kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ১৯ চৈত্র ১৪২৬। ২ এপ্রিল ২০২০। ৭ শাবান ১৪৪১

যে কাজে আনন্দ নেই

মোস্তফা কামাল   

৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ১১:১৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



যে কাজে আনন্দ নেই

তরুণদের স্বপ্ন দেখাতে এবং সফল হওয়ার কলাকৌশল শেখাতে কালের কণ্ঠের অনলাইনে শুরু হয়েছে নতুন ধারাবাহিক আয়োজন ‘আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন দেখো।’ সাহিত্যিক ও সাংবাদিক মোস্তফা কামাল নিয়মিত লিখছেন। স্বপ্ন দেখাবেন তরুণদের। স্বপ্ন আর আশাজাগানিয়া লেখা পড়ুন কালের কণ্ঠ অনলাইনে।

আমাদের সবার একটি কথা মনে রাখতে হবে, যে কাজে আনন্দ নেই সে কাজ কোনো ভালো ফল দেয় না। কাজ করতে হবে আনন্দের সঙ্গে। তাহলেই ভালো ফল পাওয়া যাবে। কিন্তু কাজে আনন্দ আসবে কিভাবে? আমরা ভাবি, কাজ মানেই কষ্ট! এতে আবার আনন্দ কিসের? আনন্দ আছে এবং তা খুঁজে নিতে হয়। 

আপনি যখন কাজটাকে ভালোবাসবেন তখনই আপনার কাজে আনন্দ আসবে। আপনি কাজকে ফাঁকি দিলে, কাজ আপনাকে ফাঁকি দেবে। আপনি কাজকে ভালোবাসলে কাজও আপনাকে তার প্রতিদান দেবে। 

আমরা অনেকেই কাজ করি। কিন্তু সেই কাজের প্রতি আমাদের আবেগ নেই, ভালোবাসা নেই, দরদ নেই, সহানুভূতিও নেই। তাহলে কাজ কেন প্রতিদান দেবে? প্রতিদান পেতে চাইলে তো দরদ দিয়ে কাজটা করতে হবে। 

আপনি কি একবারও ভেবেছেন, কাজটা কেন আপনার কাছে আনন্দময় ওঠে না; বা আনন্দ নিয়ে আপনি কেন কাজটা করতে পারছেন না? একটু খতিয়ে দেখুন তো গলদটা কোথায়? 

ধারণা করছি, আপনার কাছে হয়তো কাজটা পছন্দ নয়, তারপরও আপনি বাধ্য হয়ে করছেন। এটা একদমই ঠিক না। মনের ওপর জোর খাটিয়ে কোনো কাজই করা ঠিক না। আপনার যে কাজে আনন্দ, যে কাজ করতে আপনি সবচেয়ে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন, সেই কাজটাই আপনি করুন। 

আমরা অভিভাবকরা অনেক সময় সন্তানদের ওপর আমাদের নিজেদের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিই। আমরা বলি, তোমাকে ডাক্তার হতে হবে, ইঞ্জিনিয়ার হতে হবে। পাইলট হতে হবে। এর কোনোটিই হয়তো আপনার সন্তান হতে চায় না। সে হয়তো লেখক হতে চায়। 

আপনি বললেন, না। কিছুতেই না। আর যা-ই হতে চাও হতে পারো। লেখক হতে পারবে না। আপনি জোর করেই হয়তো সন্তানকে মেডিক্যালে কিংবা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ভর্তি করিয়ে দিলেন। শেষ পর্যন্ত দেখা গেলো, আপনার সন্তান লেখাপড়াই শেষ করতে পারল না। 

ব্যবসা বা চাকরির ক্ষেত্রেও তাই। কোন ব্যবসায় আপনার বেশি ভালো লাগে সেটা আগে ভাবুন। যে ব্যবসায় আপনি সবচেয়ে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন সেটাই আপনি করুন। অন্য কিছু চেষ্টা করতে যাওয়াও সময়ের অপচয়। তবে জীবনের কোনো অভিজ্ঞতাই ফেলা যায় না। অভিজ্ঞতা চলার পথে সঙ্গীর মতো কাজ করে। তারপরও বলব, যে ব্যবসা আপনার পছন্দ নয় সেটা না করাই ভালো। 

চাকরির ক্ষেত্রে একই কথা বলব। আপনার হয়তো ব্যাংকিংয়ের চাকরি ভালো লাগে। আপনি সেই চাকরি না পেয়ে হয়তো সাংবাদিকতা শুরু করলেন। এই চাকরিতে আপনার মন বসছে না। নিজেকে খাপ খাওয়াতেও পারছেন না। তারপরও করছেন। আপনি দেখবেন, আপনি ভালো ফল পাবেন না। 

কাজেই আপনাকে সেই কাজটাই করতে হবে যেটি আপনি পছন্দ করেন। যে কাজে আপনার মন-প্রাণ ডুবে থাকবে। সেই কাজেই আপনি আপনার সম্পূর্ণটা ঢেলে দেবেন। তখন আপনি দেখবেন, কাজ আপনাকে অনেক অপ্রত্যাশিত প্রতিদান দিচ্ছে। সেটা পেয়ে আপনি আরো বেশি মনোযোগী হবেন। কাজ এবং সফলতা একসঙ্গে গলাগলি করে হাঁটবে। আপনি ভীষণ আনন্দ নিয়ে কাজটি করবেন। 

লেখক : ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক, কালের কণ্ঠ ও সাহিত্যিক 

পড়ুন আগের কিস্তি...
কাজের লোকদের হাজার বিকল্প
 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা