kalerkantho

বুধবার । ২৩ অক্টোবর ২০১৯। ৭ কাতির্ক ১৪২৬। ২৩ সফর ১৪৪১                 

বিনা রক্তপাতে বেরিয়াট্রিক সার্জারি, নিরাপদ থাকবে হার্ট

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ১৬:৩৮ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বিনা রক্তপাতে বেরিয়াট্রিক সার্জারি, নিরাপদ থাকবে হার্ট

প্রতীকী ছবি

হার্টের সমস্যায় মানুষের মৃত‌্যুর হার অনেক বেশি। তবে অনেকে মনে করেন, হার্ট অ‌্যাটাক বা হার্টের অন‌্যান‌্য সমস্যা পুরুষের বেশি হয় এবং নারীদের কম হয়। এ ধারণা একেবারেই ভুল। 

বিপদ আসলে যে কারো আসতে পারে। হার্টের সমস্যার কারণ খুঁজতে গিয়ে চিকিৎসকরা সবচেয়ে বেশি দেখেছেন স্থূলতা। খাদ‌্যাভ‌্যাসের কারণে এ সমস্যা হয়ে থাকে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাস্তায় তৈরি খাবারের ওপর আসক্তির পাশাপাশি শারীরিক পরিশ্রম কম করা ও মানসিক চাপের কারণে ঘুম কম হওয়ার জন‌্য বেশিরভাগ মানুষই অতিরিক্ত মোটা হয়ে যাচ্ছেন। শরীরের অতিরিক্ত মেদের কারণে হার্টের সমস্যা হয়।

কারণ বেশি মোটা হলে রক্তচাপ, রক্তে চিনি ও শর্করার মাত্রা বেড়ে যায়। আর এগুলো বাড়লে তার ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে হার্টে। স্থুলতার কারণে আমাদের দেশে হার্টের অসুখে আক্রান্তদের সংখ‌্যা এক লাফে অনেকটা বেড়ে গেছে। 

সে কারণে হার্ট সবল রাখতে দ্রুত জীবনযাপন পরিবর্তন করে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি। প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই দুয়েকজন করে হার্টের অসুখের রোগী আছে। এটা কিন্তু বিপদসঙ্কেত। 

সুস্থ পরিবার, সুস্থ সমাজ গড়ে তুলতে সবারই উচিত হার্টের যত্ন নেওয়া। এজন‌্য‌ প্রথমে খেয়াল রাখতে হবে ওজন যেন মাত্রাতিরিক্ত না বেড়ে যায়।

ওজন যেভাবে কমাবেন

রোগীর শারীরিক অবস্থা কতটা জটিল, তার ওপর নির্ভর করছে স্থুলতার ট্রিটমেন্ট। ওষুধ দিয়ে বা জীবনযাপনে পরির্তন করেও স্থুলতা নিয়ন্ত্রণ করা যায়। স্থুল রোগীদের প্রায় সকলেরই ডায়াবেটিস থাকে। সে কারণে এগুলোর নিয়ন্ত্রণের জন‌্য ওষুধ খাওয়ার পাশাপাশি মেদ কমানোরও ওষুধ দেওয়া হয়। 

সেই সঙ্গে খাওয়াদাওয়ার অভ‌্যাস পরিবর্তন করে ডায়েট মেনে চলার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। অতিরিক্ত খেতে নিষেধ করা হয়। এই সব কিছু পালন করেও স্থুর হওয়া থেকে বাঁচা যায়। 

তবে তাতেও সুস্থ না হলে অতিরিক্ত মোটাদের হার্টের অসুখ এড়ানোর উপায় আধুনিক চিকিৎসাশাস্ত্রে আছে। রোগীরা নিশ্চিন্তে বেরিয়াট্রিক সার্জারি করিয়ে কয়েক মাসের মধ‌্যে ওজন কমিয়ে ফেলতে পারেন। একদম আগের মতো ফিট হয়ে ঝরঝরে শরীর ফিরে পাওয়া যায়।

বেরিয়াট্রিকে রোগা হয়ে সচল রাখুন জীবন

ওজন যদি একশ কেজি কিংবা নব্বই হয়ে যায়, সে ক্ষেত্রে ওষুধ খেয়ে, জীবনধারা পরিবর্তন করেও কিছুতেই পর্যাপ্ত ওজন কমাতে না পারেন; তার পরেও চিন্তা করবেন না। 

এক্ষেত্রে ওজন কমানোর সবচেয়ে ভালো উপায় বেরিয়াট্রিক সার্জারি। কোনোরকম পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই এই ল‌্যাপারোস্কোপিক অপারেশন করে মেদ কমে যায় স্বল্প সময়ে। বিনা রক্তপাতে এই সার্জারি করে ‘ফ‌্যাট টু ফিট’ হতে বেশি সময়ও লাগে না। আর কিছু নিয়ম মেনে চললে এই নতুন ওজন আর অস্বাভাবিকভাবে বাড়েও না। 

অনেক মোটা ব্যক্তির শরীরে উপচে পড়া মেদের কারণে আরো নানা রকম অসুখ থাকে। সেজন‌্য তারা শরীরচর্চা করে রোগা হতে পারেন না। আবার অনেকে বয়স বেড়ে যাওয়ায় বেশি কায়িক পরিশ্রম করে ওজন ঝরাতে পারেন না। সে ক্ষেত্রে তাদের জন‌্য ভালো ব্যাপার বেরিয়াট্রিক সার্জারি। 

এছাড়া যাদের স্থুলতার কারণে হার্টে প্রভাব পড়তে শুরু করেছে, তাদের দ্রুত সুস্থ করতে বেরিয়াট্রিক করানোই ভালো। সার্জারির পরে ৮০ শতাংশ ডায়াবেটিস রোগী সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে যান। কোলেস্টেরলের মাত্রাও নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। ফলে হার্টের অসুখের ঝুঁকি অনেক কমে যায়। ওজন কমে যাওয়ায় রোগী আগের চেয়ে বেশি শারীরিক পরিশ্রম করেত পারেন। যার ফলে হার্টও ভালো থাকে। চিকিৎসকরা বলছেন, এতে করে আয়ুও বাড়ে।

চিকিৎসকরা আরো বলছেন, মোটা হওয়ার কারণে যে সব নারীর বন্ধ‌্য‌াত্বের সমস‌্যা দেখা দেয়, তারাও এই সার্জারি করে ওজন কমিয়ে সহজে মা হতে পারেন। এছাড়া লিভারের অসুখ, ডায়াবেটিসের কারণে কিডনির অসুখ থাকলেও বেরিয়াট্রিক করিয়ে দ্রুত সুস্থ হওয়া সম্ভব। 

চিকিৎসায় বিশেষজ্ঞ টিম 

অনেক মোটা হয়ে যাওয়ার পিছনে অনেকগুলো কারণ থাকে। তাই হার্ট ব্লক, হার্ট অ‌্যাটাক, হার্ট ফেলিওরের মতো অসুখ দেখা দিলে বা প্রবণতা থাকলে আগে ওজন কমাতে হবে। কোনো একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ওবেসিটির সব চিকিৎসা করেন না। এই ট্রিটমেন্টের জন‌্য ডায়াটিশিয়ান, ফিটনেস ট্রেনার বা যোগ-শিক্ষকের সাহায‌্য যেমন দরকার, তেমনই হরমোনের ভারসাম‌্য ঠিক রাখতে প্রয়োজন বিশেষজ্ঞ এন্ডোক্রিনোলজিস্ট, মনোবিদ ও বেরিয়াট্রিক সার্জনের।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা