kalerkantho

বুধবার । ২৩ অক্টোবর ২০১৯। ৭ কাতির্ক ১৪২৬। ২৩ সফর ১৪৪১                 

হতাশায় যেন পেয়ে না বসে

মোস্তফা কামাল   

২৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ১৪:৩৯ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



হতাশায় যেন পেয়ে না বসে

তরুণদের স্বপ্ন দেখাতে এবং সফল হওয়ার কলাকৌশল শেখাতে কালের কণ্ঠের অনলাইনে শুরু হয়েছে নতুন ধারাবাহিক আয়োজন ‘আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন দেখো।’ সাহিত্যিক ও সাংবাদিক মোস্তফা কামাল নিয়মিত লিখছেন। স্বপ্ন দেখাবেন তরুণদের। স্বপ্ন আর আশাজাগানিয়া লেখা পড়ুন কালের কণ্ঠ অনলাইনে।

হতাশা একটা মানসিক রোগ। এটা যেকোনো প্রাণঘাতী রোগের মতোই ভয়াবহ। হতাশা যাকে গ্রাস করে তাকে নিঃশেষ করে দিতে পারে। ভাইরাসের মতো এটি একজনের কাছ থেকে আরেকজনের মধ্যে ছড়াতে পারে। এর নেতিবাচক প্রভাবে আশপাশের লোকজনও আক্রান্ত হতে পারে। 

আমরা অনেক সময় দেখি, পরীক্ষায় রেজাল্ট ভালো না করায় ছেলে-মেয়েরা আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। কেন তারা আত্মহত্যা করে? কারো ওপর রাগ করে? নিশ্চয়ই নয়। পাস না করার লজ্জা, হতাশা থেকে আত্মহত্যা করে। অনেকে চাকরি না পেলে হতাশায় ভেঙে পড়ে। অনেক সময় আত্মহত্যা পর্যন্ত করে। আবার অনেকে পারিবারিক চাপ সহ্য করতে না পেরেও আত্মহত্যা করে। হতাশা এমনভাবে তাদের পেয়ে বসে যে, তারা আত্মহত্যা ছাড়া বিকল্প কোনো পথ খুঁজে পায় না। 

আত্মহত্যাই কি এসব সমস্যার একমাত্র সমাধান? নিশ্চয়ই তা নয়। তাহলে কেন আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে হবে? কেন নিজেকে শেষ করে দিতে হবে? কেন হতাশা গ্রাস করবে? 

সংকট যত কঠিনই হোক, তার সমাধান অবশ্যই আছে। সংকটে পড়লেই হতাশায় কাতর হতে হবে কেন?  সংকট মোকাবেলার জন্য পথ খুঁজতে হবে। ধৈর্য ধরতে হবে। সংকটে পড়লে মাথা গরম না করে ঠাণ্ডা মাথায় চিন্তা করতে হবে। কী করে সমাধান বের করা যায় তা নিয়ে ভাবতে হবে। 

একটি কথা মনে রাখতে হবে, হতাশা জিইয়ে রাখলে হতাশা বাড়ে। হতাশায় পেয়ে বসার আগেই ঝেড়ে ফেলতে হবে। এক্ষেত্রে মা-বাবা, ভাইবোন কিংবা নিকটাত্মীয়দের কারো সঙ্গে হতাশার বিষয়টি শেয়ার করা যায়। যে সমস্যায় আপনি ভারাক্রান্ত তা সমাধানের বিষয়ে পরামর্শ চাওয়া যেতে পারে। আবার মনের দুঃখ-কষ্ট শেয়ার করলেও অনেক সময় হালকা হওয়া যায়। 

শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনেকেই রেজাল্ট খারাপ হলেই হতাশায় ভেঙে পড়ে। তখন তারা লেখাপড়ায় আরো বেশি অনমনোযোগী হয়। এতে ফল আরো খারাপ হয়। যেকোনো পরীক্ষায় ভালো-মন্দ থাকবে। সব সময়ই যে একরকম ভালো হবে তা নয়। কখনো কখনো খারাপ হতেই পারে। সেজন্য ভেঙে পড়লে চলবে না। রেজাল্ট খারাপ হলে লেখাপড়ায় মনোযোগ আরো বাড়াতে হবে। লেখাপড়ার প্রতি আরো বেশি যত্নবান হতে হবে। 

অনেকে লেখাপড়া শেষ করে চাকরির জন্য ঘুরছেন। পাচ্ছেন না। তারা হতাশায় ভোগেন। আমরা তো সবাই জানি, এখন প্রতিযোগিতার বাজার। সব ক্ষেত্রেই ব্যাপক প্রতিযোগিতা। শুধু পাঠ্যবই পড়ে লেখাপড়া শেষ করলেই হবে না। 

বিজ্ঞজনরা বলেন না পুঁথিগত বিদ্যা আর পরহস্ত ধন, নহে বিদ্যা নহে ধন হলে প্রয়োজন। এখনকার চাকরির বাজার অনেক কঠিন। ছাত্রজীবন থেকেই চাকরির বাজারের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করতে হবে। নিয়মিত পত্রিকা পড়তে হবে। সৃজনশীল বই পড়তে হবে। বিশ্ব সম্পর্কে ভালো ধারনা না থাকলে প্রতিযোগিতায় টেকা যাবে না। 

অনেক দরিদ্র পরিবারের সন্তান কষ্ট করে লেখাপড়া করে। কিন্তু লেখাপড়া শেষ করে যে চাকরি পাবে তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। হয়তো তার পরিবারের সদস্যরা বড় ছেলে বা মেয়ের দিকে তাকিয়ে আছে। চাকরি হলে তাদের পরিবারে কিছুটা স্বচ্ছলতা আসবে। অথচ চাকরি পাচ্ছে না। তারা বেশি হতাশায় ভোগে। হতাশ না হয়ে মনোবল শক্ত করে চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। হতাশায় পেয়ে বসলে জীবন দুর্বিসহ হয়ে উঠবে। কাজেই যে কোনো পরিস্থিতিতে আশা জাগিয়ে রাখতে হবে। 

লেখক : সাহিত্যিক ও ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক, কালের কণ্ঠ। 

পড়ুন আগের কিস্তি...

চেষ্টা করলে কী না হয়!

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা