kalerkantho

শনিবার । ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৯ রবিউস সানি ১৪৪১     

ধৈর্য ধারণ একটি মহৎ গুণ

মোস্তফা কামাল   

১০ নভেম্বর, ২০১৯ ০৯:৫৫ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ধৈর্য ধারণ একটি মহৎ গুণ

তরুণদের স্বপ্ন দেখাতে এবং সফল হওয়ার কলাকৌশল শেখাতে কালের কণ্ঠের অনলাইনে শুরু হয়েছে নতুন ধারাবাহিক আয়োজন ‘আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন দেখো।’ সাহিত্যিক ও সাংবাদিক মোস্তফা কামাল নিয়মিত লিখছেন। স্বপ্ন দেখাবেন তরুণদের। স্বপ্ন আর আশাজাগানিয়া লেখা পড়ুন কালের কণ্ঠ অনলাইনে।

কথায় আছে, সবুরে মেওয়া ফলে। মহান সৃষ্টিকর্তা নাকি সব সময় ধৈর্যশীলদের সঙ্গে থাকেন। যেকোনো জটিল পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হলে অসীম ধৈর্যের প্রয়োজন হয়। মাথা গরম করলে কিংবা ধৈর্য হারালে বিপদে পড়তে হয়। এ কথা হয়তো আমরা সবাই জানি। তারপরও ধৈর্য ধারণ করতে পারি না। অল্পতেই অধৈর্য হয়ে যাই। 

একটি কথা সবাইকে মনে রাখতে হবে, যা হাত বাড়ালেই পাওয়া যায় তাতে ভালো কিছু থাকে না। গলদ থাকার আশঙ্কাই বেশি থাকে। চেষ্টা করে করে যা অর্জন করা যায় তা অবশ্যই কল্যাণকর। যারা খুব দ্রুত সবকিছু পেয়ে যান তাদের দ্রুতই পতনের ঝুঁকিতে পড়তে হয়। যারা অনেক কষ্ট সাধন করে অর্জন করেন তারা অনেক দুর্যোগ দুর্বিপাকেও অটল থাকেন। 

ব্যবসায়ীদের মধ্যে কেউ কেউ হয়তো কোনো একটা খাতে বিনিয়োগ করেছেন। বিনিয়োগের পরই তিনি লাভ করতে চান। ব্যবসায় যে ঝুঁকি থাকতে পারে কিংবা লাভ পেতে হলে যে একটা সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয় তা তারা মানতে রাজি নন। তারা হয়তো একটা ব্যবসায় বিনিয়োগ করেছেন। দ্রুত লাভ না পেয়ে ওই ব্যবসা ছেড়ে আরেক ব্যবসায় বিনিয়োগ করেন। এভাবে একের পর এক ব্যবসা বদল করতে থাকেন। এটা ঠিক নয়। যেকোনো একটাকে ধরে রাখুন। ধৈর্য ধরুন। নিষ্ঠার সাথে কাজটা সম্পন্ন করুন। দেখবেন সফলতা আসবেই। 
দুর্নীতি, অন্যায় অনিয়ম করে যে কেউ দ্রুতই বিত্ত-বৈভবের মালিক হতে পারেন। কিন্তু মনে রাখতে হবে, যে গতিতে অর্থবিত্তের মালিক তিনি হয়েছেন তার চেয়ে দ্বিগুণ গতিতে পতন ঘটবে। এটাই প্রকৃতির বিধান। আর যিনি সততা ও কর্মনিষ্ঠা দিয়ে অর্থ-বিত্তের মালিক হবেন তার পতনের ঝুঁকি কম। 

আমরা অনেক সময়ই দেখি, কেউ কেউ চাকরি ক্ষেত্রে নানা কৌশল করে তর তর করে ওপরে উঠতে থাকেন। যখন ওপরে উঠেন তখন আর কোনো কিছু পরোয়া করেন না। হিতাহিত জ্ঞানও তাদের লোপ পেয়ে যায়। তাদের যখন পতন ঘটে তখন আর তাদের পাশে কেউ দাঁড়ায় না। 

অনেকে আপসোস করেন, এখনো কিছু করতে পারলাম না। এখনো কিছুই হলো না। আবার অনেকে ভাগ্যকে দোষ দেন। কেউ যদি ভাগ্যকেও বিশ্বাস করেন তাহলে বলবো, ভাগ্যের চাকা ঘুরতে কিন্তু বেশি সময় লাগে না। আপনি ধৈর্য নিয়ে নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে কাজ করুন। অচিরেই দেখবেন, ভাগ্য আপনার দরজায় কড়া নাড়ছে। 

আসলে সবকিছুর মূল হচ্ছে কাজ। কর্মনিষ্ঠা ছাড়া কেউই উন্নতি সাধন করতে পারে না। আর তর তর করে উন্নতি করলে বেশিদিন টিকে থাকা যায় না। একটা ইমারত যখন নির্মাণ করা হয় তখন ইটের পর ইট গেঁথেই কিন্তু তা নির্মিত হয়। 

জীবনটাও একটা ইমারতের মতো। একে পরম যত্নে লালন করতে হয়। স্বপ্ন বুনতে বুনতে এগোতে হয়। জীবনের এই দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় অনেক ঘাত-প্রতিঘাত সহ্য করতে হয়। অনেক সময় পা পিছলে আছড়ে পড়তে হয়। হোঁচট খেয়ে পা মচকেও যেতে পারে। তাই বলে কি জীবন থেমে থাকে? 

সবসময় হয়তো জীবনকে সমানভাবে টেনে নেওয়া যায় না। উত্থান-পতন থাকে। শারীরিক ও মানসিক নিপীড়ন থাকে। সেসব পরিস্থিতি ধৈর্যের সঙ্গে মোকাবেলা করতে হয়। অনেক চড়াই-উৎরাই পার হয়ে অভিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে হয়। এই যে দীর্ঘ পথচলায় জটিল-কুটিল পথ পাড়ি দিতে অনেক ধৈর্য ধারণ করতে হয়। অধৈর্য হয়ে গেলে কিন্তু দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়া সম্ভব হয় না। কাজেই ধৈর্য ধারণ করাই উত্তম।    

লেখক : ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক, কালের কণ্ঠ ও সাহিত্যিক।   

পড়ুন আগের কিস্তি...
মানুষ বাঁচে তার কর্মের গুণে
 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা