিষ্ট ধ্বনি বা ধ্বনি সমষ্টিকে শব্দ বলে। কোনো ভাষার প্রধান সম্পদ হচ্ছে তার শব্দসম্ভার। যে ভাষার শব্দসম্ভার যত সমৃদ্ধ সে ভাষা তত উন্নত। বাংলা ভাষায় অজস্র শব্দ রয়েছে। বর্তমানে বাংলা ভাষায় যে শব্দসম্ভার ব্যবহৃত হয়, তা বহুদিন ধরে দেশি-বিদেশি অগণিত শব্দের সমাবেশে সমৃদ্ধ হয়ে উঠেছে। ব্যবসা-বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে যুগ যুগ ধরে আমাদের দেশে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে নানা ধরনের লোকের সমাবেশ ঘটেছে। তাদের অনেকেই এ দেশে থেকেও গিয়েছে। কালক্রমে তাদের ভাষার অনেক শব্দ আমাদের ভাষায় অপরিবর্তিত অথবা পরিবর্তিত আকারে প্রবেশ করেছে। এভাবে যুগ যুগ ধরে বাংলা ভাষার শব্দসম্ভার গড়ে উঠেছে। বাংলা ভাষার যে শব্দসম্ভারের সমাবেশ ঘটেছে, সেগুলোকে পণ্ডিতরা নিম্নলিখিত পাঁচ ভাগে ভাগ করেছেন। নিচে তা তুলে ধলা হলো।

তৎসম শব্দ : যেসব শব্দ সংস্কৃত ভাষা থেকে সোজাসুজি বাংলায় এসেছে এবং যাদের রূপ অপরিবর্তিত রয়েছে, সেসব শব্দকে বলা হয় তৎসম শব্দ। উদাহরণ—চন্দ্র, সূর্য, নক্ষত্র, ভবন, ধর্ম, পাত্র, মনুষ্য ইত্যাদি।

তদ্ভব শব্দ : যেসব শব্দের মূল সংস্কৃত ভাষায় পাওয়া যায়, কিন্তু ভাষার স্বাভাবিক বিবর্তন ধারায় প্রাকৃতের মাধ্যমে পরিবর্তিত হয়ে আধুনিক বাংলা ভাষায় স্থান করে নিয়েছে, সেসব শব্দকে বলা হয় তদ্ভব শব্দ। উদাহরণ—হাত, চাঁদ, আজ, চামার।

অর্ধতৎসম শব্দ : বাংলা ভাষায় কিছু সংস্কৃত শব্দ কিঞ্চিৎ পরিবর্তিত আকারে ব্যবহৃত হয়। এগুলোকে বলে অর্ধতৎসম শব্দ। তৎসম মানে সংস্কৃত। আর অর্ধতৎসম মানে আধা সংস্কৃত। উদাহরণ—জোছনা, ছেরাদ্দ, গিন্নী, বোষ্টম, কুচ্ছিত ইত্যাদি।

দেশি শব্দ : বাংলাদেশের আদিম অধিবাসীদের ভাষা ও সংস্কৃতির কিছু কিছু উপাদান বাংলায় রক্ষিত হয়েছে। এসব শব্দকে দেশি শব্দ নামে অভিহিত করা হয়। উদাহরণ—কুলা, গঞ্জ, চোঙ্গা, টোপর, ডাব, ডাগর, ঢেঁকি ইত্যাদি।

বিদেশি শব্দ : রাজনৈতিক, ধর্মীয়, সংস্কৃতিগত ও বাণিজ্যিক কারণে বাংলাদেশে আসা বিভিন্ন ভাষাভাষী মানুষের বহু শব্দ বাংলায় এসে স্থান করে নিয়েছে। এসব শব্দকে বলা হয় বিদেশি শব্দ। এসব বিদেশি শব্দের মধ্যে আরবি, ফারসি ও ইংরেজি শব্দই বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এ ছাড়া পর্তুগিজ, ফরাসি, ওলন্দাজ, তুর্কি, ভারত, মিয়ানমার, মালয়, চীন, জাপান প্রভৃতি দেশেরও কিছু শব্দ আমাদের ভাষায় প্রচলিত রয়েছে। উদাহরণ—আল্লাহ, ইসলাম, কিতাব (আরবি), খোদা, পয়গম্বর, কারখানা (ফারসি), ইউনিভার্সিটি, নভেল, লাইব্রেরি (ইংরেজি), আনারস, আলপিন, বালতি (পর্তুগিজ), কার্তুজ, কুপন, রেস্তোরাঁ (ফরাসি), ইস্কাপন, তুরুপ (ওলন্দাজ), খদ্দর, হরতাল (গুজরাটি), চাকর, চাকু, দারোগা (তুর্কি), চা, চিনি (চীনা), ফুঙ্গি, লুঙ্গি (মিয়ানমার), রিকশা (জাপানি) ইত্যাদি।

সিনিয়র শিক্ষক (বাংলা) আদমজী ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল, ঢাকা

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা