kalerkantho

সোমবার। ২৭ জানুয়ারি ২০২০। ১৩ মাঘ ১৪২৬। ৩০ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

হতে হবে স্বপ্নবাজ

মোস্তফা কামাল    

৮ ডিসেম্বর, ২০১৯ ১০:২১ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



হতে হবে স্বপ্নবাজ

তরুণদের স্বপ্ন দেখাতে এবং সফল হওয়ার কলাকৌশল শেখাতে কালের কণ্ঠের অনলাইনে শুরু হয়েছে নতুন ধারাবাহিক আয়োজন ‘আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন দেখো।’ সাহিত্যিক ও সাংবাদিক মোস্তফা কামাল নিয়মিত লিখছেন। স্বপ্ন দেখাবেন তরুণদের। স্বপ্ন আর আশাজাগানিয়া লেখা পড়ুন কালের কণ্ঠ অনলাইনে।

লেখার শুরুতেই নিজের কথা বলছি। আমি নিজেও একজন স্বপ্নবাজ মানুষ। ছোটবেলা থেকেই আমি অনেক বড় স্বপ্ন দেখেছি। বড় লেখক-সাংবাদিক হওয়ার স্বপ্ন দেখতাম সেই ছোট্ট সময় থেকে। স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে আমি বিরামহীন পরিশ্রম করেছি। অনেক কষ্ট স্বীকার করেছি। সীমাহীন ধৈর্য ধারণ করেছি। কখনো মানুষের প্রতিহিংসার শিকার হয়েছি। কিন্তু সব সময়ই নিজের ওপর আস্থা ছিল। সব সময়ই বলতাম, আমি অনেক বড় হবো। কেউ আমাকে দমিয়ে রাখতে পারবে না। 

আমার ভেতরে প্রবল মানসিক শক্তি। এতো শক্তি কোথা থেকে আসছে তা আমি জানি না। হয়তো বড় স্বপ্ন দেখি বলেই মানসিক শক্তি তৈরি হয়। অনেকে মানসিক শক্তি বাড়ানোর জন্য মেডিটেশন করে। কিন্তু আমার মেডিটেশনের প্রয়োজন হয় না। আমি আমাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারি। আমি জানি আমার সীমা। কোথায় গিয়ে থামতে হবে, কোথায় দৌড়াতে হবে আর কোথায় হাঁটতে হবে তাও ভালো করেই জানি। 

আমার এসব কথা শুনে কেউ কেউ ভাবতে পারেন, আমি বাড়িয়ে বলছি। বিশ্বাস করুন, আমি নিজের জীবন নিয়ে কখনো মিথ্যা বলি না। আমার নীতি হচ্ছে, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করা। যে কাজে সততা ও নিষ্ঠা নেই সেই কাজে সফলতা আসে না। এটা আমার বিশ্বাস। এই বিশ্বাস আমার ভেতরে সঞ্চারিত করেছেন আমার মা বাবা। তারা সব সময় বলেন, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করো, জীবনে সফলতা আসবেই।  

দেশের দক্ষিণাঞ্চলের একটি পশ্চাদপদ গ্রাম থেকে কোনো দিন ঢাকা শহরে আসতে পারবো কিনা তাও কল্পনাতীত ব্যাপার ছিল। আমি বাড়ির পাশের প্রাইমারি স্কুলে ক্লাশ ওয়ানে ভর্তি হয়েই আমি সিদ্ধান্ত নিলাম, এই ছোট স্কুলে আমি পড়ব না। বড় স্কুলে পড়ব। আমি চলে গেলাম, থানা সদরের প্রাইমারি স্কুলে। যার দূরত্ব প্রায় তিন মাইল। প্রতিদিন হেঁটে যেতে হতো। ওই স্কুলে গিয়ে দেখলাম, যারা ফার্স্ট সেকেন্ড হয় তাদের প্রতি স্যারদের আলাদা নজর। আমিও সংকল্প করলাম, আমাকে ফার্স্ট হতে হবে। আমি লেখাপড়ায় সিরিয়াস হলাম এবং সত্যি সত্যিই ফার্স্ট হলাম। এতে সবার নজরে পড়ে গেলাম। স্কুলে দশটি বছর যে কীভাবে কেটে গেলো!

তারপর রাজধানী ঢাকায় চলে এলাম। এসেই পড়লাম মহাবিপদে। বাবার পক্ষে আমার লেখাপড়ার খরচ দেয়া সম্ভব হলো না। কোনো আত্মীয়-স্বজনের সহায়তাও পেলাম না। তারপরও মনোবল হারালাম না। শুরু হলো জীবন সংগাম। থাকা-খাওয়ার খরচ জোগানোর জন্য ছাত্র পড়াই। তারপর নিজে পড়ি। লেখাপড়ার ফাঁকে ফাঁকে পত্রিকায় টুকটাক কাজও করি। কবিতা, গল্প লিখি। মনে মনে স্বপ্ন বুনি, লেখক-সাংবাদিক হবো। লেখাপড়া শেষ করার আগেই চাকরিতে ঢুকলাম। শিক্ষানবীশ প্রতিবেদক। অল্প বেতন। নিজের খরচ চলে এই যা! 

ধীরে ধীরে পরিচিতি বাড়তে থাকল। হঠাৎ একটা অফার এলো, দৈনিক কাগজে কাজ করার। যোগ দেবো কী দেবো না, দ্বিধাদ্বন্দ্বের এক পর্যায়ে যোগ দিলাম সংবাদে। ওখানে কাজ করে আমার অনেক দরজা উন্মুক্ত হয়ে গেলো। একের পর এক স্বপ্নের সিঁড়ি ভাঙতে থাকলাম। প্রতিটি ধাপে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা সঞ্চার করে করে আমি এগোতে থাকলাম। এর মধ্যে অনেকের রোসানলে পড়তে হয়েছে। প্রতিহিংসার আগুনে পুড়তে হয়েছে। অনেক চোখের জল ফেলেছি। কিন্তু আমি কোনো অবস্থাতেই ধৈর্য হারাইনি। কষ্টের কথাগুলো কাউকে বলতে পারিনি। অনেক সময় নিজেকেই নিজে সান্ত্বনা দিয়েছি। সব সময় বলেছি, রাতেই পরেই তো দিন আসে। আমার আজ হয়তো দুর্দিন। কাল নিশ্চয়ই সুদিন আসবে। সেজন্য অদম্য প্রচেষ্টা চালিয়ে গেছি।    

নিজের জীবন থেকে যে শিক্ষা পেয়েছি তাতে একথা নিশ্চিতভাবে বলতে পারি, কোনো স্বপ্নবাজ মানুষ কখনো ব্যর্থ হয় না। স্বপ্ন বুনতে বুনতেই সে বড় হয়। স্বপ্ন না দেখতে পারলে বড় হওয়া যায় না। এটাই ধ্রুব সত্য। 

লেখক : ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক, কালের কণ্ঠ ও সাহিত্যিক। 

পড়ুন আগের কিস্তি...
জীবন বদলে দেয়া কিছু কথা
 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা