kalerkantho

হৃদরোগ নির্ণয়ের সহজ ও সাশ্রয়ী পদ্ধতি ‘রেডিয়াল এনজিওগ্রাম’

আতাউর রহমান কাবুল   

২৩ আগস্ট, ২০১৯ ১৮:০৬ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



হৃদরোগ নির্ণয়ের সহজ ও সাশ্রয়ী পদ্ধতি ‘রেডিয়াল এনজিওগ্রাম’

করোনারি বা হার্টের রক্তনালির রোগ নির্ণয় করতে বাংলাদেশে বেশির ভাগ এনজিওগ্রাম, স্ট্যান্টিং বা এনজিওপ্লাস্টি করা হয় পায়ের রক্তনালি দিয়ে। কিন্তু সারা বিশ্বেই জনপ্রিয় পদ্ধতি হলো ‘রেডিয়াল এনজিওগ্রাম’ যা হাতের কবজির সামান্য ওপরে ছোট ছিদ্র করে করা হয়। আমেরিকায় ৭০ ভাগ, যুক্তরাজ্যে ৯০ ভাগ, ইউরোপে ৬০-৭০ ভাগ এনজিওগ্রাম ও এনজিওপ্লাস্টি করা হয় রেডিয়াল পদ্ধতিতে। রেডিয়াল পদ্ধতি অনেক সহজ। এর মাধ্যমে সময় ও খরচ অনেক কম লাগে। হার্ট অ্যাটাকের পর রেডিয়াল এনজিওপ্লাস্টিতে মৃত্যুর হারও অনেক কম। ইউরোপিয়ান সোসাইটি অব কার্ডিওলজি (ইএসসি) হার্ট অ্যাটাকের রোগীদের প্রথম নির্দেশনা হিসেবে রেডিয়াল এনজিওপ্লাস্টির পরামর্শ দিয়েছেন। কিন্তু বাংলাদেশে এখনো রেডিয়াল এনজিওগ্রাম সেভাবে জনপ্রিয়তা পায়নি।
 
আজ শুক্রবার বাংলাদেশে রেডিয়াল এনজিওগ্রামকে জনপ্রিয় করতে বাংলাদেশ রেডিয়াল ইন্টারভেনশন কোসের্র (বিআরআইসি) আয়োজনে প্রথমবারের মতো দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বক্তারা এসব কথা বলেন। স্থানীয় এক হোটেলে আয়োজিত সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় অধ্যাপক ব্রিগডিয়ার (অব.) ডা. আব্দুল মালিক। বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. আসাদুল ইসলাম ও বাংলাদেশ সোসাইটি অব কার্ডিওলজির সভাপতি অধ্যাপক ডা. একেএম মহিবুল্লাহ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ রেডিয়াল ইন্টারভেনশন কোর্সের (বিআরআইসি) কোর্স ডিরেক্টর অধ্যাপক ডা. মীর জামাল উদ্দিন।
 
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, রেডিয়াল এনজিওগ্রামের জন্য মাত্র ৪ ঘণ্টা হাসপাতালে অবস্থান করতে হয়। এমনকি এনজিওপ্লাস্টি করে কোনো ক্ষেত্রে এক দিনেই রোগীকে বাড়িতে পাঠানো যায়। অল্প সময়ের মধ্যে রোগী দ্রুত চলাফেরা করতে পারেন, ওই হাত দিয়ে কাজ করতে পারেন। এতে বড় ধরনের রক্ত জমাট বাধা বা হেমাটোমা হওয়ার আশঙ্কাও থাকে না।
 
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, গত তিন বছর ধরে কব্জির নিচে ডিস্টাল রেডিয়াল আর্টারিতে এনজিওগ্রাম ও এনজিওপ্লাস্টি বাংলাদেশে শুরু করেন অধ্যাপক মীর জামালউদ্দিন। এতে প্রায় দুই হাজারের অধিক এনজিওগ্রাম ও এনজিওপ্লাস্টি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
 
প্রথমবারের মতো আয়োজিত এই সম্মেলনের বিভিন্ন পর্বে আমেরিকা, যুক্তরাষ্ট্র, মালয়েশিয়া, চীন, ভারত ও বাংলাদেশের প্রখ্যাত ইন্টারভেনশাল কার্ডিওলজিস্টগণ জটিল পিসিআই লাইভ কেস পরিচালনাসহ বিভিন্ন টেকনিক্যাল সেশন পরিচালনা করেন। এতে সাতশতাধিক বাংলাদেশি হৃদরোগ বিষয়ক চিকিৎসকগণ অংশগ্রহণ করেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা